চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তারা বৈঠক করেন।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় মেহের নিউজ এজেন্সি।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-এর ২৫তম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে চীনে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার সকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এসসিও সম্মেলনে যোগ দেওয়া সব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বহুপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে আরাগচি শি'র সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।
সোমবার (১৪ জুলাই) এই সম্মেলনের উদ্দেশ্যে তেহরান ত্যাগ করেন আরাঘচি। তিনি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং অন্যান্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে বৈঠক করবেন বলে জানায় ইরানের সরকারি ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিশ্লেষক রায়ান বোহল জানান, তিয়ানজিন সফরে আরাঘচির লক্ষ্য হবে তাদের উপরের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমানো এবং ইরানের তেল রপ্তানি বৃদ্ধি করা। সামগ্রিকভাবে ইরান নিষেধাজ্ঞা করে এমন উপায় খুঁজবে যাতে তারা চীনে ইরানি তেল রপ্তানিকে পদ্ধতিগতভাবে সহজতর করতে চাইবে যাতে পরে তা আর স্থগিত না করা যায়।
গত জুন মাসে ইরানে ইসরায়েলি হামলার পর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। একই মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে হামলা চালায়।
তাই, এসসিওতে যোগদানের মাধ্যমে ইরানের সবচেয়ে বড় বাস্তব সুবিধা হল সৌদি এবং ইরানের মধ্যে চীনের মধ্যস্থতাকারী হতে চাওয়ার ইচ্ছাকে কাজে লাগানো। ইরান আশা করছে চীন এখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে রক্ষায় আরও বড় ভূমিকা পালন করবে।
চীন ইরানের বৃহত্তম তেল ক্রেতা, যারা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল সরবরাহ করে থাকে। ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার ফলে মে মাসে চীনে ইরানের তেল রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে। যদিও রয়টার্স জানায়, জুনের প্রথম তিন সপ্তাহে ইরানের তেল রপ্তানির রেকর্ড সর্বোচ্চ প্রতিদিন ১.৮ মিলিয়ন ব্যারেল পৌঁছেছে।
এদিকে,ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার রুশ সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তিককে জানান, আরাঘচি তার রুশ প্রতিপক্ষ সের্গেই ল্যাভরভের সাথে তিয়ানজিনে দেখা করবেন। তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং পারমাণবিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন।
এসসিও একটি ইউরেশিয়ান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা যেটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে। ২০০১ সালে চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান এসসিও প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে ভারত, পাকিস্তান, ইরান এবং বেলারুশকে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যুক্ত হয়। এসসিও-তে ইরান ২০২৩ সালে যোগ দেয়।
তুরস্ক, মিশর, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন এবং আজারবাইজান এই সংস্থার ১৪টি সংলাপ অংশীদারের মধ্যে রয়েছে। বেইজিংয়ে এসসিওর স্থায়ী সচিবালয় অবস্থিত।
সুলতানা দিনা/