যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি-দমন বিষয়ক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। লন্ডনে হিসাববহির্ভূত ফ্ল্যাটের মালিকানার বিষয়ে রেহানাকন্যার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সরকারের সুষ্ঠু তদন্ত চান তিনি। শেখ হাসিনার আমলে সরকারের সংশ্লিষ্টজনের পাচারকৃত অর্থও ফেরত চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা দ্য সানডে টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে সম্প্রতি বেশ জলঘোলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে সংরক্ষিত নথিতে ফ্ল্যাটটির মালিকানা আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ট ব্যবসায়ী নাসিম ও মাকসুদ আলির নাম উল্লেখ রয়েছে।
২০০০ সালে পেডরক ভেঞ্চারস নামে প্রতিষ্ঠান ফ্ল্যাটটি কেনে। পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার হাতবদলের পর টিউলিপের বোনের মালিকানাধীন হয়। সম্প্রতি ফ্ল্যাটটি ৬ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড মুল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী দুর্নীতিবিষয়ক চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা প্রতিবেদন পানামা পেপার্সে ব্যবসায়ী নাসিম ও মাকসুদ আলির নাম উল্লেখ থাকায় সমালোচনায় পড়েছেন টিউলিপ।
এ প্রসঙ্গে দ্য সানডে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকার বিষয়ে কোনো আপোস হতে পারে না। সততা ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার বরখেলাপ করতে তাদের (দুর্নীতিবাজ) কোনো আপত্তি নেই।’
এদিকে হ্যাম্পস্টেড ও হাইগেট অঞ্চল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য টিউলিপ দুর্নীতির সব দায় অস্বীকার করেছেন। এমনকি নিজেকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমারের নীতিবিষয়ক উপদেষ্টাও দাবি করেন তিনি।
তবে চলমান সমালোচনার জেরে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা ভাবছে যুক্তরাজ্য প্রশাসন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টিউলিপের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার আমলে অর্থ জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছে।
তদন্ত প্রক্রিয়ায় দুদককে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধবিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল ক্রাইম অ্যাজেন্সি। প্রয়োজনের টিউলিপের সম্পদ জব্দ করতেও রাজি তারা।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রত্যাশা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য যেহেতু দুর্নীতে সম্পৃক্ত, এটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।’
এর আগে চরম গণঅসন্তোষের জেরে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
তবে হাসিনা পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো ধরণের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি টিউলিপের।
বাংলাদেশে নির্বাচনের আগেই দুর্নীতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চান ইউনূস। বিগত সরকার দেশের শাসনব্যবস্থাকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি টিউলিপ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সূত্র: দ্য সানডে টাইমস।
নাইমুর/অমিয়/