কিশোরগঞ্জের আলোচিত পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। বর্তমানে চলছে গণনার কাজ।
ঐতিহাসিক এ মসজিদটিতে ১৩টি সিন্দুক রয়েছে। সাধারণত তিন মাস পরপর খোলার নিয়ম থাকলেও এবার খোলা হয়েছে ৩ মাস ২৭ দিন পর। ধারণা করা হচ্ছে, এটি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে সকাল ৭টার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
প্রথমে দানবাক্সগুলো এক এক করে খোলা হয়, এরপর টাকাগুলো বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় আনা হয়। এরপর শুরু হয় গণনার কাজ। টাকাগুলো দফায় দফায় বান্ডেল করে প্রথমে হাতে এবং শেষে গণনা যন্ত্রে গণনা করা হয়।
এর আগে, চলতি বছরের ৩০ আগস্ট মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হলে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তখন ৪ মাস ১৮ দিনে টাকার পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। এ ছাড়াও ছিল বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রূপার অলংকার।
পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, টাকা গণনায় অংশ নেয় পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন এবং আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২৫০ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদের ৩৩ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায় অর্ধশতাধিক সদস্যও গণনায় সহায়তা করছেন। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে টাকা গণনার কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে।
জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দানবাক্স খোলার পর এবার ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে এবং গণনা চলছে।
তিনি আরও জানান, কিশোরগঞ্জে পাগলা মসজিদ কেন্দ্রিক একটি ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। ভবনটি হবে ১০ তলা বিশিষ্ট এবং এখানে অনাথ এতিমদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদরাসাশিক্ষা, একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশন থাকবে।
মসজিদের বর্তমান আয়তন ৫ দশমিক ৫ একর। ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবনের জন্য আরও কিছু জায়গা কেনা হবে। বর্তমানে মসজিদের অ্যাকাউন্টে মানুষের দানের ১০৪ কোটি টাকা জমা রয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্সের জন্য নকশা জমা দিয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা করে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দিয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দেবে এবং কাজ শুরু হবে।
পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে বস্তায় ভরা এবং গণনা শেষে ব্যাংকে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সব টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
দানবাক্স খোলার সময় গণনা দেখতে মসজিদের আশপাশে ভিড় জমায় উৎসুক মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকে দূরদূরান্ত থেকেও আসেন। তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে প্রতি শুক্রবার। মসজিদটিতে নিয়মিত হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ নানা ধরনের জিনিসপত্র দান করেন।
মিতু/রিফাত/