গল্প: মাসি-পিসি
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন-৩. আহ্লাদিকে দেখে কী কারণে বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদিকে দেখে তার নিজের মেয়ের পরিণতির কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে। আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোট মেয়েটাকে রহমান বিয়ে দিয়েছিল। অবুঝ মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি না যাওয়ার জন্য খুব কেঁদেছিল। কিন্তু তার ভালোর জন্যই তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়ি পাঠায় রহমান। সেখানে গিয়ে অল্পদিন পরেই শ্বশুরবাড়ির লোকদের অত্যাচারে মেয়েটা মারা যায়। একই সমস্যার শিকার আহ্লাদিকে দেখে মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে। বিষয়টিতে অসহায় পিতার করুণ কান্না যেন গুমড়ে উঠেছে।
প্রশ্ন-৪. বুড়ো রহমান খড়ের আঁটি তুলে দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে আহ্লাদির দিকে তাকায় কী কারণে?
উত্তর: ‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদির ফ্যাকাশে মুখে নিজের মেয়ের মুখের ছাপ দেখতে পায় বলে বুড়ো রহমান খড়ের আঁটি তুলে দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে আহ্লাদির দিকে তাকায়। আহ্লাদির মতো বুড়ো রহমানের মেয়েও শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার। সেও শ্বশুরবাড়িতে ফেরত যেতে চায়নি, কিন্তু তাকে ফেরত পাঠানো হয় এবং শ্বশুরবাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। তাই রহমান যখন কৈলাশ ও মাসি-পিসির মধ্যে আহ্লাদির অত্যাচারী স্বামীর বাড়িতে ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গে কথোপকথন শোনে, তখন সে আহ্লাদির ফ্যাকাশে মুখে তার মেয়ের মুখের ছাপ দেখতে পায়। তাই বারবার সে আহ্লাদির দিকে তাকায় এবং তার নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে যায়। মৃত মেয়ের প্রতি মমত্ববোধ থেকেই রহমানের এমন অনুভূতি জাগ্রত হয়।
প্রশ্ন-৫. ‘সোয়ামি নিতে চাইলে বৌকে আটকে রাখা আইনে নেই।’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘মাসি-পিসি’ গল্পে মাসি-পিসিকে ভয় দেখিয়ে আহ্লাদিকে স্বামী জগুর কাছে পাঠানোর কৌশল হিসেবে কৈলাশ এ উক্তি করেছে। আহ্লাদি স্বামীর বাড়িতে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হতো। স্বামীর নির্যাতনে তার মৃত্যুর আশঙ্কায় মাসি-পিসি তাকে শ্বশুরবাড়ি না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে স্বামী জগুর লোভ ছিল স্ত্রীর সম্পত্তির প্রতি। এ সম্পত্তির লোভে সে স্ত্রীকে ফিরে পেতে চায়। তাই সে কৈলাশকে দিয়ে মাসি-পিসিকে মামলার ভয় দেখায়। মামলা করলে মাসি-পিসির জেল হবে বলে কৈলাশ জানায়। পুরো বিষয়টি ছিল মাসি-পিসিকে ভয় দেখানোর জন্য।
আরো পড়ুন : মাসি-পিসি গল্পের ২টি অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন-৬. ‘মরবে তোমরা জানো মাসি, জানো পিসি, মারা পড়বে তোমরা একেবারে।’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘মাসি-পিসি’ গল্পে মাসি-পিসিকে মামলা ও জেলের ভয় দেখিয়ে আহ্লাদিকে স্বামী জগুর কাছে পাঠানোর কৌশল হিসেবে কৈলাশ উক্তিটি করেছে। স্বামীর বাড়িতে আহ্লাদির নির্যাতনের সীমা ছিল না। স্বামীর নির্যাতনে তার মৃত্যুর আশঙ্কায় মাসি-পিসি তাকে শ্বশুরবাড়িতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কলকে পোড়া ছ্যাঁকা, না খাইয়ে রাখায় আহ্লাদি মর-মর হয়ে বাবার বাড়ি ফেরে। স্বামী জগুর লোভ ছিল স্ত্রীর সম্পত্তির প্রতি। এ সম্পত্তির জন্য স্ত্রীকে ফিরে পেতে সে কৈলাশকে দিয়ে মাসি-পিসিকে মামলার ভয় দেখিয়েছে। মামলা করলে নাকি এবার মাসি-পিসি মারা পড়বে। এসব ভয় দেখিয়েও মাসি-পিসিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। জগুর অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
প্রশ্ন-৭. ‘মরণ ঠেকাতেই ফুরিয়ে আসছে তাদের জীবনীশক্তি।’ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘মাসি-পিসি’ গল্পের এ উক্তিটিতে দুর্ভিক্ষের সময় মাসি-পিসির জীবন-সংগ্রামের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। ‘মাসি-পিসি’ গল্পে দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্যের অভাব তীব্র হয়ে ওঠে। তার মধ্যে জগুর লাথির চোটে নির্যাতিত আহ্লাদি এসে হাজির হয়। খেয়ে না খেয়ে মাসি-পিসি আহ্লাদিকে সুস্থ করার চেষ্টা করে। কিন্তু আহ্লাদির অবস্থা আরও খারাপের দিকে যায়, কারণ কলেরায় তার বাবা-মা-ভাই মারা যায়। অন্যদিকে, চারপাশের মানুষ না খেয়ে মরতে শুরু করে। ফলে জীবন বাঁচাতে মাসি-পিসিকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। মাসি-পিসির মতো যারা সে যাত্রায় বেঁচে যায়, তাদের অবস্থা বোঝাতেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে। দুর্ভিক্ষের নিদারুণ করুণ পরিস্থিতি এখানে উপজীব্য হয়েছে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক বাংলা
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা
কবীর