ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী কুমিল্লায় ১৬০০০০ ইয়াবা জব্দ; আটক ৫ কাতার ম্যাচে ফিরছেন কানাডার অধিনায়ক আলফনসো ডেভিস আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবসে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে ‘ব্লেন্ডার’স চয়েস আনপ্লাগড’ আইসিইউতে চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার ভারতের ‘মাইকেল জ্যাকসন’, শাড়ি পরে মুনওয়াক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ফটিকছড়িতে গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণে অচলাবস্থা, বিদ্যুৎসংকট চরমে রাঙ্গুনিয়ায় ভবন থেকে পড়ে ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত? সোনারগাঁয়ে শপিংমলে আগুন, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা পাবনার আটঘরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে  যুবকের মৃত্যু আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সুন্দরবনে কুমিরের হামলায় নারী জেলের মৃত্যু সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন পেছাল ১২৭ বার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের জোক্সস, ‘ভাবছি মেসিকে ব্রাজিল দলে নিব’ প্রাথমিকে 'ম্যাথ ল্যাব' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ উন্নয়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়ব: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ পঞ্চগড়ে বালি-পাথরে পাওয়া গেলো মর্টার শেল অনুশীলনে ড্রোন আতঙ্ক, বিরক্ত কোরিয়ান কোচ হামে সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭১ রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও থানায় বিক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতে বইছে আগুনের স্রোত, ভাইরাল ভিডিও স্নায়ুচাপ কাটিয়ে জয়ে চোখ মেক্সিকো কোচের গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ
Nagad desktop

জার্মানিতে বাংলা ও বিশ্ব সাহিত্য চর্চা

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১২:১৭ পিএম
জার্মানিতে বাংলা ও বিশ্ব সাহিত্য চর্চা
ছবি: লেখক

বাংলা সাহিত্য বিশ্বে একটি অনন্য ঐতিহ্যের বাহক। দুই বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে - ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা অস্ট্রেলিয়ার শহরগুলোতে। প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিরা তাদের মাটির টান, ভাষার টান, এবং সাহিত্যিক আবেগকে সঙ্গে করে নিয়ে যান নতুন দেশে, নতুন জীবনে। সেই সূত্রেই জার্মানিতেও গড়ে উঠেছে এক প্রাণবন্ত বাংলা সাহিত্যচর্চার পরিবেশ। এটি শুধু প্রবাসীদের নস্টালজিয়া নয়; বরং এক সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতা - যা ভাষা, সাহিত্য, সংগীত ও সৃজনশীলতাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

জার্মানিতে বাংলা সাহিত্যচর্চার সূচনালগ্নকে এক অর্থে টেনে নেওয়া যায় বিশ শতকের প্রথম দিকে, যখন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইউরোপ সফরে গিয়েছিলেন। ১৯২০-এর দশকে তিনি বার্লিন ও মিউনিখে গিয়েছিলেন, জার্মান পণ্ডিতদের সঙ্গে সাহিত্য ও দর্শন বিষয়ে আলাপ করেছিলেন। সেই সফরের পর থেকে জার্মান বুদ্ধিজীবী মহলে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শনের প্রতি এক গভীর আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তাঁর কবিতা ও গীতিকবিতা জার্মান ভাষায় অনূদিত হতে শুরু করে। এটি ছিল দুই সংস্কৃতির এক মেলবন্ধনের শুরু, যা আজও প্রবাসী বাঙালিদের সাহিত্যচর্চায় এক অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।

সময় বদলেছে, কিন্তু বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা বদলায়নি। জার্মানিতে আজ যে সংখ্যক প্রবাসী বাঙালি বাস করেন, তাদের একটি বড় অংশ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও পেশাজীবনের কারণে এখানে স্থায়ী হয়েছেন। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক বন্ধন জিইয়ে রাখতে তারা নিয়মিত আয়োজন করছেন সাহিত্যসভা, কবিতাপাঠ, গল্প বলা, নাট্য আসর ও বইমেলার মতো অনুষ্ঠান।

ফ্রাঙ্কফুর্ট, বার্লিন, মিউনিখ, কোলন, হামবুর্গ - এই শহরগুলোতে এখন বাংলা সাহিত্যচর্চা এক বহুমাত্রিক রূপ পেয়েছে। বিশেষ করে ফ্রাঙ্কফুর্ট জার্মানিতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার এক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানেই নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয় বাংলা সাহিত্যসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বইমেলা।

ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রবাসী সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে অন্যতম সক্রিয় সংগঠন হলো ‘রবি সন্ধ্যা পাঠচক্র’। এই সংগঠনটি প্রতি মাসে এক রবিবারে সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক বৈঠকি আসর আয়োজন করে। সেখানে কবিতাপাঠ, গল্পপাঠ, আলোচনা, সংগীত, আবৃত্তি ও নাট্যপাঠের মাধ্যমে প্রবাসী বাঙালিরা তাদের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটান। এই পাঠচক্রের বিশেষত্ব হলো, এখানে শুধু বাংলাদেশ বা ভারতের বাঙালিরাই নয়, বরং অন্যান্য ভাষায় সাহিত্যচর্চার কেন্দ্র। ফলে এটি হয়ে উঠেছে এক আন্তঃসংস্কৃতিক মেলবন্ধনের প্ল্যাটফর্ম।

আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো ‘গল্পঘর’, যা মূলত একটি অনলাইন সাহিত্য প্ল্যাটফর্ম। প্রবাসের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে তারা ভার্চুয়ালি সাহিত্যিকদের সংযুক্ত করছে। গল্পঘর সম্প্রতি ফ্রাঙ্কফুর্টে একটি অসাধারণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে, যেখানে সারা ইউরোপের সদস্যরা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি ছিল এক রঙিন উৎসব - নাচ, গান, আবৃত্তি, নাট্যাংশ ও কবিতার আবেশে ভরা। এমন আয়োজন প্রবাসী সমাজে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট আন্তর্জাতিক বইমেলা বিশ্বের সবচেয়ে বড় বইমেলা হিসেবে সুপরিচিত। প্রতি বছর এই মেলায় বিশ্বের প্রায় সব ভাষার বই প্রদর্শিত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলা বইও সেখানে জায়গা করে নিয়েছে, যা প্রবাসী বাঙালিদের গর্বের বিষয়। ২০২৪ সালে ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিত হয় একটি বাংলা বইমেলা, যা ছিল প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ও ভারতের বহু প্রকাশনী এতে অংশগ্রহণ করে। আগামী প্রকাশনী, অন্যপ্রকাশ, অঙ্কুর প্রকাশনী, বাতিঘর, আনন্দ পাবলিশার্স, পত্রভারতী ইত্যাদি নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

কলকাতা ও ঢাকা থেকেও অনেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন। নামকরা প্রকাশক ও সাহিত্যিকরা পাঠান শুভেচ্ছাবার্তা। আনন্দ পাবলিশার্স ও পত্রভারতীর মতো বিখ্যাত সংস্থা এই মেলায় ভার্চুয়াল উপস্থিতি জানান দেয়। মেলায় ছিল নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, আলোচনাসভা, কবিতাপাঠ এবং প্রবাসী লেখকদের বই প্রকাশ। এই বইমেলা শুধু বই বিক্রির জায়গা নয়; এটি হয়ে উঠেছিল এক মিলনমেলা - ভাষা, সাহিত্য, এবং দেশপ্রেমের এক উৎসব।

জার্মানির মাটিতে বাংলা সাহিত্য যে কতটা সমাদৃত, তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিশিষ্ট সাহিত্যিকদের আগমন থেকেই। বিগত তিন দশকে ফ্রাঙ্কফুর্ট ও বার্লিনে অতিথি হিসেবে এসেছেন বাংলা সাহিত্যের বহু প্রখ্যাত লেখক। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, নবনীতা দেবসেন, দিব্যেন্দু পালিত, হুমায়ূন আহমেদ, সৈয়দ শামসুল হক, ইমদাদুল হক মিলন প্রমুখ। তাদের উপস্থিতি জার্মানির সাহিত্যচর্চায় এক নতুন প্রেরণা এনে দিয়েছে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও নবনীতা দেবসেন একসময় রবি সন্ধ্যা পাঠচক্রের অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নেন। যা আজও প্রবাসী বাঙালিদের স্মৃতিতে অম্লান।

জার্মানিতে প্রবাসী লেখক-লেখিকাদের মধ্যে কেউ কেউ নিয়মিতভাবে লিখছেন ছোটগল্প, কবিতা, প্রবন্ধ কিংবা উপন্যাস। তাদের লেখা প্রকাশিত হচ্ছে অনলাইন ম্যাগাজিন, ফেসবুক সাহিত্য গ্রুপ, এবং বিভিন্ন ই-ম্যাগে। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে ছোট পত্রিকা প্রকাশ করছেন, যা বাংলা ভাষার প্রচার ও প্রবাসী সৃজনশীলতার এক দৃষ্টান্ত। নতুন প্রজন্মের বাঙালি তরুণ-তরুণীরাও এখন বাংলা লেখালেখির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন, বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা বাংলা কবিতা, রিভিউ, ও ব্লগ লিখে নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করছেন।

