হঠাৎ করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানীহাট স্টেশনে থামে একটি মিনি ট্রাক। সেখানে রয়েছে লোহার রড, রাজমিস্ত্রির করণি, হাতুড়ি, শাবল, বেলচা, লোহার চওড়া ফ্লোটসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণসামগ্রী। এসবের ওপর বসে আছেন বেশ কয়েকজন নির্মাণশ্রমিক। মিনি ট্রাকটি কয়েক গজ সামনে যেতেই আরও ছয় থেকে সাতজন শ্রমিক কাঁধে ও হাতে ব্যাগ নিয়ে হুড়োহুড়ি করে উঠে পড়েন।
বুধবার (২৭ মে) ঈদযাত্রার শেষ দিনে বেলা ১১টার দিকে এ দৃশ্য দেখা যায়।
এ সময় ওই মিনি ট্রাকে থাকা নির্মাণশ্রমিকদের প্রশ্ন করা হলে তারা বলেন, ‘আমরা ঈদের ছুটিতে রংপুর যাচ্ছি। আমরা চট্টগ্রামে কাজে আসার সময় অনেক নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছিলাম। তার মধ্যে যেগুলো অপ্রয়োজনীয় সেগুলো আবার নিয়ে যাচ্ছি।’
ঝুঁকি নিয়ে মিনি ট্রাকে যাত্রার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘বাসে গেলে খরচ বেশি। তাছাড়া এখন অনেক বাস বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। সে কারণে ঝুঁকি জেনেও বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি’।
তবে তাদের মধ্যে দুএকজন জানান, চট্টগ্রাম পৌঁছে টিকিট পেলে বাসে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ অংশে বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের চাপ। তবে বাড়তি ভাড়া ও যাতায়াত খরচ কমাতে গিয়ে অনেক যাত্রী বেছে নিচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা। কেউ ট্রাকে, কেউ পিকআপভ্যানে, আবার কেউ মালবোঝাই গাড়িতে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ কম খরচে বাড়ি ফিরতে ট্রাক ও মালবাহী যানবাহনে যাতায়াত করছেন। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।
কেরানীহাটের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম বলেন, ‘মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানজট ও দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে যাত্রীরা সুযোগ পেলেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এ ছাড়া বেশিরভাগ যানবাহন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে। এক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশকে আরও কঠোর হতে হবে। কারণ সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী খবরের কাগজকে বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে মহাসড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাত্রী বহন বন্ধে অভিযানও চলছে। তবে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান খবরের কাগজকে বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও টহল জোরদার করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে যাত্রী বহন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অমিয়/