গাজার চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবু সালমিয়া পরিবারকে রেখে আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে শিফটে যোগ দিয়েছিলেন। এর একদিন পর, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তার কাছে পৌঁছায় পরিবারের ৬ সদস্যের মৃতদেহ।
ডা. সালমিয়া জানান, গাজার আল-শাতি শরণার্থী ক্যাম্পে তাদের পারিবারিক বাসভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এই প্রাণহানি ঘটে। বহু প্রজন্ম একসঙ্গে বসবাস করছিলেন সেখানে। তিনি বলেন, “এটাই আমাদের পারিবারিক বাড়ি। আমার ভাই, আমার ভাইয়ের দুই ছেলে, ভাতিজার স্ত্রী এবং তাদের দুই সন্তান শহিদ হয়েছেন।”
এই হামলায় ছয়জন নিহত ও সাতজন আহত হন। আহতদের মধ্যে হাসপাতালের এই পরিচালকের বোন, ভাতিজি এবং কয়েকজন ভাতিজা রয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. মুনির আল-বুরশ শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর শোকে ভেঙে পড়া আবু সালমিয়া হাসপাতালের ভেতরে নিজের স্বজনদের মরদেহের পাশে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন, তখনও তার গায়ে চিকিৎসকের পোশাক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে আল-বুরশ বলেন, “আল্লাহ যেন তার এবং তার পরিবারের হৃদয়ে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন।’’
গাজার সিভিল ডিফেন্স জানায়, তারা চারজন আহতকে উদ্ধার করেছে এবং তিনটি মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করেছে। “একজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন। আমাদের দল চেষ্টা করছে তাকে খুঁজে বের করার,” সংস্থাটি জানিয়েছে।
গাজার উপত্যকার উত্তরের শহর গাজা সিটিকে পুরোপুরি দখল নিতে মরিয়া দখলদার সেনাবাহিনী। সেজন্য অনবরত বিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ করে শহরটিকে মাটিরে সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে ইসরায়েল। আজ শনিবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন গাজা উপত্যকায়, এদের মধ্যে অধিকাংশই গাজা সিটিতে।
এভাবে প্রতিদিনই কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছেন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ও পশ্চিমা গণমাধ্যম এ বিষয়ে আর তেমন মুখ খুলছে না।
ইসরায়েল দাবি করছে, গাজার সবচেয়ে বড় এই শহর এখনো হামাসের শক্ত ঘাঁটি। হামাসের সামরিক শাখা জানায়, তারা যে ইসরায়েলি জিম্মিদের হাতে রেখেছে তাদের ছবি প্রকাশ করেছে, এবং সতর্ক করেছে—গাজা সিটিতে ইসরায়েলের অভিযান মানে হলো ইসরায়েল তাদের জিম্মিদের ফেরত পাওয়ার সব সুযোগ হারিয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৫ হাজার ২০০ ছাড়িয়েছে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করেছে, এই হামলা গাজায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করবে। ইতোমধ্যেই গাজার কিছু এলাকা আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষপীড়িত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সপ্তাহে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্তে প্রথমবারের মতো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, গাজায় ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছে। সূত্র: সিএনএন
মাহফুজ/