প্রবাস জীবনের বাস্তবতা অনেক সময় ভাষার চর্চাকে কঠিন করে তোলে। দ্বিতীয় প্রজন্মের বাঙালিদের অনেকেই জার্মান ভাষায় বড় হচ্ছে, কিন্তু তাদের বাংলা শেখানোর জন্য অভিভাবকরা উদ্যোগ নিচ্ছেন। সেই প্রয়াসের অংশ হিসেবে দেশ বাংলা স্কুল, রবিবারের পাঠচক্র ও সাহিত্য সভাগুলো এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব অনুষ্ঠানে শিশুদের কবিতা আবৃত্তি, নাট্যাভিনয় ও গান শেখানো হয় - যা তাদের মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলে।

আজকের জার্মানিতে বাংলা সাহিত্যচর্চা আর কেবল প্রবাসীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন সংযোগ, সামাজিক মাধ্যম এবং ডিজিটাল প্রকাশনার ফলে জার্মানির বাঙালি লেখকরা সরাসরি ঢাকা ও কলকাতার সাহিত্যাঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তারা অংশ নিচ্ছেন ভার্চুয়াল সাহিত্য উৎসব, কবিতা পাঠ প্রতিযোগিতা, এবং অনলাইন ম্যাগাজিন সম্পাদনায়। এভাবে বাংলা সাহিত্য এক নতুন বৈশ্বিক পরিচয়ে বিকশিত হচ্ছে - যেখানে প্রবাসী অভিজ্ঞতা, বহুসাংস্কৃতিক প্রভাব, এবং স্মৃতির আবেগ মিলেমিশে সৃষ্টি করছে নতুন ধারা।

জার্মানিতে বাংলা সাহিত্যচর্চা আজ এক সজীব ও সৃজনশীল আন্দোলন। এটি শুধু ভাষার চর্চা নয়, বরং প্রবাসে বাঙালিত্বের অস্তিত্ব রক্ষার এক নিরন্তর প্রয়াস। রবি সন্ধ্যা পাঠচক্র, গল্পঘর, নিস্বন কিংবা প্রবাসী লেখকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ - সবকিছু মিলে এটি হয়ে উঠেছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল। এখানকার প্রতিটি সাহিত্যসভা, প্রতিটি বইমেলা, প্রতিটি আবৃত্তি যেন প্রমাণ করে - ‘আমরা ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখি, কারণ ভাষাই আমাদের আত্মপরিচয়।’

প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চা তাই কেবল সাহিত্য নয়, এটি এক স্মৃতি, এক মমতা, এক সেতুবন্ধন - যা বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে জার্মানির প্রবাসী জীবনের সম্পর্ককে করে তুলেছে আরও গভীর, আরও মানবিক, আরও আলোময়।

প্রধান সম্পাদক, শুদ্ধস্বর ডটকম

মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:২৩ এএম
মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

বাহরাইনের মানামায় বাংলাদেশ দূতাবাসে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ারের সভাপতিত্বে বাংলাদেশে দূতাবাসের হলরুমে এ গণশুনানি হয়। 

এ অনুষ্ঠানে সাধারণ প্রবাসীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতাসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার তার বক্তব্যে গণশুনানিতে উপস্থিত সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণশুনানির মাধ্যমে দূতাবাস সরাসরি প্রবাসী কর্মীদের সমস্যা সর্ম্পকে অবহিত হতে পারবে। দূতাবাসের কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে প্রবাসীদের গঠনমূলক পরামর্শ দূতাবাসের সেবার মানকে আরও ত্বরান্বিত করবে। এছাড়া, তিনি কোনো সমস্যা হলে সরাসরি দূতাবাসের অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

রাষ্ট্রদূত সকলকে বাহরাইনের আইন-কানুন মেনে চলা এবং বৈধভাবে এই দেশে অবস্থান করার অনুরোধ জানান।

বিদেশের মাটিতে কারও দ্বারা যেন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখার পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ জানান।

এ গণশুনানিতে যোগদানের জন্য দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রবাসীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বাহরাইনে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত শতাধিক প্রবাসী এই অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রবাসীরা দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের কাছে সরাসরি তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। 

এ সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রশ্নের তাৎক্ষণিক সমাধান দেন। প্রবাসীরা তাদের প্রস্তাবনা, মতামত, অভিযোগ, পরামর্শ সরাসরি ই-মেইলে ([email protected]) পাঠাতে পারবেন।

