ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুই গোল বাতিল, প্রথমার্ধে পিছিয়ে জার্মানি আইভরি কোস্টের মুখোমুখি জার্মানি, দেখুন একাদশ জোড়া রেকর্ডের সামনে মেসি সুইডেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিল নেদারল্যান্ডস দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে ধাক্কা বিশ্ব বাবা দিবস আজ ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর ব্রায়ান ব্রোবির জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ এক দিনে দ্রুততম দুই গোল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ উল্লাসের পরদিন ৪০ টন স্মৃতি ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন মেসির ফাউল: ফিফায় আলজেরিয়ার নালিশ ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগের সাবেক এমপির ফ্যাক্টরিতে লুটপাট ১১ মামলার আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা বুলবুল আটক বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফরিদপুরে ‘গে গ্রুপ’ ইস্যুতে ৩ জন আটক জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে? লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান বরিশাল বিভাগ এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশর দিনব্যাপী নৌ-বিহার

শৈলকুপায় জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ১৫টি পাঠাগার

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩৯ এএম
শৈলকুপায় জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে ১৫টি পাঠাগার
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের এন এম খান পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ভিলেজ হলের সামনে পাঠক ও সুধীজনের ফটোসেশন (বাঁয়ে)। অন্য একটি পাঠাগারে মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে বই পড়ায় ব্যস্ত কয়েকজন। ছবি: খবরের কাগজ

‘রুটি মদ ফুরিয়ে যাবে, প্রিয়ার কালো চোখ ঘোলাটে হয়ে আসবে, কিন্তু বইখানা অনন্ত-যৌবনা’ বইপড়া গল্পে সৈয়দ মুজতবা আলী ফারসি কবি ওমর খৈয়ামের লেখা থেকে এভাবেই ভাবানুবাদ করেছেন। 

বই হলো জ্ঞানের আঁধার। আর জ্ঞানের ভান্ডার হলো একটি পাঠাগার।

পাঠাগারকে জ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য ও বিজ্ঞানের আঁধার বলা হয়। এটি একটি জাতির মেধা, মনন, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ঝিনাইদহ জেলার শিক্ষা, দীক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতির উন্নতির মূলে এই পাঠাগারগুলো অনেক ভূমিকা রেখে চলেছে। এ জেলার একটি উপজেলা শৈলকুপা। শৈলকুপা উপজেলাকে সন্ত্রাসের জনপদ, আত্মহত্যার রাজধানী বলা হলেও জ্ঞান বিস্তারে এ উপজেলায় তিনটি সরকারিসহ মোট ১৫টি মহাবিদ্যালয়, ১টি সরকারিসহ ৬৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। দেড় শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় ও মাদরাসাসহ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ উপজেলায় নানা সময়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু পাবলিক লাইব্রেরি। সঠিক পরিচর্যা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলেও উপজেলাজুড়ে নীরবে-নিভৃতে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে প্রায় ১৫টি বেসরকারি পাঠাগার। খবরের কাগজ-এর অনুসন্ধানে এর পুরো চিত্র উঠে এসেছে। 

শৈলকুপা উপজেলার ৫ নম্বর কাঁচেরকোল ইউনিয়নের কচুয়া বাজারে ডাকুয়া নদীর পাড়ে ব্রিটিশ আমলে ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এন এম খান পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ভিলেজ হল। জানা যায়, ১৯৩৬ সালে এটির গোড়াপত্তন করেন কাঁচেরকোলের জমিদার খান বাহাদুর কাজী সরোয়ার উদ্দিন ও ডাক্তার হাবিবুর রহমান। 

