চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘আশ্বাসে’ অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেছে বন্দর রক্ষা পরিষদ। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে বন্দর রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক হাসান মারুফ রুমী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) শ্রমিকদের স্বার্থহানি হয় এমন কিছু হবে না, বন্দর কর্তৃপক্ষের এমন আশ্বাসে আজকের সোমবারের কর্মসূচি দুই দিন (২৪ ও ২৫ নভেম্বর) স্থগিত করেছি।
বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য ও বন্দর রক্ষা পরিষদের সদস্যসচিব মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে।
তিনি মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) আদালতের শুনানির কথা বিবেচনা করে আজকের (সোমবার) অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান।
পাশাপাশি বন্দরের এনসিটি, সিসিটিতে বন্দরের কর্মচারীদের স্বার্থহানি হয়- এমন কিছু করা হবে না মর্মে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। তাই সোমবারের (২৪ নভেম্বর) অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকাল ১১টায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে গত শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বড়পোল, আগ্রাবাদ, সিম্যান্স হোস্টেল এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল বন্দর রক্ষা পরিষদ।
এদিকে আজ সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) নেতৃবৃন্দের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বন্দরের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মেম্বার প্রকৌশল, মেম্বার হার্বার অ্যান্ড মেরিন এবং সচিব ওমর ফারুক। অন্যদিকে স্কপের পক্ষ থেকে তপন দত্ত, কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, এস কে খোদা তোতনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটি টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা ব্যাখ্যা করে জানায়, বন্দরের চেয়ারম্যান বর্তমানে ছুটিতে থাকায় নভেম্বরে কোনো ধরনের চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাছাড়া ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হলে বর্তমান সরকারের পক্ষে এমন চুক্তি করার সুযোগও আর থাকবে না। তাই তড়িঘড়ি করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার কোনো পরিস্থিতি নেই বলে কর্তৃপক্ষ স্কপকে অবহিত করেন।
স্কপ নেতারা এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, লালদিয়ার চর ও পানগাঁও ইজারা দেওয়ার দিন বিডার প্রধান নির্বাহী আশিক চৌধুরী সাত দিনের মধ্যে এনসিটি চুক্তি হবে বলে যে মন্তব্য করেছিলেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ ধরনের কৌশলগত চুক্তি করার নৈতিক কিংবা আইনি অধিকার নেই। স্কপ গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছে এবং এতে এখন দেশের শ্রমিক সমাজ, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ যুক্ত হয়েছে। ফলে স্কপ এখন একতরফাভাবে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াতে পারে না। তাই স্কপের পূর্ব ঘোষিত আগামী ২৬ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বন্দর অবরোধ কর্মসূচি বহাল থাকবে। তবে অবরোধের তিনটি স্থানে কিছু পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে তা হলো- মাইলের মাথা (সী মেন্স হোস্টেল), টোল রোডের টোলপ্লাজা গেট এবং বড়পুল।
স্কপ সর্বস্তরের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে এই অবরোধ কর্মসূচি সফল করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
তারেক/মাহফুজ