উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ তথা বিশ্ববাণিজ্যের সংযোগস্থল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫২তম স্বাধীনতা দিবস মহাআড়ম্বরে উদযাপিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের ২ ডিসেম্বর ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত স্বাধীনতা লাভ করে।
আমিরাতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ, রাস-আল-খাইমা, ফুজিরাহ, আল-আইনে সাজানো হয়েছে বাহারি রূপে। আরবের অধিবাসীদের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও আমিরাতের শেখদের ছবি ও পতাকা দিয়ে নিজেদের গাড়ি সাজিয়ে শোভাযাত্রা করেছেন।
বেলুন আর পতাকা দিয়ে অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে আমিরাতের বড় বড় শপিংমল, প্রধান প্রধান সড়ক, সুউচ্চ বিল্ডিং, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও বড় বড় শপিংমলে দিবসটি উপলক্ষে উৎসবের আমেজ লক্ষণীয়। ভিন্ন তালিকায় ন্যাশনাল ডে ফ্যাশন শোসহ আরব সংস্কৃতি-ঐতিহ্যের নানা রকম আয়োজন।
এ বছর আরব আমিরাতের ৫২তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে তিন দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে আগামী ২ ডিসেম্বর (শনিবার) থেকে ছুটি শুরু হয়ে শেষ হবে (৪ ডিসেম্বর) সোমবার। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) থেকে আবার কার্যক্রম শুরু হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (আরবি দাওলাৎ আল্-ঈমারাৎ আল্-আরবিয়াহ্ আল্-মুত্তাহিদাহ্) মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সাতটি স্বাধীন রাষ্ট্রের একটি ফেডারেশন। এগুলো এক সময় চুক্তিবদ্ধ রাষ্ট্র বা ট্রুসিয়াল স্টেটস নামে পরিচিত ছিল। ১৯৭১ সালে এগুলো স্বাধীনতা লাভ করে। প্রতিটি আমিরাত একটি উপকূলীয় জনবসতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এবং ওই লোকালয়ের নামেই এর নাম। আমিরাতের শাসনকর্তার পদবি আমির। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাতটি আমিরাতের নাম হলো আবুধাবি, আজমান, দুবাই, আল ফুজাইরাহ, রাআস আল খাইমাহ, আশ শারজাহ্ এবং উম্ম আল ক্বাইওয়াইন। আবুধাবি শহর ফেডারেশনের রাজধানী ও দুবাই দেশের বৃহত্তম শহর।
সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি মরুভূমি দেশ। এর উত্তরে পারস্য উপসাগর, দক্ষিণ ও পশ্চিমে সৌদি আরব এবং পূর্বে ওমান ও ওমান উপসাগর। ১৯৫০-এর দশকে পেট্রোলিয়াম আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত মূলত ব্রিটিশ সরকারের অধীন কতগুলো অনুন্নত এলাকার সমষ্টি ছিল। খনিজ তেলশিল্পের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর দ্রুত উন্নতি ও আধুনিকায়ন ঘটে। ফলে ১৯৭০-এর দশকের শুরুতে আমিরাতগুলো ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে আসতে সক্ষম হয়।
দেশের খনিজ তেলের বেশির ভাগ আবুধাবিতে পাওয়া যায়। ফলে এটি সাতটি আমিরাতের মধ্যে সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী। তেলশিল্পের কারণে এখানকার অর্থনীতি স্থিতিশীল এবং জীবনযাত্রার মান বিশ্বের সর্বোচ্চগুলোর একটি। মুসলিম বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত শীর্ষে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ৩১তম দেশ।
আরব আমিরাতে রয়েছে অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন ও গগনচুম্বী ভবন। স্বাধীনতার পর খুব কম সময়ে আরব আমিরাত বিশ্বের অন্যতম ধনী ও সুন্দর রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
অমিয়/