পরবর্তী সময়ে ১৯৪২ সালে তৎকালীন যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মোহাম্মদ খান (এন এম খান) বেণীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে পাঠাগারটি পরিদর্শন করে পাঠাগারটির উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ দেন। সে সময় ১০ শতক জমির ওপর একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসী তার এ উদ্যোগকে স্মরণীয় করে রাখতে কৃতজ্ঞতা স্বরূপ লাইব্রেরির নামকরণ করেন এন এম খান পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ভিলেজ হল কাঁচেরকোল। দিনে দিনে বাড়তে থাকে লাইব্রেরিটির কলেবর। অনেক দুষ্প্রাপ্য বইতে ভরে ওঠে লাইব্রেরি। সঙ্গে সঙ্গে পাঠকও বাড়তে থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে পাঠক আসতে থাকে পাঠাগারটিতে।

এক সময় এ লাইব্রেরির নাম ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। সে যুগে লাইব্রেরিতে আনা হয় রেডিও। সন্ধ্যায় খবর শুনতে লোক ভিড় করত লাইব্রেরিতে। বই ও খবরের কাগজ পড়তে এবং রেডিওর খবর শুনতে ৮-১০ মাইল দূর থেকেও লোক আসত এই লাইব্রেরিতে। 

কাঁচেরকোল জমিদার বাড়ির সন্তান মলি মিয়া সাহেব লাইব্রেরিকে আঁকড়ে ছিলেন বহুদিন। 

তার মৃত্যুর পর লাইব্রেরি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের দিকে কচুয়া গ্রামের লোকজন দাবি করেন গ্রন্থাগারটি কচুয়া বাজারে প্রতিষ্ঠিত, তাই এর দেয়ালে কচুয়া লিখতে হবে। এই নিয়ে কচুয়া আর কাঁচেরকোল গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। আর এই বিরোধের জেরে ওই বছরই কচুয়ার স্থানীয় লোকজন গ্রন্থাগারটি বন্ধ করে দেন। এরপর কোনো পক্ষই সমাধানে আসতে না পারায় এটি আর চালু হয়নি। সেই থেকে বন্ধ থাকে জনপ্রিয় লাইব্রেরিটি। 

দীর্ঘ ২৬ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাইমুর রশিদ আরাফাতের নেতৃত্বে এটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল মো আসাদুজ্জামানের দিক-নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নিগ্ধা দাস সার্বিক সহযোগিতা করে লাইব্রেরিটি চালু করেন। আবার পাঠকের আনাগোনা শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিটিতে।

শৈলকুপা উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শৈলকুপা পাবলিক হল ও লাইব্রেরি। ১১ শতক জমির ওপর সে সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক নেতারা লাইব্রেরিটি গড়ে তোলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় লাইব্রেরির বইপুস্তক-আসবাবপত্র লুটপাট হয়ে যায়। বই পড়ার বদলে এখানে শুরু হয় অসামাজিক কার্যকলাপ। ১৯৮৬ সালে একটি নতুন একতলা ভবন তৈরি হলেও লাইব্রেরিটি পুরোপুরি চালু না হয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নলিনী রঞ্জন বসাক ও তৎকালীন এমপি আব্দুল ওহাবের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি আবার চালু হয়। চেয়ার, টেবিল, বুকশেলফ তৈরি করা হয়। সংগ্রহ করা হয় প্রায় ২০০০ বই। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০৮ সাল থেকে লাইব্রেরিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন স্বপন বাগচী। তার নেতৃত্বে এলাকার বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে একতলা ভবন থেকে ৯ শতাংশ জমির ওপর গড়ে উঠেছে একটি দ্বিতল ভবন। ঢাকা ওয়াসার সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. গোলাম মোস্তফার আর্থিক সহযোগিতায় আধুনিকায়ন করা হয়েছে লাইব্রেরিটি। প্রকৌশলী ড. গোলাম মোস্তফার নামে এখানে একটি মিলনায়তন করা হয়েছে। লাইব্রেরিতে ৩ হাজার বই রয়েছে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি জাতীয় পত্রিকা রাখা হয়। একজন নিয়োগ করা লাইব্রেরিয়ান এটি দেখভাল করেন। 