অন্তরা/

জেনেভায় আইএলও এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সভাপতিত্ব করলেন শ্রমমন্ত্রী

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
জেনেভায় আইএলও এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সভাপতিত্ব করলেন শ্রমমন্ত্রী
ছবি: বাংলাদেশ মিশন, জেনেভা

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আরব, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৪৭টি সদস্য রাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন বাংলাদেশের শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন চলাকালীন জাতিসংঘের দপ্তরে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান।

এ বৈঠকে আরব, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ১৫ জন মন্ত্রীসহ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মহাপরিচালক এবং আরব ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকরা বক্তব্য দেন।

শ্রমমন্ত্রী তার বক্তব্যে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সমন্বয়কারী হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্ব পালনের সময় সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আইএলওর অন্যতম বৈচিত্র্যময় গ্রুপ হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ বিভিন্ন উন্নয়ন স্তর, অর্থনৈতিক কাঠামো, সংস্কৃতি ও শ্রমবাজার বাস্তবতার দেশগুলোকে একত্রিত করেছে। এই বৈচিত্র্য সত্ত্বেও সামাজিক ন্যায়বিচার, শোভন কাজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপেকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে।

তিনি বহুপাক্ষিকতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বৈশ্বিক শ্রম শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিক করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান আইএলওর মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের বিশেষ অবস্থান তুলে ধরে বলেন, প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্য ও সমসাময়িক উন্নয়ন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই গ্রুপের বৈচিত্র্য শ্রম, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি রাখে।

তিনি উল্লেখ করেন, এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের বৈচিত্র্যই এর অন্যতম শক্তি এবং সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে “Connecting Diversity, Advancing Unity” প্রতিপাদ্যের আলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

শ্রম সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সমন্বয়কারী হিসেবে বাংলাদেশের দায়িত্বপালনের সময় সদস্য রাষ্ট্রসমূহের সহযোগিতা, বন্ধুত্ব ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের কর্মজগত আজকের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে। তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার ও শোভন কাজের প্রসারে সহযোগিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শ্রমশক্তির প্রতিনিধিত্বকারী এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপে আইএলওর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক গ্রুপ। গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রুপটির আঞ্চলিক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করার ধারাবাহিকতায় এ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করল।

আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে অভিন্ন অগ্রাধিকারসমূহ এগিয়ে নিতে এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

থিও/অমিয়/

ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩০ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
ইতিহাস, সৌন্দর্য আর প্রশান্তির পরভো শহরে এক দিন
ছবি: খবরের কাগজ

ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিঙ্কি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পরভো (Porvoo) শহর। এই শহরে এসে মনে হলো যেন কয়েক শতাব্দী পেছনে চলে গেছি।

আধুনিক ফিনল্যান্ডের ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলনস্থল এই শহর। দেশটির দ্বিতীয় প্রাচীনতম শহর হিসেবে পরিচিত পরভো শুধু ফিনল্যান্ডেরই নয়, পুরো নর্ডিক অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

সম্প্রতি শহরটি ঘুরে দেখার সুযোগ হয়। শহরে প্রবেশের পরই চোখে পড়ে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা বিখ্যাত লাল রঙের কাঠের গুদামঘরগুলো। কয়েকশ বছর আগে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত এসব ভবন আজ পোরভোর পরিচয় বহন করছে। পর্যটকদের ক্যামেরায় সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে এই দৃশ্য।

পনরভোর পুরনো শহর বা ‘ওল্ড টাউন’-এ হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো যেন কোনো রূপকথার শহরে প্রবেশ করেছি। সরু পাথরের রাস্তা, শত শত বছরের পুরনো কাঠের বাড়ি, ছোট ছোট ক্যাফে, শিল্পকর্মের দোকান এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য পুরো এলাকাকে অন্যরকম সৌন্দর্য দিয়েছে। শহরের প্রতিটি গলি যেন ইতিহাসের এক একটি অধ্যায়।

শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ পরভো ক্যাথেড্রাল। ত্রয়োদশ শতকে নির্মিত এই গির্জাটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। পাহাড়ের ওপর অবস্থিত গির্জার সামনে দাঁড়িয়ে পুরো শহর এবং নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এখানে আসা পর্যটকদের অনেকেই কিছু সময় নীরবে বসে শহরের শান্ত পরিবেশ উপভোগ করেন।

