ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদ্রাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ভাইরাল ভেড়া অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ‘মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি’- ড্রেসিংরুমে ইরানের বার্তা যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭ আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হবে ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে আগুন অসংক্রামক রোগের আগ্রাসন মোকাবিলায় ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে অভ্যন্তরীণ রুটে ১৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয়: তথ্যমন্ত্রী শিবপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ সাতকানিয়ায় মিলল মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১৬টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নোবিপ্রবিতে শিক্ষামন্ত্রী

ভোগান্তি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিন নাগরিক সেবায় স্থবিরতা

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২২ পিএম
নাগরিক সেবায় স্থবিরতা

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) বর্তমান প্রশাসন চলছে ঢিমেতালে। প্রতিষ্ঠান দুটি এখন জনবল সংকটে ভুগছে। চোখে পড়ার মতো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতেও দেখা যাচ্ছে না কর্তৃপক্ষকে। নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ জটিলতা ও দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় ভোগান্তির শেষ নেই নগরবাসীর। ওয়ার্ড পর্যায়ে যে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সেবা ব্যবস্থাকেও অকার্যকর করে তুলেছে। প্রভাব পড়েছে নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে। মশক নিধন কার্যক্রম নিয়মিত না হওয়ায় এবং মাঠপর্যায়ে কেউ তদারকি না করায় প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বিভিন্ন এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি অসম্পূর্ণ থাকায় রাজধানীতে স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোথাও গর্ত, কোথাও জলাবদ্ধতা এসব নিয়ে নাগরিকদের প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তদারকি ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ব্যাহত হওয়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতিও নাজুক হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, উত্তরাধিকার সনদ, বয়স্ক ও বিধবা ভাতার প্রত্যয়নপত্রের জন্য প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরবাসী। সচিবদের সঙ্গে স্থানীয়দের কোনো সম্পর্ক বা চেনা-জানা না থাকায় দিনের ফাইল দিনে ছাড় হচ্ছে না। এর ফলে কাজে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। রাজস্ব আদায়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে সিটি করপোরেশনকে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেকও সংগ্রহ করতে পারেনি সংস্থা দুটি। এতে মৌলিক সেবা খাতে ব্যয় কমে গেছে। জরুরি প্রকল্পগুলোও আটকে আছে, অনেক কাজেই দেখা দিয়েছে ধীরগতি। এতে নগরবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কাঠামোর অনুমোদিত পদের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তার পদ শূন্য। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩ হাজার ১৬৬টি অনুমোদিত পদের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার পদই খালি। গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোয় নেই যথাযথ কর্মকর্তা। উত্তর সিটি করপোরেশনের চিত্রও একই। ২ হাজার ৬৮০টি পদের মধ্যে প্রায় ১ হাজারের মতো পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদসহ নগর ভবনের বহু দপ্তরে নিয়মিত কর্মকর্তা নেই। এই পরিস্থিতিতে ফাইল অনুমোদন, মাঠপর্যায়ের তদারকি ও নাগরিক সেবা- কোনোটিই সময়মতো শেষ করা যাচ্ছে না। 
নগর ব্যবস্থাপনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হলো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে জনপ্রতিনিধি না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। বর্জ্য অপসারণ, রাস্তা সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা সবই প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। এদিকে দুই সিটি করপোরেশনের মশা নিধন কার্যক্রম নেই বললেই চলে। মাঠপর্যায়ে কেউ তদারকি না করায় প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। নেতৃত্বের অস্থিতিশীলতা, পদশূন্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতায় কার্যত দিশেহারা প্রতিষ্ঠান দুটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। দুই সিটি করপোরেশনের গতিশীলতা আনতে এবং নাগরিক সেবায় বিপর্যয় ঠেকাতে সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে- এটিই প্রত্যাশা।

