দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে অভিশংসন বিল প্রস্তাব করেছেন আইনপ্রণেতারা। এর আগে সামরিক আইন জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ইউন। পরে গণবিক্ষোভের মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার করেন তিনি। সামরিক আইন জারির পদক্ষেপ ব্যর্থ করার পর এই অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করলেন আইনপ্রণেতারা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের একটি জোট জানায়, তারা প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অভিশংসন বিল প্রস্তাব করবেন।
জোটটি জানায়, বিরোধী ছয়টি রাজনৈতিক দল সংসদে অভিশংসন বিলটি প্রস্তাব করবেন। সিদ্ধান্তের জন্য আগামী শুক্রবার অথবা শনিবার ভোট হবে।
প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি (ডিপি) ইউনের পদত্যাগের দাবি করেছে। তা না হলে তাকে অভিশংসন মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে দলটি।
ডিপির সিনিয়র সদস্য পার্ক চান ডে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত প্রেসিডেন্ট ইউন এখন দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম নন। তাকে পদত্যাগ করতে হবে।’
প্রেসিডেন্ট ইউন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা এবং মিডিয়ার ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করার জন্য মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ সামরিক আইন জারি করেন। যার ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়।
ওই রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইউন দাবি করেন, সামরিক আইন দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এবং রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা করার জন্য প্রয়োজন। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট হুমকির কথা উল্লেখ করেননি।
এ ঘটনায় সিউলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সেনারা সংসদ ভবন দখল করার চেষ্টা করলে সংসদ সদস্যরা তাদের প্রতিরোধ করতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।
এদিকে, ইউনের দল পিপলস পাওয়ার পার্টিতে বড় ধরনের বিভাজন দেখা দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদে ৩০০ সদস্যের মধ্যে ১৯০ জন উপস্থিত হয়ে সামরিক আইন প্রত্যাহারের প্রস্তাব পাস করেন। যার মধ্যে ইউনের দলের ১৮ জন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট ইউন এক প্রজ্ঞাপনে সামরিক আইন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
আন্তর্জাতিক মহলও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্ট ইউনের সামরিক আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই এবং রাজনৈতিক বিরোধ শান্তিপূর্ণ ভাবে এবং আইনানুগভাবে সমাধান হবে বলে আশা করি।’
দক্ষিণ কোরিয়ার সংসদ প্রেসিডেন্ট ইউনকে অভিশংসন করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হবে। সূত্র: রয়টার্স
তাওফিক/অমিয়/