পরভো নদীর তীরও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। গ্রীষ্মকালে নদীর পাশে হাঁটা, নৌভ্রমণ কিংবা খোলা আকাশের নিচে বসে কফি পান করার আনন্দই আলাদা। নদীর দুই পাড়ে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর থাকে পুরো এলাকা।

শহরটি শুধু ইতিহাসের জন্য নয়, শিল্প ও সংস্কৃতির জন্যও সুপরিচিত। বিখ্যাত ফিনিশ কবি জোহান লুডভিগ রুনেবার্গের স্মৃতি বহন করছে এই শহর। তার বাড়ি বর্তমানে জাদুঘরে রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আর্ট গ্যালারি ও হস্তশিল্পের দোকানে স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়।

পরভোর আরেকটি আকর্ষণ হলো এর ক্যাফে সংস্কৃতি। শহরের ছোট ছোট ক্যাফেগুলোতে স্থানীয় কফি, পেস্ট্রি ও ঐতিহ্যবাহী ফিনিশ খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পুরনো শহরের পরিবেশে বসে এক কাপ গরম কফি যেন ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

ফিনল্যান্ডে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও বিভিন্ন শহর ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছি। তবে পরভোকে আলাদা করে মনে রাখার কারণ হলো এর প্রশান্ত পরিবেশ, ঐতিহাসিক আবহ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিখুঁত সমন্বয়। যারা ভ্রমণ ভালোবাসেন, বিশেষ করে ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী, তাদের জন্য পরভো অবশ্যই একটি দর্শনীয় স্থান।

হেলসিঙ্কি থেকে মাত্র ৪৫ মিনিটের যাত্রায় পৌঁছে যাওয়া যায় এই শহরে। তাই ফিনল্যান্ডে আসা কোনো পর্যটকের ভ্রমণ তালিকায় পরভো থাকা উচিত। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া পুরোনো ইউরোপের সৌন্দর্য অনুভব করতে চাইলে পরভো হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য।

পরভো শুধু একটি শহর নয়, এটি ফিনল্যান্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

জামান সরকার/আমান

অস্ট্রেলিয়ার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
অস্ট্রেলিয়ার শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ভিক্টোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ভিক্টোরিয়ার ওয়েরিবি ম্যাসনিক সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন- অস্ট্রেলিয়া বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া বিএনপির সভাপতি এ. এস. এম. তৌহিদুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোহাম্মদ হায়দার আলী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক (যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদা) মোহাম্মদ ফেরদৌস অমি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি ভিক্টোরিয়ার আহ্বায়ক মোহাম্মদ আরিফ খান এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওমর শরীফ শিহান দোয়া সঞ্চালনায় ছিলেন মোহাম্মদ হাফেজ মাহমুদ যুগ্ম আহ্বায়ক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া।

আলোচনা সভায় আরোও বক্তব্য রাখেন পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ওমর ফারুক, যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ তেলাল খান পল, সদস্য মোঃ বদিউজ্জামান শিপন, সদস্য মোঃ রাশিদুল আমিন, সদস্য মোহাম্মদ সিমন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ভিক্টোরিয়া শাখার আহ্বায়ক মোঃ রহমত উল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভিক্টোরিয়া শাখার আহ্বায়ক আরিফ খান।
আলোচনা সভায় বক্তারা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান, জাতীয়তাবাদী আদর্শ এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গঠনে তার ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদ জিয়ার অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভিক্টোরিয়ায় বসবাসরত বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

এসএন/বিজ্ঞপ্তি

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ২ যুবক নিহত

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের ২ যুবক নিহত
নিহত হারুন ও রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

‎সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী এলাকার দুই প্রবাসী যুবক হারুন ও রাসেল নিহত হয়েছেন। তারা প্রতিবেশী ছিলেন।

‎সোমবার (১ জুন) দুর্ঘটনার খবর দেশে পৌঁছালে নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন হারুন ও রাসেল। রবিবার (৩১ মে) রাতে তারা রাজধানী রিয়াদের একটি সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় একটি উটের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তারা মোটর সাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

‎নিহত হারুনের বাবা তছলিম উদ্দীন ছৈয়াল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে বিদেশে গিয়ে আমাদের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিল। আজ সে লাশ হয়ে ফিরবে এটা আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত যেন মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

‎এলাকাবাসী জানান, হারুন ও রাসেল ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

‎নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, প্রবাসী দুই যুবকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনা ও আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা হলে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

‎তিনি আরও জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাদের পরিবারের জন্য সম্ভাব্য সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

রফিকুল ইসলাম/নাঈম