চলতি ডিসেম্বরের শুরুর দিকে দখলকৃত এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহারের জন্য সৌদি আরবের দেওয়া আহ্বান আজ শুক্রবার প্রত্যাখ্যান করেছে ইয়েমেনের প্রধান দক্ষিণ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, পূর্বের হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশগুলোতে তাদের নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি আরব আশা প্রকাশ করেছিল যে, সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC) উত্তেজনা নিরসন করবে এবং ওই প্রদেশগুলো থেকে তাদের বাহিনী সরিয়ে নেবে। এর আগে গোষ্ঠীটি দক্ষিণ ইয়েমেনের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে এবং সৌদি সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে এডেনে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তর থেকে বিতাড়িত করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে এসটিসি জানায়, দুই প্রদেশে তাদের সামরিক অভিযান মূলত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করার জন্য। এর মধ্যে রয়েছে দেশের উত্তর অংশ নিয়ন্ত্রণকারী ইরান-ঘনিষ্ঠ হুতি বিদ্রোহীদের সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন করা।
সৌদি আরব এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথের মাঝখানে অবস্থিত ইয়েমেন ১৯৯০ সাল পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুটি পৃথক রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল।
হাদরামাউতে সৌদি আরবের বিমান হামলা
এসটিসি তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার হাদরামাউতে লড়াই তীব্রতর হওয়ায় তাদের ‘হাজরামি এলিট ফোর্স’-এর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোষ্ঠীটির একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, প্রদেশের পূর্ব দিকের ‘গাইল বিন ইয়ামিন’ এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এসটিসি বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তবে বাহিনীটি পরবর্তীতে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সক্ষম হয়।
ওই সূত্র আরও জানায়, শুক্রবার ভোরের দিকে সৌদি আরবের বিমান বাহিনী ওই এলাকায় এসটিসি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসটিসি বলেছে, এই ‘বিস্ময়কর’ বিমান হামলা কোনোভাবেই বোঝাপড়ার পথ তৈরি করবে না, এমনকি দক্ষিণ ইয়েমেনের জনগণকে তাদের পূর্ণ অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম থেকেও বিচ্যুত করতে পারবে না।
তবে সৌদি আরব এই বিমান হামলার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
সৌদি আরব বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে বলেছিল যে, এসটিসি বাহিনীকে ওই দুই প্রদেশের বাইরে তাদের আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ১২ ডিসেম্বর এডেনে একটি যৌথ সৌদি-আমিরাত সামরিক প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছিল এবং এই প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার এসটিসি জানায় যে, তারা দক্ষিণের নিরাপত্তা, ঐক্য ও অখণ্ডতা নিশ্চিত করা এবং পুনরায় নিরাপত্তা হুমকির উদ্রেক না হওয়ার শর্তে যেকোনো সমন্বয় বা ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত। গোষ্ঠীটি আরও যোগ করেছে যে, যেকোনো সমঝোতা অবশ্যই দক্ষিণ ইয়েমেনের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে হতে হবে।
সৌদি প্রচেষ্টাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বাগত
এসটিসির সমর্থক হিসেবে পরিচিত সংযুক্ত আরব আমিরাত শুক্রবার ইয়েমেনে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সৌদি আরবের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে যে তারা ইয়েমেনের স্থিতিশীলতা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া সমস্ত প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার বিষয়ে তাদের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।
এসটিসি মূলত ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করা সুন্নি মুসলিম নেতৃত্বাধীন সৌদি জোটের অংশ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে গোষ্ঠীটি সরকারের বিরুদ্ধে চলে যায় এবং দক্ষিণ ইয়েমেনে স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলে।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেন গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। হুতিরা সৌদি সমর্থিত সরকারকে দক্ষিণে পালিয়ে যেতে বাধ্য করার পর রাজধানী সানাসহ দেশের উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/