বনাঞ্চল উজাড় হওয়ায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে গত দুই দশকে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ মারা গেছে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। প্রাপ্ত তথ্যউপাত্ত বলছে, গরমজনিত অসুস্থতার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন তারা।
বনাঞ্চল উজাড় ও ভূমি পরিষ্কারের মতো বিষয়গুলো অ্যামাজন, কঙ্গো ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে। এ ছাড়াও এসবের প্রভাবে ছায়া কমছে, বৃষ্টিপাত কমছে ও আগুনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণায় বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন প্রতিবেদকরা।
এ ছাড়া আক্রান্ত এলাকাগুলোতে মানুষ যে উষ্ণ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন, সেগুলোর এক তৃতীয়াংশেরও বেশি হচ্ছে বনাঞ্চল উজাড়ের কারণে। বৈশ্বিক জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তনেও এটি ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
বনাঞ্চল উজাড় করে নানা ধরনের কৃষিকাজও হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ব্রাজিলের মাটো গ্রোসো অঞ্চলের কথা বলেছেন গবেষকরা। সেখানে কৃষকরা বনাঞ্চল কেটে বড় পরিসরে সয়াবিন চাষ করেছেন। এখন তারা আরও ভূমি দখলে পেতে চাইছেন এবং এ লক্ষ্যে নানা ধরনের নীতিতে পরিবর্তন আনার দাবি জানাচ্ছেন।
অথচ গবেষকরা বলছেন, ওই অঞ্চলটি অক্ষত রাখলেই বরং তা জীবন বাঁচাবে ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। মাটো গ্রোসো যদি নিজেদের বন ঠিক রাখতে পারে, তাহলে মানুষ কম গরমের সম্মুখীন হবে। গবেষকরা আরও বলেন, বিষয়টি এমন নয় যে বৈশ্বিক জলবায়ু রক্ষায় পশ্চিম তাগাদা দিচ্ছে। বনাঞ্চল রক্ষা হলে স্থানীয় কমিউনিটিগুলো সরাসরি সেটির সুফল ভোগ করবে। কারণ বনাঞ্চল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, বৃষ্টিপাত ঘটায় ও কৃষিনির্ভর মানুষকে সহায়তা করে। এই বনগুলো অলস বসে নেই- বরং তারা ক্রমাগত কাজ করে চলেছে মানবজাতির জন্য। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান