জামালপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ অসুস্থ প্রবীণদের নিয়ে এক ব্যতিক্রম রিকশা ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে। অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে চলাফেরা করতে অক্ষম ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন পর নিজ এলাকায় ঘুরতে বের হতে পেরে বেশ উৎফুল্ল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক গ্রুপ ‘আমাদের পাথালিয়া’ নামে স্থানীয়দের একটি প্ল্যাটফর্ম ভ্রমণের এ আয়োজন করে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাথালিয়া বকুলতলা মোড় থেকে তারা নিজ এলাকায় রিকশা ভ্রমণে বের হন। পাথালিয়া এলাকার ছাতার মোড়, গুয়াবাড়িয়া, মাঠপাড়, কম্পুপুর, পশ্চিমপাড়া হয়ে আবার পাথালিয়া বকুলতলা মোড়ে তাদের এসে ভ্রমণ শেষ হয়। প্রায় বিশ জন প্রবীণ
ব্যক্তি এই ভ্রমণে অংশ নেন।
ফেসবুক গ্রুপ ‘আমাদের পাথালিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা এডমিন সমাজকর্মী রাসেল মিয়া ও উদ্যোক্তা সোহানুর রহমান রিকশায় করে সবাইকে নিজ
এলাকা ঘুরে দেখান। দীর্ঘদিন পর বাইরে বের হয়ে নিজ এলাকা ঘুরে দেখে তারা বেশ আনন্দিত। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করা হবে বলে জানান আয়োজকরা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হক সুরুজ (৭৫) বলেন, আমি অনেক দিন থেকে অসুস্থ, বাইরে খুব বেশি বের হতে পারিনা। আজ নিজের এলাকা ঘুরে দেখে খুব ভালো লাগলো। ভবিষ্যতে এমন আয়োজন করলে আমি আবারও থাকব।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান (৮০) বলেন, দীর্ঘদিন পরে রিকশায় করে নিজের এলাকা ঘুরে দেখলাম। এলাকায় অনেক পরিবর্তন
হয়েছে। আমার সঙ্গী অনেক মুক্তিযোদ্ধা মারা গেছেন, ঘুরে বাড়ানোর সময় শুধু তাদের বাড়িঘর ও কবর চোখে পড়ল।
প্রবীণ ব্যক্তি মফিজুর রহমান (৬৫) বলেন, হঠাৎ করে আমাদের গ্রামটি ঘুরে দেখানো হলো। অনেক দিন পর নিজের গ্রামটি ঘুরে দেখলাম, অনেকের সঙ্গে দেখা হলো আমি খুবই আনন্দিত।
আব্দুল গফুর (৮০) বলেন, আমি আগে রিকশা চালাইতাম, এখন নিজেই চলতে পারি না, অচল। আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে সাড়ে তিনি বছর পর রিকশায় করে ঘুরলাম, আমার খুব ভালো লাগছে।
তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৬০) বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তাকে রেখে কোথাও যেতেও পারি না। আজ নিজের স্বামীর সঙ্গে অনেক দিন পর ঘুরলাম।
আমাদের পাথালিয় গ্রুপের এডমিন সোহানুর রহমান বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পাথালিয়ার তরুণ প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে যেন তারা প্রবীণদের অনুসরণ করে সঠিক পথে এগিয়ে যেতে পারেন। পাথালিয়ায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করে। এখানকার তরুণরা যেন মেধা ও দক্ষতার মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করে একটি আদর্শ, আধুনিক ও উন্নত পাথালিয়া গড়ে তুলতে পারেন, সেজন্য এই ফেসবুক প্ল্যাটফর্মটি কাজ করে যাচ্ছে।
উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি এই গ্রুপটি বিভিন্ন সামাজিক কাজও করে থাকে, যেমন অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের খুঁজে বের করে সহায়তা করা। আধুনিক পাথালিয়া গড়ে তোলার জন্য দেশে-বিদেশি ও বিভিন্ন জেলায় কর্মরতদের একত্র হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। লক্ষ্য হলো, পাথালিয়ার এই ভালো কাজগুলো দেখে যেন সারা জামালপুর জেলার তরুণরা উজ্জীবিত হয় এবং জামালপুর জেলা যেন সারা বাংলাদেশে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পায়।
আমাদের পাথালিয়া ফেসবুক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এডমিন ও সমাজকর্মী রাসেল মিয়া জানান, আমাদের পাথালিয়া ফেসবুক গ্রুপের আয়োজনে পাথালিয়ার অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবীণ মানুষদেরকে নিয়ে আজকে একটি ব্যতিক্রমধর্মী রিকশা ভ্রমণের আয়োজন করা হলো। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হলো আমাদের পরিবারের প্রবীণ ও অসুস্থ সদস্যদের সময় দেওয়া, কারণ তারা এক সময় আমাদের গভীর যত্নে বড় করেছেন। তারা আমাদের পরিবারের বোঝা নন। অসুস্থতার কারণে তারা দীর্ঘদিন গ্রামের আলো-বাতাস ও পরিচিত মানুষদের থেকে দূরে ছিলেন। এই আনন্দ র্যালি বা রিকশা ভ্রমণের মাধ্যমে তারা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে পেরেছেন। যা তাদের সুস্থতার জন্য সহায়ক হবে। পাথালিয়া ফেসবুক গ্রুপ বিশ্বাস করে যে প্রবীণরা আমাদের শক্তি ও আশা সঞ্চারের উৎস এবং তাদের কাছ থেকেই তরুণ প্রজন্মকে শিখতে হবে। অসুস্থতার কারণে অনেকেই আজ বের হতে পারেনি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এধরণের আয়োজন করা হবে।
আসমাউল আসিফ/নাঈম