ছবি: খবরের কাগজ
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ৬৩ বছর বয়সী এক ভিক্ষুককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করার পর তার গলায় থাকা রুপার মালা ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দুইজন ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত এবং একজন ছিনতাই করা মালামাল কেনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) ভুক্তভোগী বৃদ্ধা শিবালয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে শনিবার (৩০ মে) দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ তেওতা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, উপজেলার দক্ষিণ তেওতা এলাকার আশরাফুল (২৬), রবিন ওরফে সোহেল রানা (২৭) এবং তেওতা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিতাই চন্দ্র পাল (৪৫)। চুরি যাওয়া রুপার মালা উদ্ধারসহ অভিযুক্তদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী বৃদ্ধা একজন ভিক্ষুক। ঘটনার দিন তিনি স্থানীয় একটি বাজারে ভিক্ষা করছিলেন। এ সময় আশরাফুল ও রবিন তার কাছে এসে জানান, রবিনের মা তাকে কিছু দেওয়ার জন্য বাড়িতে ডাকছেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি একটি ইজিবাইকে করে তাদের সঙ্গে রওনা দেন। তবে অভিযুক্তরা তাকে বাসায় না নিয়ে, দক্ষিণ তেওতা এলাকায় তৈয়বের বাঁশবাগানে নিয়ে যান। সেখানে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ধর্ষণের সময় আশরাফুল ভুক্তভোগীর গলায় থাকা প্রায় ১ ভরি ১৪ আনা ওজনের একটি রুপার মালা চুরি করে নেন। ঘটনার বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে বিষয়টি স্বজনদের জানালে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে ষাইটঘর বাজার এলাকা থেকে আশরাফুল ও রবিনকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা চুরি হওয়া রুপার মালা তেওতা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিতাই চন্দ্র পালের কাছে বিক্রির কথা স্বীকার করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিতাই চন্দ্র পালকেও গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া রুপার মালা উদ্ধার করে।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। ধর্ষণের কারণে দুইজনকে আর চোরাই গয়না কেনার কারণে ক্রেতাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
আসাদ/নাঈম