লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মিত মোল্লা সেতুর এপ্রোচ সড়কের কাজ এক বছরেও শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন নদীর দুই পাড়ের মানুষ ও যানবাহন।
এক বছর আগে এলজিইডি প্রায় ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ডাকাতিয়া নদীর ওপরে থাকা মোল্লার হাট সেতুর এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ কাজ করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করেন। ২০২৫ সালের জুনে ঠিকাদার সড়কটির কাজ শুরু করলেও এখনও শেষ করেনি।
ফলে দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নের লক্ষাধিক বাসিন্দা ছাড়াও রায়পুর উপজেলার আকনবাজার- মোল্লারহাট বাজার এবং রায়পুর ও লক্ষ্মীপুর শহরে যাতায়াতকারী মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে্ন।
এ অবস্থায় সেতুর এপ্রোচ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনের এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
দক্ষিণ চরবংশী ইউপির হাওলাদার স্টেশনের বাসিন্দা শিক্ষক মো. কাউছার হোসেন বলেন, ‘এপ্রোচ সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় সেতুটির উপকারভোগী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের উপজেলা সদরে কমপক্ষে ৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে । এতে এলাকার শিক্ষার্থী, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে উঠতে গিয়ে অনেকেই দূর্ঘটনার শিকার হয়েছেন’।
আকনবাজার এলাকার বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, ‘প্রায় ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সেতুর এপ্রোচ সড়ক না থাকায় চলাচল করতে গিয়ে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দার দুর্ভোগের শেষ নেই। কয়েকদিন পরপর শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে সাইট থেকে চলে যান, আবার কিছুদিন পর কাজ শুরু করেন। কাজ চলছে কচ্ছপের গতিতে। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাই’।
তিনি আরও জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও অবহেলায় কাজের ধীরগতি হচ্ছে। অল্প লোক দিয়ে কোনোমতে খুড়িয়ে খুড়িয়ে কাজ চলছে।
রায়পুর উপজেলা এলজিইডি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে আকনবাজার-মোল্লারহাট বাজার সড়কের ডাকাতিয়া নদীর উপর ১০০ দশমিক ১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নদীর উত্তর পাশে বন্যার ভাঙনে সেতুটির এপ্রোচ সড়ক নদীতে বিলীন হওয়ায় যাতায়াত বন্ধ হয়ে ।
পরে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজ’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫ দশমিক ৮ মিটার সেতুর দু'পাশের এপ্রোচ সড়ক সংস্কারের কাজ হাতে নেয় এলজিএডি। এ কাজের দায়িত্ব পান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আরমান ট্রেডার্স। স্থানীয় দক্ষিন চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরায়েজি বলেন, ‘সেতুর এপ্রোচ সড়কের কাজ গত এক বছরেও শেষ না হওয়ায় জনগণের চলাচলে খুবই ভোগান্তি হচ্ছে। বিশেষ করে চরের কৃষি পণ্য ও উপকরণ পরিবহনে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় ও কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে’।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আকবর হোসেন আরমান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন এবং বর্ষার কারণে কাজ শুরু করতে একটু বিলম্ব হয়েছে। চলতি জুন মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে’।
রায়পুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সুমন মুন্সি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে ‘জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেতুটির দুই পাশেই গাইড ওয়ালের ঢালাই হয়েছে। এক মাসের মধ্যে সেতুর দুপাশে এপ্রোচ সড়কের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি’।
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম/আজহার/