অনুচ্ছেদ লিখন
২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, যা ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে পরিচিত, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই গণ-অভ্যুত্থান ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলে, যেখানে অসংখ্য মানুষ তাদের প্রাণ বিসর্জন দেন এবং ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ৫ জুন, যখন হাইকোর্ট ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবরের কোটা সংস্কার পরিপত্রকে অবৈধ ঘোষণা করে। এর ফলে কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন করে জোরদার হয়। সরকারের দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায় এই আন্দোলন অসহযোগ আন্দোলনে রূপ নেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালাতে বাধ্য হন। এরপর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এই অভ্যুত্থানে
আরো পড়ুন : বাংলাদেশের কৃষক বিষয়ক অনুচ্ছেদ লিখন, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি
ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে, যা স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রূপ নেয়। আন্দোলনের সময় সহিংসতায় পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ প্রায় ১ হাজার জন শহিদ হন। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করে শহিদদের স্মরণ করেন এবং ঐক্যের আহ্বান জানান। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্দোলনে নাহিদ, হাসনাত, সারজিসসহ নেতারা ‘ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি’ (এনসিপি) নামে ১৫১ সদস্যের সমন্বয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন, যা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দিগন্তের সূচনা করে। এই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের যে স্পিরিট রয়েছে, তা ধারণ করে কাজ করলে নতুন বাংলাদেশের বিনির্মাণে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকের বিশ্বাস।
লেখক : সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা)
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা
কবীর