মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করলে ইসরায়েলের তাতে আপত্তি নেই, তবে ইসরায়েল কড়া শর্ত দিয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যম চ্যানেল ১২ এবং মার্কিন সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস এর খবর অনুযায়ী, তেল আবিব জোর দিচ্ছে যে এই ধরনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান স্থানান্তরের আগে অবশ্যই রিয়াদকে জেরুজালেমের (ইসরায়েলের) সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট দুই ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে যে সৌদি আরবের কাছে এই বিমান বিক্রির বিষয়টিকে ইসরায়েল তুরস্কের মতো অন্যান্য দেশের চেয়ে আলাদাভাবে দেখছে।
সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ
অ্যাক্সিওস’কে একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘আমরা ট্রাম্প প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম যে সৌদি আরবে এফ-৩৫ সরবরাহের বিষয়টি সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।’’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির শর্ত ছাড়া এই বিক্রয় বিপরীত ফলদায়ক হবে।
দ্বিতীয় একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘‘তুরস্ককে এফ-৩৫ সরবরাহের আমরা তীব্র বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু সৌদি আরবে এই অস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে আমরা কম চিন্তিত, যদি এটি আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এর মতো আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হয়, যেমনটা আমাদের সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে আছে।’’
সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে গুণগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার জন্য ইসরায়েল অতীতে কাছাকাছি দেশগুলিতে উন্নত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে, ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ যার অস্ত্রাগারে এফ-৩৫ রয়েছে। তারা বর্তমানে ৪৫টি বিমান পরিচালনা করছে এবং আরও ৩০টির জন্য অর্ডার দেওয়া আছে।
এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওস’কে বলেছেন, সৌদি আরব থেকে ইসরায়েলে এফ-৩৫ পৌঁছতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। তাই ইসরায়েল দাবি করছে যে সৌদি আরবের কোনো এফ-৩৫ যেন দেশের পশ্চিম অংশে (ইসরায়েলের দিকে মুখ করে) মোতায়েন না করা হয়।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পিত সফরের কয়েক দিন আগে রিয়াদকে এই যুদ্ধবিমান সরবরাহের চুক্তি নিয়ে বিবেচনা করছেন। আশা করা হচ্ছে এই সফরে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
ট্রাম্প আবারও আশা প্রকাশ করেন যে সৌদি আরব শীঘ্রই আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এ যোগ দেবে, যা ইসরায়েলের সঙ্গে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলির সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে। তবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য একটি রোডম্যাপের চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ এই পদক্ষেপ নিতে বাধা দিচ্ছে। সূত্র: দি টাইমস অব ইসরায়েল, অ্যাক্সিওস
মাহফুজ/