শৈলকুপার উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে কবি গোলাম মোস্তফার বাস্তুভিটায় ১৯৬৮ সালে কবি গোলাম মোস্তফা স্মৃতি গণপাঠাগারটি গড়ে তোলা হয়। দীর্ঘদিন পর সরকারি উদ্যোগে এখানে একটি ভবন তৈরি হয়েছে। স্থায়ী লাইব্রেরিয়ান না থাকায় নিয়মিত খোলা হয় না। গ্রাম্য রাজনীতির কারণে লাইব্রেরিটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে এটি আবার চালু করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৩ লাখ টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করা হয় লাইব্রেরিটিতে। বর্তমানে পাঠাগারটি নিয়মিত খোলা রাখা হয়, বই ধার, দৈনিক পত্রিকা পড়তে পাঠক আসতে শুরু করেছে।

শৈলকুপা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠপাড়া গ্রামের কাজী বাড়িতে ডা. কাজী খাদেমুল ইসলাম পাঠাগার ও উন্নয়ন সংঘ নামে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন সাবেক যুগ্ম সচিব কাজী নাসিরুল ইসলাম। পাঠাগারটির আধাপাকা একটি সুদৃশ্য ভবন রয়েছে। একজন পার্টটাইম লাইব্রেরিয়ান এটি দেখাশোনা করেন। লাইব্রেরিতে দেড় হাজারের ওপর বই আছে, দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়, নিয়মিত খোলা রাখার ব্যবস্থা আছে। 

শৈলকুপা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিএসডি ক্লাব অ্যান্ড পাঠাগার। সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী আলমগীর অরণ্যের নেতৃত্বে ২০১৩ সালে গণগ্রন্থাগার থেকে এটির রেজিস্ট্রেশন করা হয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে একটি আংশিক পাকা দোচালা টিনের ঘর তৈরি করে লাইব্রেরিটি চালু করা হয়। ২ হাজারের ওপর বই আছে লাইব্রেরিটিতে। সার্বক্ষণিক লাইব্রেরিয়ান নেই। একজন পার্টটাইম লাইব্রেরিয়ান এটি দেখাশোনা করেন। বর্তমানে লাইব্রেরিটির স্থায়ী ভবন নির্মাণকাজ চলমান। প্রতিদিন তিনটি দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়। 

শৈলকুপা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া গ্রামে ২০০৯ সালে শৈলকুপা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়া ও স্কাউট শিক্ষক আতিয়ার রহমান তার কাচারী ঘরে প্রতিষ্ঠা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান পাঠাগার, তিনিই এটি দেখভাল করতেন। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে ব্যাংকার ফজলুর রহমান এটি পরিচালনা করেন। বর্তমানে পাঠাগারের নিজস্ব একটি আধাপাকা ঘর রয়েছে। একজন পার্টটাইম লাইব্রেরিয়ান এটি দেখাশোনা করেন। প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়। প্রায় দেড় হাজারের ওপর বই রয়েছে পাঠাগারটিতে।

শৈলকুপা উপজেলার ১ নম্বর ত্রিবেণী ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে কৃতী শিক্ষক আকবর আলীর নামে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আকবর আলী পাঠাগার। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশন করা পাঠাগারটির কার্যক্রম চলে একটি টিনের ঘরে। কে এম শরীফুল ইসলাম ও শিক্ষক আব্দুল হান্নান এটি পরিচালনা করেন। প্রায় ২ হাজার বই রয়েছে পাঠাগারটিতে। 

উপজেলার ৬ নম্বর সারুটিয়া ইউনিয়নের কাতলাগাড়ি বাজারে ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল আলম খোশবু ২০১৯ সালে গড়ে তোলেন কাতলাগাড়ি পাবলিক লাইব্রেরি। ২০২৩ সালে লাইব্রেরিটি গণগ্রন্থাগারের তালিকাভুক্ত হয়। ৬৫০ বই নিয়ে ভাড়া করা ঘরে চলে লাইব্রেরির কার্যক্রম। 

