বাহরাইনের মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযথ মর্যাদায় ও আনন্দমুখর পরিবেশে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে বাহরাইনের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা, সাংবাদিক, বিদেশি অতিথি ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাণী পাঠসহ উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদ, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী সব নেতাসহ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকসহ সব সেক্টরে শোষণ ও বৈষম্য দূর করে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরাপদ ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। আজ থেকে ৫৪ বছর আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমরা সেই গৌরবময় মহান স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছি।
এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত বাহরাইন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিকে এ দেশের সরকার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আসছে। আপনারা বাহরাইনের আইন-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। সব ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখবেন। বিদেশের মাটিতে যেন নিজ দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয় সেদিকে সবাই লক্ষ্য রাখবেন।’
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যের শেষে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদেরকে দল ও মতের বিবেদ ভুলে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দূতাবাসের পৃষ্ঠপোষকতায় বাহরাইনের বহুল প্রচারিত ইংরেজি Gulf Daily News (GDN) পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে যেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং রাষ্ট্রদূতের বাণী রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার, এনডিসি তার বাণীতে বাংলাদেশ ও বাহরাইনের মধ্যকার ১৯৭৪ সাল থেকে কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত নিয়ে আলোচনা করেন।
এ ছাড়া বাহরাইনের বাদশা এবং ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী আমাদের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা বাণী পাঠিয়েছেন।
বাঙালির স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সব পর্যায়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনকারী সব শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পপি/