সশস্ত্র গেরিলা সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (ইএলএন) হামলায় কলম্বিয়ার ভেনিজুয়ালা সীমান্তবর্তী এলাকায় ৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনার পর সংগঠনটির সঙ্গে শান্তি আলোচনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।
শুক্রবারের (১৭ জানুয়ারি) এই হামলা ‘যুদ্ধপরাধের সামিল’, বলেছেন পেত্রো।
মূলত বিরোধী সংগঠনের সদস্যদের উদ্দেশ্য করেই আক্রমণ চালায় ইএলএন।
এ সময় উত্তর সান্তানদের এলাকায় ইএলএনের আক্রমণে রেভ্যুলেশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়ার (ফার্ক) ৩০ জন মারা যান। আহত হন ২০ জন।
স্থানীয় প্রশাসনের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গ্রামের বাড়িগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে বিরোধীপক্ষের সদস্যদের হত্যা করে সংগঠনটি।
এ বিষয়ে কোকেনচাষী হোসে দেল কারমেন বলেন, ‘আমাকে খুঁজতে তিনবার বাড়িতে গিয়েছিল। খুঁজে না পেয়ে এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়ে গেছে।’
এদিকে বলিভার অঞ্চলে ইএনএল ও ক্ল্যান দেন গলফোর সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন।
কলম্বিয়া-ভেনিজুয়েলা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে কোকেনচাষের আধিপত্যকে কেন্দ্র করেই এই সহিংসতা ঘটেছে বলে ধারণা করছে প্রশাসন।
শুক্রবারের আক্রমণের পর নিরাপত্তাঘাটতিতে বেশ কয়েকটি পরিবার ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, জানান পাবলিক ডিফেন্ডার আইরিস মারিন।
আক্রমণে ছাড় পায়নি ৯মাস বয়সী শিশুও। বাবা মাকে হত্যার পর মেরে ফেলে হয় তাকে।
প্রতিবেশী জিওভানি স্যাঙ্গুইনো দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘পরিবারটাই নিশ্চিহ্ন করে দিল। এর চেয়ে দুঃখের আর কী হতে পারে।’
কলম্বিয়ার অন্যতম শক্তিশালী সশস্ত্র সংগঠন ইএনএল বামপন্থি মতাদর্শে পুষ্ট। অন্যদিকে মাদক চোরাচালানেও আধিপত্য চায় তারা।
সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট এ ধরণের সহিংসতা কলম্বিয়াকে ‘তীব্র সংকটের’ দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষক এলিজাবেথ ডিকিনসন। ইএলএন শান্তির চেয়ে আঞ্চলিক আধিপত্যই বেশি চায় বলেও ধারণা তার।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় অঞ্চলটিতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এতদসত্ত্বেও, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয়রা। সূত্র: এএফপি
নাইমুর/