উপজেলার ২ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাধুখালী গ্রামে ২০১০ সালে ভেলা মহিলা সমিতির পরিচালক শোলকী খাতুন নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন ভেলা পাঠাগার। ২০১৩ সালে পাঠাগারটি গণগ্রন্থাগারের তালিকাভুক্ত হয়। ৭৫০ বই রয়েছে পাঠাগারটিতে। সমিতির সদস্য ছাড়াও গ্রামের পাঠকরা এখান থেকে বই নিয়ে পড়াশোনা করে।

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের গোলকনগর গ্রামে নিজ বাড়ির আঙিনায় ২০১৪ সালে গোলাম রসুল স্মৃতি পাঠাগারটি গড়ে তোলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত আলীনুর রহমান ওরফে কবি বঙ্গ রাখাল। পাঠাগারটি ২০২৫ সালে গণগ্রন্থাগারের তালিকাভুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে কবি সাহিত্যিকদের নিয়ে সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয় পাঠাগারটিতে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা পাঠাগার থেকে বই নিয়ে পড়াশোনা করেন। প্রায় ২ হাজার বই রয়েছে পাঠাগারটিতে। 

উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের শেখরা গ্রামে ২০২০ সালে গড়ে ওঠে শেখরা যুব উন্নয়ন গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারটি ২০২২ সালে গণগ্রন্থাগারের তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে গ্রন্থাগারের বই সংখ্যা ৫১০টি। এটি পরিচালনা করেন বিল্লাল হোসেন লিটু। 

উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের বাগুটিয়া গ্রামে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রজনীগন্ধা গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারটি ২০২১ সালে গণগ্রন্থাগারের তালিকাভুক্ত হয়। গ্রন্থাগারটিতে রয়েছে ৬ শতাধিক বই। এটি পরিচালনা করেন এস এম শহিদুল ইসলাম মনি।

শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের মৌবন মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ২০২৫ সালের শুরুতে গড়ে তোলা হয়েছে মৌবন পাঠাগার। স্কুলশিক্ষক ও শিল্পী ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে পাঠাগারটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বই সংগ্রহ, পাঠকদের মাঝে বই বিতরণ, পত্রিকা পাঠের ব্যবস্থা রয়েছে পাঠাগারটিতে।

পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, নেতৃত্বের দুর্বলতা, সামাজিক দলাদলি বিভিন্ন কারণে উপজেলায় বেশ কয়েকটি পাঠাগার বন্ধ হয়ে আছে এর মধ্যে রয়েছে ৬ নম্বর সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে নাদপাড়া সূর্যতরুণ পাঠাগার, কাতলাগাড়ি বাজারে লেখক প্রকাশক মোহাম্মদ আলী প্রতিষ্ঠিত দুঃসাহস পাঠাগার, বড়মৌকুড়ি গ্রামের ঢাকা ক্লাব পাঠাগার, হাকিমপুর ইউনিয়নের সাধুহাটি বাজারের সাধুহাটি পাবলিক লাইব্রেরি, কবিরপুরে হাসুমনির পাঠাগার, গাড়াগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি ইত্যাদি।

ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
ধর্ষণের অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি, পরে পুলিশে হস্তান্তর
মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম। ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সাড়ে পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম (৪৪) নামে মসজিদের এক ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় শনিবার (২০ জুন) রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের বেলুয়া গ্রামর পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। তিনি ত্রিশাল উপজেলার ৬ নম্বর ত্রিশাল ইউনিয়নের চিকনা মনোহর এলাকার হাসেন আলী শেখবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব।

ভুক্তভোগী শিশুটি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। তবে পার্শ্ববর্তী ত্রিশাল উপজেলার একটি গ্রামে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করত। শিশুর বাবা মাছের একটি প্রজেক্টে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মেয়েটি প্রতিদিন চিকনা মনোহর এলাকায় হাসেন আলী শেখবাড়ী জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে পবিত্র কোরআন শিখতে যায়। মেয়ের সঙ্গে ৫ ও ৬ বছরের আরও দুই ছেলে শিশু পবিত্র কোরআন শিখতো। মেয়েটিকে দেরীতে ছুটি দিত ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম। কিন্তু অপর দুই শিশুকে তাড়াতাড়ি ছুটি দেওয়া হতো। এতে মেয়েটির মায়ের সন্দেহ হলে বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সাথে আলোচনা করলে স্বামী তা বিশ্বাস করে না।

