ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২-এ দাঁড়িয়েছে। শহরের উত্তরাঞ্চলের আলেমাও ও পেনহা বস্তিতে এই অভিযান চালানো হয়, যা এখন পর্যন্ত শহরটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী পুলিশ অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিওর পাবলিক ডিফেন্ডার অফিস এই নতুন মৃত্যুসংখ্যা প্রকাশ করে। তারা জানায়, স্থানীয় বাসিন্দারা হতাহতদের মরদেহ একটি চত্বরে সারিবদ্ধভাবে রেখে পুলিশের সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা ৫৮ জন বলে জানালেও পরবর্তীতে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়।
রাজ্য গভর্নর ক্লাউদিও কাস্ত্রো বলেন, ফরেনসিক কাজ এখনো চলছে, তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তার মতে, এত বড় অভিযান সম্পর্কে ফেডারেল সরকারকে আগে থেকে না জানানো “অবিশ্বাস্য এবং উদ্বেগজনক”।
জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরও পুলিশের এই অভিযানকে “ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছে।
সংস্থাটি বলেছে, এত বিপুলসংখ্যক প্রাণহানি ইঙ্গিত দেয় যে- ঘটনাটি শুধুমাত্র অপরাধ দমন নয় বরং মানবাধিকারের মারাত্মক লঙ্ঘন।
স্থানীয় বাসিন্দারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বস্তিগুলোয় গুলির লড়াই চলেছে। বাস জ্বালিয়ে তৈরি করা হয়েছিল ব্যারিকেড, আর ড্রোন দিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরক ছোড়ে অপরাধীরা।
রিও রাজ্যের গভর্নর কাস্ত্রো বলেন, এটি সাধারণ অপরাধ নয়, বরং মাদক-সন্ত্রাসবাদ। দুই মাস ধরে পরিকল্পিত এই অভিযানটি ছিল অপরাধী চক্রের ওপর বড় আঘাত।
অভিযানে রেড কমান্ড নামের কুখ্যাত মাদকচক্রের কয়েকজন শীর্ষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযান চলাকালে চারজন পুলিশ সদস্যও নিহত হন।
রিওর নিরাপত্তামন্ত্রী ভিক্টর সান্তোস জানান, প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ ওই এলাকাগুলোতে বসবাস করেন। তার ভাষায়, রিও ডি জেনিরো যেন যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বহু দশকের অবহেলা অপরাধীদের এত শক্তিশালী করে তুলেছে।
এই ঘটনাটি ঘটল এমন এক সময়ে, যখন আগামী সপ্তাহে রিওতে বসছে C40 ওয়ার্ল্ড মেয়রস সামিট— বিশ্বের বড় শহরগুলোর প্রায় ১০০ জন মেয়রের বৈঠক এবং ৫ নভেম্বর প্রিন্স উইলিয়ামের হাতে অনুষ্ঠিত হবে পরিবেশ-বিষয়ক মর্যাদাপূর্ণ আর্থশট প্রাইজ প্রদান অনুষ্ঠান।
রিওর সাংবাদিক রাফায়েল সোয়ারেস বলেন, এটি শুধুই অভিযান নয়; আগামী নির্বাচনের আগে গভর্নরের নিজের অবস্থান শক্ত করারও একটি প্রচেষ্টা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এত প্রাণহানির ঘটনা ব্রাজিলজুড়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করবে— রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতিতে কোথায় সীমা টানা উচিত, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সূত্র: বিবিসি
মেহেদী/