বাগেরহাটের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী রাজিব সরদার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। টাকার অভাবে তার চিকিৎসা কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। রাজিব সরদার বাগেরহাট সদর উপজেলার মুনিগঞ্জ এলাকার রিকশাচালক নুর ইসলাম সরদারের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অবস্থায় ধারদেনা করে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় করে রাজিবের চিকিৎসা শুরু করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে তার আরও কয়েক দফা কেমোথেরাপি প্রয়োজন। যার জন্য প্রায় ৫ লাখ টাকা দরকার। কিন্তু দরিদ্র পরিবারটি এত বিপুল অর্থের সংস্থান করতে পারছে না।
প্রতিবেশী আব্দুল্লাহ বনি বলেন, ‘রাজিব খুবই ভদ্র, শান্ত ও পরিশ্রমী ছেলে। ছোটবেলা থেকেই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, কিন্তু কখনো নিজের অবস্থাকে দুর্বলতা হিসেবে নেয়নি। সবসময় সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করত। এখন ওর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে কষ্ট পেতে দেখা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সমাজের সবাই যদি একটু সহায়তার হাত বাড়ায়, তাহলে হয়তো ওকে আবার আগের মতো হাসতে দেখব।’
রাজিবের ভাড়া বাড়ির মালিক এইচ এম বজলুর রহমান বলেন, ‘রাজিবের বাবা একজন দিনমজুর। অতিকষ্টে সংসার চালান। রাজিব এখন মারাত্মক অসুস্থ, কিন্তু চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই। সমাজের দানশীল মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কেউ যদি সাহায্যের হাত না বাড়ান, তাহলে ছেলেটাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না।’
রাজিবের বাবা নুর ইসলাম সরদার বলেন, ‘ছেলেটাকে বাঁচাতে এখন সমাজের সহৃদয় মানুষের সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই।’ রাজিবের মা রওশনারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেটা জন্মগতভাবেই প্রতিবন্ধী। এখন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমার স্বামী একজন সাধারণ দিনমজুর। ভাড়া বাসার খরচই কষ্টে চালাই। ছেলের চিকিৎসা করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের দানশীল ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে আমি অনুরোধ করছি, আমার ছেলেটার চিকিৎসার জন্য দয়া করে সহযোগিতা করুন।’