অনিশ্চয়তায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:২১ এএম
সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশ্রয়শিবিরে থাকা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিরাপদে নিজ ভূমিতে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে মাত্র কয়েক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তী সময়ে নতুন করে আরও দেড় লাখের মতো রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে এ দেশে প্রবেশ করে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর জন্য এখন অর্থায়নের ক্ষেত্রে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। একদিকে মায়ানমারের চলমান সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এমন এক কঠিন বাস্তবতায় পালিত হয়েছে বিশ্ব শরণার্থী দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের যুদ্ধ, সংঘাত, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বাস্তচ্যুত মানুষের প্রতি সংহতি জানাতে দিবসটি পালিত হয়। দিবসটি প্রতিবছর ঘটা করে পালিত হলেও দীর্ঘ ৯ বছরেও তাদের প্রত্যাশা অধরাই রয়ে গেছে।

কিছুদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলো এখন অনিরাপদ জনপদে পরিণত হয়েছে। একদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর দৌরাত্ম্য, অপহরণ ও চাঁদাবাজিতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের জীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে দারিদ্র্য ও মানবিক সহায়তার সীমাবদ্ধতায় শরণার্থীদের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘জয়েন্ট প্রোটেকশন মনিটরিং রিপোর্ট এবং ইন্টার-সেক্টর নিডস অ্যাসেসমেন্ট-২০২৫’ প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এক ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। একই সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে শরণার্থীদের করুণ অবস্থার নির্মম চিত্র। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ক্যাম্পে অন্তত ৩২৪টি গুরুতর জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার রেকর্ড পাওয়া গেছে, যা সরাসরি ৫১০ জন রোহিঙ্গাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর মধ্যে ১৫৮টি অপহরণ বা গুম, ৭৫টি গুরুতর শারীরিক লাঞ্ছনা, ৫১টি চাঁদাবাজি, ১৮টি গোলাগুলি এবং দুজন হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত প্রান্তিকের তুলনায় মোট ঘটনার সংখ্যা ১৯ শতাংশ কমলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার অর্থ অপরাধের তীব্রতা ও ব্যাপ্তি আগের চেয়ে বেড়েছে।

সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আশ্রয়দাতা এলাকার জনজীবনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতিতে বনভূমি উজাড়, পরিবেশের ভারসাম্যহানি, শ্রমবাজারের মজুরি কমে যাওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের বিষয়টি সমর্থন করেন, তবে সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান দেখতে চান। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানের কারণে পরিবেশ, অর্থনীতি ও সামাজিক জীবনে চাপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রাও এখন প্রত্যাবাসনের কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান।

এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় সেখানে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তাদের আশ্রয় দিলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অধরাই। তবু বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গারা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছে। রাখাইন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও যুদ্ধাবস্থা এখনো প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। সে কারণে সরকারকে একই সঙ্গে নিরাপদ স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখা জরুরি। এদিকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা না গেলে প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম
অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

সম্প্রতি দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর বেশ কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। যারা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তাই এখন হুমকির মুখে। অপরাধীদের ধরতে গিয়ে তারা নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নিখোঁজ এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধারে গেলে স্থানীয় লোকজন পুলিশের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায়। স্থানীয় লোকজন আটক ব্যক্তিদের ঘর পুড়িয়ে দেয়। এ হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর), পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যসহ ৩০ থেকে ৩৫ জন। ভাঙচুর করা হয়েছে সরকারি ছয়টি গাড়ি। এদিকে রাজধানীর আদাবরে একজন বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযানে গেলে দুর্ধর্ষ হামলার শিকার হন থানার ওসি এবং একজন এসআই। একপর্যায়ে পুলিশের পাল্টা গুলিতে সন্দেহভাজন দুই ছিনতাইকারী আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা খবরের কাগজকে জানান, এ এলাকায় ছিনতাইকারী চক্র এতটাই বেপরোয়া ও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে যে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও ভয় পায় না। প্রকাশ্যেই ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে। টার্গেট করে হামলা চালায় এবং সবকিছু কেড়ে নেয়। সামান্য বাধা পেলেই তারা প্রকাশ্যে মানুষকে কুপিয়ে জখম করে। মাঝেমধ্যে ছিনতাইকারী-মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও কয়েক দিনের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। এভাবে এলাকায় ছিনতাইকারীরা নির্বিঘ্নে তাদের অপরাধকাজ চালিয়ে যেতে পারে।

