ইরানের সঙ্গে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।
বুধবার (১০ জুন) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৬ সেন্ট বা ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৬০ সেন্ট বা ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়ায়।
গতকাল মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালায়।
বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেন, সবশেষ হামলার ফলে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আবারও যুদ্ধঝুঁকি এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের দিকে ফিরে গেছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সামরিক সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে নতুন করে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব যুক্ত হয়েছে।
এদিকে, তেহরান সতর্ক করে বলেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকলে তারা আবারও সংঘাতে জড়াবে। ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান বন্ধ না হওয়ায় বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আইএনজির পণ্য কৌশলবিদরা বলছেন, দ্রুত কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা না থাকায় এবং বৈশ্বিক তেলের বাজার প্রতিদিন আরও সংকুচিত হওয়ায় দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে এই বিঘ্ন যদি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত স্থায়ী হয়, যখন তেলের চাহিদা সাধারণত বেশি থাকে।
উল্লেখ্য, ইরান এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল সীমিত রেখেছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে। সূত্র: রয়টার্স
থিও/অমিয়/