মায়ানমারে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির শাসক সামরিক জান্তা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত আহত হয়েছেন ৪ হাজার ৫০৮ জনেরও বেশি মানুষ এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২২০ জন।
ইয়াঙ্গুন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, দুর্যোগে বিপর্যস্ত দেশটিকে সাহায্য করতে বিশ্বকে নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার।
শনিবার (৫ এপ্রিল) মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ২৮ মার্চের ভূমিকম্পে দেশজুড়ে অনেক ভবন ভেঙে পড়েছে এবং অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। দুর্যোগের এক সপ্তাহের বেশি সময় পরেও দেশটিতে এখনো অনেক মানুষ আশ্রয়হীন। ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়া অথবা আরও ধসের আশঙ্কায় অনেকেই বাইরে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘ অনুমান করছে, এই ভূমিকম্পে দেশটির ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যা গত চার বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও জটিল করে তুলেছে।
টম ফ্লেচার শনিবার মায়ানমারে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি স্থানে অবস্থিত মান্দালয় শহরে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিদর্শন করেছেন।
টম ফ্লেচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ। বিশ্বকে অবশ্যই মিয়ানমারের জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে-ইউএসজিএস) অনুমান করেছে যে প্রাথমিক মডেলিংয়ের উপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সংস্থাটির মতে, দেশটির আর্থিক, পরিবেশগত এবং সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
গত ২৮ মার্চ (শুক্রবার) মিয়ানমারে শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প হয়। বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছয়টি দেশে এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল মায়ানমারের সাগাইং থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তর–উত্তরপশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ১০ কিলোমিটার গভীরে। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ, ভারত, লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং চীনে।
সিফাত/