ভারতের মুম্বাইয়ে ২০০৬ সালের সাতটি লোকাল ট্রেনের বগিতে এক যোগে সাতটি বোমা হামলার ঘটনায় ১৮৯ জন নিহত এবং ৮০০ জন আহত হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬:২৩ থেকে ৬:২৯ এর মধ্যে একযোগে এই সাতটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সমন্বিত এই বিস্ফোরণে সেদিন ১৮৭ জন প্রাণ হারান এবং প্রায় ৮২৪ জন আহত হন।
এই ঘটনার পর, মুম্বাইয়ের বিভিন্ন থানায় সাতটি পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়। পরে এই মামলাগুলো একত্রিত করে তদন্তের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী স্কোয়াড (ATS)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। ATS তেরোজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে, যাদের পনেরোজন পলাতক অভিযুক্তের সঙ্গে বিচার করা হয় এবং বিচারের সময় দুজন মারা যান।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে দীর্ঘ ১৯ বছর পর ১২ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে মুম্বাই হাইকোর্ট। ২০১৫ সালে এক রায়ে এদের মধ্যে পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।
সোমবার (২১ জুলাই)এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে, মুম্বাই হাইকোর্ট বিস্ফোরণের এই মামলায় অভিযুক্ত ১২ জনকে খালাস দিয়েছে। আদালত জানায়, রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণেই তাদের খালাস দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ১২ আসামির মধ্যে একজন কামাল আহমেদ মোহাম্মদ ওয়াকিল আনসারি ২০২১ সালে নাগপুর কারাগারে বন্দী থাকাকালীন কোভিড-১৯ সংক্রমণে মারা যান।
বম্বে হাই কোর্টের দুই বিচারপতি আনিল কিলোর ও শ্যাম চাঁদক জানান, তদন্তকারী সংস্থা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। আদালত বলেন, ‘যথাযথ প্রমাণের ঘাটতির কারণে দণ্ডাদেশ বাতিল করা হলো’। তবে এখনও পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়নি।
মামলা যে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তারা হলেন, কামাল আনসারি, মোহাম্মদ ফয়সাল আতাউর রহমান শেখ, এহতেশাম কুতুবউদ্দিন সিদ্দিকি, নাভিদ হুসেন খান, আসিফ খান। আর যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত সাতজন ছিলেন, তানভীর আহমেদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম আনসারি, মোহাম্মদ মাজিদ মোহাম্মদ শফি, শেখ মোহাম্মদ আলি আলম শেখ, মোহাম্মদ সাজিদ মারগুব আনসারি, মুজাম্মিল আতাউর রহমান শেখ, সোহেল মাহমুদ শেখ, জমীর আহমেদ লতিফুর রহমান শেখ।
২০০৬ সালের ১১ জুলাই মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে মুম্বাইয়ের সাতটি আলাদা লোকাল ট্রেনে বিস্ফোরণ ঘটে। এই বোমা হামলায় প্রেশার কুকারে বিস্ফোরক বসানো হয়েছিল, যাতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যায়। প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে, যখন কর্মজীবী মানুষরা বাসায় ফিরছিলেন, আর শেষ বিস্ফোরণটি ঘটেছিল সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে। এসব বোমা চার্চগেট থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কামরায় রাখা ছিল।
সুলতানা দিনা/