গত ১৮ জুন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের তিন সদস্য। পরে আড়াইহাজার থানার পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অপরদিকে স্থানীয়দের দাবি, তারা পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করত। এ ক্ষেত্রে পুলিশের দাবি, তারা একটি মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে। গত শুক্রবার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নে এক শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতার হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কিশোরগঞ্জ-ভৈরব মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এভাবে সারা দেশে প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা চলছে এবং তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই (জানুয়ারি-মে) পুলিশের ওপর অন্তত ২৬৮টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর চলতি মাসের মাঝামাঝি বড় তিনটি ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত এ সংখ্যা ৮৭০ ছাড়িয়েছে। আসামি গ্রেপ্তার, অপরাধবিরোধী অভিযান কিংবা আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে এমন হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা।

আমরা লক্ষ করেছি, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পুলিশকে নিশানা করে হামলা করা হয়েছিল। সে সময়ে পুলিশের মনোবল চরমভাবে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হতে থাকে। পরে সরকার পুলিশের মনোবল বাড়ানোর জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন। যারা পুলিশের ওপর হামলা করছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা আশা করছি, সরকার অচিরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এ ধরনের হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকে এবং তাদের নিরাপত্তা সর্বাগ্রে স্থান পায়।

ছড়িয়ে পড়ছে এইডস প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি

দেশে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশে এইডসে আক্রান্ত ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। সামাজিক কুসংস্কার ও লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি অনেকে গোপন রাখেন, চিকিৎসা করাতে চান না। ফলে ক্রমেই এ সংক্রমণ অজান্তে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এইচআইভি এখন শহরেই শুধু সীমাবদ্ধ নেই, এর বিস্তার ঘটেছে গ্রাম পর্যায়েও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস, যা মানব দেহের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে আক্রমণ করে। চিকিৎসা না নিলে সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়ে এইডস দেখা দেয়। বর্তমানে এ রোগের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। চিকিৎসার মাধ্যমে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং আক্রান্ত ব্যক্তিও দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।

চলতি বছর দেশে জেলা পর্যায়ে সমকামী তরুণদের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে আসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে দেখা যায় এইডস সংক্রমণের ভয়াবহ চিত্র। খবরের কাগজের বরিশাল প্রতিবেদক জানান, জেলার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ৩ হাজারের বেশি মানুষের রক্ত পরীক্ষা করে ২০ জনের শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনই উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে অবিবাহিত তরুণ-তরুণীদের হার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালে নতুন শনাক্তদের মধ্যে অবিবাহিতের হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই শ্রেণিতে সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এই হার চলতি বছর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি) কন্ট্রোল প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে ১ হাজার ৪৩৮ জন নতুন এইচআইভি আক্রান্ত শনাক্ত হয়। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৯১ জনে, যা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। ২০২৫ সালে এইডসে ২৫৪ জন মারা যান। অন্যদিকে চলতি বছরও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। বছরের মাঝামাঝি আক্রান্তের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। সংক্রমিতদের বড় অংশের বসবাস ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, খুলনা ও সিলেট অঞ্চলে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে অনুমিত এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার ৫০০। এর মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৩১৩। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৮ হাজার ৫৭৫ জন চিকিৎসার আওতায় এসেছেন। অর্থাৎ শনাক্ত রোগীদের প্রায় ৭৪ শতাংশ চিকিৎসা পাচ্ছেন। এখনো ২৬ শতাংশ রোগী চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব, সামাজিক লজ্জা ও কলঙ্ক, পর্যাপ্ত পরীক্ষা সুবিধার সংকট এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। অন্যদিকে বিদেশগামী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। যা সংক্রমণ শনাক্তকরণকে আরও কঠিন করে তুলছে।

দেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার বর্তমানে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শুধু চিকিৎসা দিলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। এ ছাড়া গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করতে হবে, যাতে সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী এইডসের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবগত হতে পারে।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা জরুরি জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের স্বপ্ন বহুদূর

