অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় কমপক্ষে তিনজন আফগান ক্রিকেটার নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরও পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিকা প্রদেশের উরগন জেলা থেকে তারা শরানা শহরে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়েছিলেন এই ক্রিকেটাররা।
এসিবি নিহতদের পরিচয় জানিয়েছে ‘কবির, সিবগাতুল্লাহ ও হারুন’ হিসেবে।
এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আগামী মাসে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে নির্ধারিত ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে।
বিবৃতিতে বোর্ড জানায়, ‘পাকতিকা প্রদেশের উরগন জেলার সাহসী ক্রিকেটারদের শহিদ হওয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনায় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করছে। নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগানিস্তান।’
গত ১১ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সীমান্তে সংঘাত, হামলা-পাল্টা হামলার পর ১৫ অক্টোবর থেকে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে যায় দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়েছে গতকাল ১৭ অক্টোবর শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১ টার দিকে। বিরতি শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই হামলা চালায় পাকিস্তান।
বোর্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উরগনে ফিরে আসার পর এক সমাবেশে তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। এটি পাকিস্তানি সরকারের পরিচালিত এক কাপুরুষোচিত হামলা।’
আফগানিস্তান টি–টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক রশিদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে হামলার নিন্দা জানিয়ে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অসংখ্য নারী, শিশু ও তরুণ ক্রিকেটার প্রাণ হারিয়েছেন। যারা একদিন দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে খেলতে চেয়েছিল—তাদের মৃত্যু আমাদের সবার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
সুলতানা দিনা/