ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া চট্টগ্রামের তিন প্রার্থীর কাছেই ব্যাংকের পাওনা ২৫২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে আসলাম চৌধুরীর ঋণ রয়েছে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা। গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঋণের পরিমাণ ৭০৪ কোটি টাকা। সরোয়ার আলমগীরের ঋণ ১৩১ কোটি টাকা। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ, রিট পিটিশন এবং ২০২৫ সালে তারা ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন। প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
হলফনামায় দেখা যায়, আসলাম চৌধুরীর একক ঋণ রয়েছে ৩৪৫ কোটি ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ২৬৯ টাকা। এ ছাড়াও জামিনদার হিসেবে তার ঋণের পরিমাণ ১০৫৯ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে ঋণ রয়েছে ২৮৫ কোটি টাকা। তার সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৬৮৯ কোটি ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ২৬৯ টাকা। হলফনামায় তিনি ঋণের বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
ঋণের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তার ঋণের পরিমাণ ৭০৪ কোটি ১২ লাখ ৬৯ হাজার ৩০৩ টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে বিভিন্ন ব্যাংকে যথাক্রমে ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ১৬৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, ২০১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ও ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। তার ঋণগুলো পুনঃতফসিল করা হয়েছে। একটি লিজিং প্রতিষ্ঠানের ঋণ মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিতাদেশ রয়েছে।
তৃতীয় অবস্থানে আছেন চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। তার মোট ঋণের পরিমাণ ১৩১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে যথাক্রমে ১৯ কোটি ৬২ লাখ ৫১ হাজার টাকা, ৩ কোটি ১১ লাখ ২৬ হাজার টাকা, ৭ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৪ টাকা, ২০ কোটি ৪৭ লাখ ও ৮০ কোটি ৩২ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে তার।
এ ছাড়াও চট্টগ্রামের আরও বেশকিছু প্রার্থী তাদের হলফনামায় ঋণের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। তারা হলেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম আকবর খোন্দকার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে তার ঋণ রয়েছে ২৭ কোটি ৮০ লাখ ৪১ হাজার ১৫১ টাকা।
চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদের ঋণ রয়েছে ১০ কোটি ১৭ লাখ ৬০৫ টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে তিনি এই ঋণ করেছেন।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমীনের একক ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৯ টাকা, স্ত্রীর নামে ঋণ রয়েছে ৭৪ লাখ ৯১ হাজার টাকা ও ছেলের নামে ঋণ রয়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫৯৬ টাকা।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামের একক ঋণ রয়েছে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৩ টাকা। চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী শাকিলা ফারজানার একক ঋণ রয়েছে ৫২ লাখ ৫৩ হাজার ১০৫ টাকা। চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারুর একক ঋণ রয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।