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দশমিক শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে অবস্থায় অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে গতি না এলে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাক্কলন জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে বৈশ্বিক সংকটে উত্তরাধিকার সূত্রে নির্বাচিত সরকার শিল্প-বিনিয়োগ-ব্যবসা-বাণিজ্যে কতটা গতি আনতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও আছে দশমিক শতাংশ ছাড়া অর্থনীতিতে একধরনের টানাপোড়েন চলছে দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে রপ্তানি আয়েও নিম্নমুখী প্রভাব লক্ষণীয় গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি ছিল গত মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দশমিক শতাংশ  নির্ধারণ করেছিল অবশ্য বিশ্বব্যাংকের ধারণা বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে শতাংশের কম এমনকি বৈশ্বিক অচলাবস্থা এবং ইরান-ইসরায়েল আমেরিকার সংঘাতের ফলে আগামী বছরও বিশ্ব অর্থনীতি ধীরগতিতে চলমান থাকবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে

দেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি, ঢাকা চেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্বব্যাংক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসার উচ্চ খরচকে বিনিয়োগ মন্থরতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় এবং মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি হ্রাস পেয়েছে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না উচ্চ সুদের হার ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করছে, জ্বালানি বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে মূল্যস্ফীতির চাপ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছেমূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিট থেকে কমলেও এখনো উচ্চপর্যায়ে  রয়েছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিনিয়োগের গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি কাঁচামালের উচ্চমূল্য আমাদের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে অবস্থায় অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আয়-ব্যয়ের যে বরাদ্দ ধরা হয়েছে, তা যদি ৭০-৮০ শতাংশ অর্জিত হয়, তাহলে জিডিপির প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব হবে না তবে সেটা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাজেটের পাশাপাশি শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুৎ সরবরাহ, ঋণের সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা, করকাঠামো সহজীকরণ; ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস; নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি রপ্তানি বহুমুখীকরণের বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতিতে সংকট চলছে এমন প্রেক্ষাপটেও বাংলাদেশের নতুন সরকার উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের এক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আগামীতে শিল্প-বিনিয়োগ-কর আদায় বাড়াতে পারলে প্রাক্কলন অর্জন সম্ভব বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব বাড়বে, এমন আশা করা সাহসের বিষয় তবে বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে

সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এটি একটি ইতিবাচক উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু বাজেট ঘোষণাই যথেষ্ট নয়, বরং সঠিকভাবে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে তাই বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারকে লক্ষ্য অর্জনে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে

শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি

সমস্যাটি আকস্মিকভাবে নয়, তৈরি হয়েছে দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতায়। স্মার্টফোনের আসক্তিতে আমাদের শিশু-কিশোররা ডুবে আছে। দিনের অধিকাংশ সময় তারা ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের ভার্চুয়াল জগতে আচ্ছন্ন থাকছে। এ জগৎ মূলত অলীক, বাস্তবের নয়; এমনকি সৃজনী-কল্পনার জগৎও নয়। বর্তমান প্রজন্ম এভাবে বন্দি থাকায় খেলাধুলা আর বইয়ের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অনেকেই ভুগছে মানসিক সংকটসহ নানা ধরনের অপরাধে। দেখা দিচ্ছে শারীরিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকট। একটা পুরো প্রজন্ম এখন প্রযুক্তির সুফল পাওয়ার চেয়ে প্রযুক্তির আগ্রাসনে বিপন্ন। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়ে এই সংকট এতটাই বিস্তৃতি পেয়েছে যে বিশ্ব গণমাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণের খবর বেরোচ্ছে। উন্নত দেশগুলোই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে সবার আগে। ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য নিষিদ্ধ করছে স্মার্টফোনের ব্যবহার।

উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের মতো পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর পার্থক্য অনেক। মূল পার্থক্য শিশুদের সুরক্ষায় তাদের নানা ব্যবস্থা রয়েছে। আইনকানুনের পরিবর্তে পারিবারিক সামাজিক রাষ্ট্রিক পরিবেশ এমন যে শিশুরা সেখানে নিরাপদে বেড়ে ওঠে। এর পরও তারা স্মার্টফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। সেই তুলনায় আমাদের দেশে শিশু নিরাপত্তার বিষয়টি বেশ নাজুক। সামাজিক ও পরিবেশগত নিরাপত্তার অভাবে শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। এ রকম পরিস্থিতিতে স্মার্টফোনের ব্যবহার তাদের আরও অনিরাপদ করে তুলছে। তারা মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশে এখন শিশু-কিশোরদের জন্য স্মার্টফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা জরুরি। শিশু-কিশোরদের নানামুখী সংকট যেভাবে বাড়ছে, তাতে এর কোনো বিকল্প নেই।

স্মার্টফোন হাতে পেলে শিশু-কিশোররা প্রথমেই সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি আসক্ত হয়। ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, টিকটক ও ইউটিউবে সময় কাটায়। স্কুলের সময়টা যেভাবেই হোক, বাকি সময় এসবে বুঁদ হয়ে থাকে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীকে তাৎক্ষণিক তৃপ্তি দেয়। প্রায় সম্পূর্ণ মনোযোগ স্মার্টফোনে নিবদ্ধ থাকে। খেলাধুলা না করায় শরীর স্থূল হয়ে পড়ে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দেয়, পড়াশোনায় ঘাটতি পড়ে, সৃজনীক্ষমতা লুপ্ত হতে থাকে।

বিশ্বজুড়ে সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল হয়রানি একধরনের স্বাভাবিক প্রবণতা হয়ে উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের যৌন হয়রানিও ঘটে। কিছুদিন আগে এই অপরাধে বাংলাদেশের একজনকে মালয়েশিয়া থেকে আটক করে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। কোমলমতি ছেলেমেয়েদের কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক-মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কাছাকাছি চলে আসায় হার্দ্রিক টানাপোড়েনেরও শিকার হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা ঘটছে। এতে বাড়ছে মানসিক সংকট, ব্যাঘাত ঘটছে পড়াশোনায়। পরিবারের সদস্যরা পরস্পরকে যদি বেশি সময় দেয়, তাহলে পারিবারিক বন্ধন স্বাভাবিক থাকে। ভার্চুয়াল জগতে শিশু-কিশোররা বেশি সময় কাটানোর জন্য এই বন্ধনও এখন অনেকটাই শিথিল, বিশেষ করে নগরজীবনে। একসময় রূপকথার বই বা অন্য সৃজনশীল বই পড়ে শিশুরা বেড়ে উঠত। স্মার্টফোনের কারণে এই অভ্যাস এখন উঠেই গেছে। বই পড়ার পরিবর্তে ফেসবুকে সময় কাটাতে ভালোবাসে শিশুরা। অপরাধ জগতেও তাদের প্রবেশ ঘটছে সহজেই। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপত্তির উৎস এই স্মার্টফোন।

সোশ্যাল মিডিয়ার এই আসক্তি এখন বিশ্বজনীন সমস্যা। শিশু সুরক্ষায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা অনুসারে ১৬ বছরের কম বয়সীরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবে না। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে, ইংল্যান্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় শিশুদের প্রবেশাধিকার প্রতিরোধ করার জন্য নিজস্ব পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে। আমাদের দেশেও এখন এই বয়সী শিশুদের জন্য এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে। খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই অভিমতই দিয়েছেন দেশের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিটও করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের এর হাত থেকে রক্ষা করা না গেলে একটা প্রজন্ম ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। নিষিদ্ধের বিষয়টি এখনই ভেবে দেখা প্রয়োজন। তবে এককভাবে নয়, এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। আমরা মনে করি, সরকারের একার পক্ষে এটা নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়। অভিভাবক, শিক্ষক, পুলিশ, সমাজপতিদের সম্মতি ও গণমাধ্যমের প্রচারের সম্মিলিত উদ্যোগেই এটা নিষিদ্ধ করা সম্ভব। সরকার এ জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে পারে। অন্য দেশগুলো যেহেতু অনেক ভেবেচিন্তে, গবেষণা করে নিষিদ্ধ করেছে, আমাদেরও শিশু-কিশোরদের জন্য নিষিদ্ধ করা জরুরি।