রমজান মাস ঘনিয়ে আসতেই বাড়তে শুরু করেছে মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ১৫ টাকা ও সোনালি মুরগিতে ২০ টাকা বেড়েছে। দাম বাড়ার পেছনে মুরগির সরবরাহ কম বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে নগরের হালিশহর ও ঈদগাঁ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ১৫ টাকা বেড়ে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি সোনালি মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়।
ওই বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. শফি বলেন, ‘মুরগির সরবরাহ কম। খামার থেকে বাড়তি দামে কিনে আনতে হয়েছে। তার ওপর বাজারে মুরগির চাহিদা বেশি। সব মিলিয়ে এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।’
নগরের হালিশহর এলাকার বাসিন্দা মো. আবদুল করিম বলেন, ‘ভেবেছি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকার মধ্যে ব্রয়লার মুরগি কিনতে পারব। কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনে চোখ কপালে উঠে গেল। যেভাবে হুট করে একটি পণ্যের দাম বেড়ে যায়, সেভাবে তো আমাদের আয় বাড়ে না। প্রতিবছর রমজান এলেই মুরগিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম দেখছি না।’
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। সঠিকভাবে বাজার তদারকি হচ্ছে না। তাই যে যেভাবে পারছে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে ভোক্তার পকেট কাটছে। ভোক্তাকে স্বস্তি দিতে বাজার তদারকির বিকল্প নেই।’ তবে মুরগির ডিম, গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির লাল ডিম বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকায়। পাশাপাশি বাজারে প্রতি কেজি হাড়সহ গরুর মাংস ৮৫০ টাকা ও হাড় ছাড়া গরুর মাংস ৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকায়।
সবজির বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ৬০, লাউ ৪০, শিম ৫০, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ ও বাঁধাকপি ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০, শিমের বিচি ১০০ থেকে ১২০, মুলা ও শালগম ৪০, নতুন আলু ৩৫ ও পুরনো আলু ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তা ছাড়া প্রতি কেজি পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া এবং প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।
মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ ২৫০, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, রুই ও কাতলা ৩৫০ থেকে ৪৫০, মৃগেল ৩৫০, লইট্যা ২০০, তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০, সিলভার কার্প ২৫০, বাগদা চিংড়ি ৯০০, রূপচাঁদা ৮৫০, কোরাল ৭০০, আইড় মাছ ও টেংরা ৬০০, শিং ৩৫০ থেকে ৪০০ ও লাল পোয়া ৪০০, সাদা পোয়া ২৮০, সরপুঁটি ৩০০ ও নাইলোটিকা ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
তা ছাড়া মুদি দোকানে প্রতি কেজি মসুর ডাল (মোটা) ৯০, খেসারি ডাল ১০০, মুগ ডাল (বড়) ১২০, মুগ ডাল (ছোট) ১৩০ ও বুটের ডাল ৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০৫ টাকা, প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ১১০ ও প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। তা ছাড়া প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮, খোলা সয়াবিন তেল ১৭২ ও খোলা সরিষার তেল ২৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।