উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোল শনিবার (৮ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে "আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ" নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সিউল-ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা আলোচনা এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আগমনের নিন্দা জানিয়েছেন। রয়টার্সের খবর।
শনিবার (৮ নভেম্বর) এক বক্তব্যে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী নো কোয়াং চোল সতর্ক করে জানান, তারা প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেবেন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ অনুসারে, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত পরিদর্শনের পর সিউলে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক নিরাপত্তা বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া- বলে তার অভিযোগ।
দুদেশের পারমাণবিক ও প্রচলিত অস্ত্রের সমন্বয় এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিবৃত্তকরণ (ডেটারেন্স) জোরদার করার পাঁয়তারা করছে তারা।
দেশটির আনুষ্ঠানিক নাম - ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অফ কোরিয়ার কথা উল্লেখ করে নো বলেন , "এটি আমাদের বিরুদ্ধে তাদের শত্রুতামূলক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ এবং শেষ পর্যন্ত ডিপিআরকে-র বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য তাদের শত্রুতাপূর্ণ স্বভাবের একটি ইচ্ছাকৃত প্রকাশ।"
তার আগের দিন, পূর্ব উপকূলের সাগরে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া। ওয়াশিংটনের নতুন সাইবার-সম্পর্কিত অর্থপাচার মামলায় উত্তর কোরিয়ার কয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পরই তারা ওই পদক্ষেপ নেয়।
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, " যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া নিরাপত্তা বৈঠক নিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের সমালোচনা দুঃখজনক।"
উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন, "দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান বন্দরে পরমাণু শক্তিচালিত মার্কিন রণতরি জর্জ ওয়াশিংটনের আগমন ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আমরা শক্তির বলে নিরাপত্তা রক্ষার নীতিতে শত্রুর হুমকির বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ দেখাব।"
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর দাবি, রণতরিটি রসদ সংগ্রহ এবং নাবিকদের কিছু অবকাশের সুযোগ দিতে বন্দরে এসেছে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, "ওয়াশিংটন-সিউল জোটের মূল লক্ষ্য উত্তর কোরিয়াকে বশে রাখা। তবে এশিয়ার অন্যান্য সম্ভাব্য হুমকির ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনাদের কার্যক্রমে নমনীয়তা আনা হবে।"
সুলতানা দিনা/