প্রতিদিনের মতো শনিবার (২০ জুন) মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামের কাছে কোরআন শিখতে যায় মেয়েটি। মেয়ে বাড়ীতে আসতে দেরী হওয়ায় মেয়ের মা এদিন বিকেল তিনটায় মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করে মেয়ে ও ইমাম মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখতে পায়। মেয়েকে উলঙ্গ অবস্থায় দেখে মেয়ের মায়ের ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে আটক করে। 

আরও জানা গেছে, মেয়েটির মায়ের ডাক-চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত লোকজন মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে মারধর করে এবং মসজিদের ভিতরে তালাবদ্ধ রেখে থানা পুলিশকে খবর দেয়। থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে হেফাজতে নেয় এবং মেয়েকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেয়ের বক্তব্য শুনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ সার্ভিসে পাঠানোর পরামর্শ দেন এবং মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

শিশুটির মা বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।

ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করে মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে ময়মনসিংহ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হবে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/এসএন

ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন
আহত এসিল্যান্ড সাকিব হাছান খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

ছুটিতে গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার বেড়াতে এসে সশস্ত্র ডাকাত দলের হামলায় আহত হয়েছেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁনসহ অন্তত ছয়জন।

ডাকাত দলটি একটি বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট শেষে ফেরার পথে  এ হামলা চালায়।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনার এখনো কোন মামলা হয়নি। 

পুলিশ জানায়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন ছুটিতে নিজ বাড়ি উপজেলার  ধন্দী গ্রামের  অবস্থান করছিলেন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সাকিব হাছান খাঁন মুকুল (৩৮), রাজিব (৩২), রুবেল (৩৬), ফারুক (৩২) ও ডালিয়া (৩৩)-কে গুরুতর আহত করে। আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাত দল পালিয়ে যায়।

পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার বর্ণনায় শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন খবরের কাগজকে বলেন, রাতে খাবার শেষে পরিবারের সদস্যসহ কয়েকজন বাড়ির পাশের বাজারের দোকানে যাচ্ছিলাম। পথে সশস্ত্র ডাকাত দলের সদস্যরা প্রথম টচ লাইন জ্বালিয়ে আমাদের দেখে। মুহুর্তের মধ্যেই অতর্কিত হামলা চালায়। ডাকাতরা প্রায় ১৪ জনের একটি দল ছিলো। হামলার সময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে তাদের উপর হামলা শুরু করে। স্থানীয় আরো দুইজন লোক আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় মামলা হয়নি জানিয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কিন্তু এখনো ডাকাতদের  শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ তদন্ত চলমান রেখেছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)আসাদুর রহমান। তিনি বলেন, স্থানীয়দের তথ্য মতে ডাকাতেরা লুটের মালপত্রসহ যাওয়ার পথে সামনে যাকে সামনে পেয়েছে, তাকে কুপিয়ে পালিয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন গলায় ও বুকে আঘাত পেয়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আড়াইহাজারের বাড়ি ফিরেছেন। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।

এদিকে হামলার আগে পার্শ্ববর্তী রাইনাদী-আতাদী এলাকার সুমন নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে বলে জানান স্থানীয়রা৷  দুটি ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। তবে স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাত চক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

বিল্লাল হোসাইন/এসএন 

বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩২ পিএম
বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম এলাকা থেকে বম সম্প্রদায়ের অসুস্থ এক নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উদ্ধারের পর তাকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।  

আইএসপিআর জানিয়েছে, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত রামকিল বম (৭৪) শনিবার (২০ জুন) আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন দেখা দেয়। পরে খবর পেয়ে মানবিক দায়িত্ববোধ ও জনসেবার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বৃহস্পতিবার বিকেলে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ওই নারীকে দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আইএসপিআর জানায়,  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের সকল সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন এবং জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আলমগীর হোসেন/রিফাত/

অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার এক শিশু মাত্র আট মাসে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন মজিদ মুখস্থ করে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 ১০ বছর বয়সি এই শিশুর নাম আল-আমীন। তিনি উপজেলার সেন্টার বাজারস্থ মারকাযুল হুফফাজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, আল-আমীন হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বিরবিরি গ্রামের বাসিন্দা ও ওমান প্রবাসী নেছার উদ্দিনের ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ও মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিল আল-আমীন।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে সেন্টার বাজার মারকাযুল হুফফাজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে তার এ অসাধারণ অর্জনের প্রশংসা করেন।

মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মওলানা রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালে আল-আমীন নাজেরা বিভাগে ভর্তি হয়। পরে হিফজ বিভাগে ভর্তি হয়ে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে কোরআন মুখস্থ করতে থাকে। মাত্র ৮ মাস ৩ দিনের মধ্যেই সে সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে, যা সত্যিই বিস্ময়কর।

তিনি আরও  বলেন, একজন শিক্ষার্থীর কোরআন হিফজ সম্পন্ন করতে সাধারণত দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। সেখানে আল-আমীন অল্প সময়ে এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে। আমরা তার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা যেন তাকে দ্বীনি জ্ঞান ও উত্তম চরিত্রে সমৃদ্ধ করে দেশের একজন যোগ্য আলেম হিসেবে গড়ে তোলেন।

মাদরাসার শিক্ষকরা জানান, আল-আমীন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও একাগ্রচিত্তের শিক্ষার্থী। নিয়মিত অনুশীলন এবং গভীর মনোযোগের কারণেই সে স্বল্প সময়ে এমন সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন আরাফাত পারভেজ খবরের কাগজকে  বলেন, আল-আমীনকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। সে খুবই ভদ্র ও মেধাবী। তার এই অর্জনে আমরা গর্বিত।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি ফজলুর রহমান (সারোয়ার) কাসেমী, সেন্টার বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসাইন এবং মওলানা হাফেজ নিজাম উদ্দিন। এছাড়াও আল-আমীনের মা, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আল-আমীনের মা-বাবা তাদের সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন, যেন সে ভবিষ্যতে আরও বড় ইসলামী শিক্ষাবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।

উল্লেখ্য, সেন্টার বাজার মারকাযুল হুফফাজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় বর্তমানে নাজেরা ও হিফজ বিভাগে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

হানিফ উদ্দিন সাকিব/এসএন

ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক
ফয়সাল আহমেদ জুমান। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-হাইতি ফুটবল ম্যাচে ব্রাজিল জিতলে মাথা ন্যাড়া করা হবে এমন বাজি ধরে চুল খোয়ালেন আর্জেন্টিনার এক সমর্থক। পরে মাথা ন্যাড়া করে ওয়াদা রক্ষা করেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফয়সাল আহমেদ জুমান (২৩)। 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সূর্যনগর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

ফয়সাল দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তিনি ঘোষণা দেন, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল জয়ী হলে তিনি মাথা ন্যাড়া করবেন। 

শনিবার সকালে বিশ্বকাপ ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ব্রাজিল। ম্যাচ শেষ হতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন ফয়সাল। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়েই নিজের মাথা ন্যাড়া করেন তিনি। এ সময় ঘটনাটি দেখতে ভিড় করেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমী ও কৌতূহলী মানুষজন। মুহূর্তেই বিষয়টি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। পরে সেগুলো ব্যাপকভাবে শেয়ার হলে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা।

বাজি পূরণের পর ফয়সাল আহমেদ জুমান বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটেছে খেলাধুলা বিনোদনের একটি বড় মাধ্যম। আমি ব্রাজিল সমর্থকদের সঙ্গে বাজি ধরেছিলাম। ব্রাজিল জিতেছে, তাই কথা অনুযায়ী মাথা ন্যাড়া করেছি।’

রিফাত/