চীন ও পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতের সহায়তা চেয়েছেন বেলুচিস্তানের শীর্ষস্থানীয় নেতা ও মানবাধিকারকর্মী মীর ইয়ার বালুচ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বেলুচিস্তানে চীনা সেনা মোতায়েন হতে পারে। এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন মীর ইয়ার। পাকিস্তানের মাটি থেকেই লেখা ওই চিঠিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন ঘটনা ঘটলে তা শুধু বেলুচিস্তানের জন্য নয়, ভারতের ভবিষ্যতের জন্যও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তিনি চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করেন। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও ট্যাগ করেন। চিঠিতে তিনি ভারতের প্রতি অটল সমর্থনের কথা জানান।
মীর ইয়ার বালুচ উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের মে মাসে বালুচ জাতীয়তাবাদী নেতারা পাকিস্তান থেকে নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। তার দাবি, স্বাধীন ‘রিপাবলিক অব বেলুচিস্তান’ নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই ‘২০২৬ বেলুচিস্তান গ্লোবার ডিপ্লোমেটিক উইক’ পালন করবে। এর উদ্দেশ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বেলুচিস্তানের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন।
Open letter to Honorable Foreign Minister of #Bharat Shri @DrSJaishankar ji
— Mir Yar Baloch (@miryar_baloch) January 1, 2026
From,
Baloch Representative,
Republic of Balochistan
State.
The Honorable Dr. S. Jaishankar,
Minister of External Affairs,
Government of Bharat,
South Block, Raisina Hill,
New Delhi – 110011
January… https://t.co/WdjaACsG2V pic.twitter.com/IOEusbUsOB
নিজেকে স্বাধীন বেলুচিস্তান রিপাবলিকের প্রতিনিধি দাবি করে মীর ইয়ার এই খোলা চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে বেলুচিস্তান দশকের পর দশক ধরে ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার। তার ভাষায়, সেখানে রাষ্ট্রীয় মদদে সন্ত্রাস, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং স্বাধীনতাকামীদের ওপর সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। তিনি লেখেন, এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের গোড়া থেকে সমাধান এখন জরুরি। তা না হলে বালুচ জাতির জন্য স্থায়ী শান্তি ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
চিঠিতে মীর ইয়ার সতর্ক করে বলেন, ‘যদি বেলুচিস্তানের প্রতিরক্ষা ও স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলোকে শক্তিশালী করা না হয় এবং আগের মতোই উপেক্ষা করা হয়, তবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই চীন তাদের সেনা পাঠিয়ে বেলুচিস্তান দখলে নিতে পারে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘৬ কোটি বালুচের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বেলুচিস্তানের মাটিতে চীনা সেনার বুট পড়লে তা শুধু এই অঞ্চলের নয়, ভারতের ভবিষ্যতের জন্যও এক ভয়াবহ ও অকল্পনীয় ভীতির কারণ হয়ে উঠবে।’
চিঠিতে পাকিস্তান ও চীনের কৌশলগত জোটের বিষয়টি সবচেয়ে জোরালোভাবে তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’। এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বেলুচিস্তান দিয়ে গেছে। প্রকল্প শেষের পথে পৌঁছানোয় এর নিরাপত্তার অজুহাতে বেলুচিস্তানে চীনা সেনা মোতায়েন হতে পারে।
ভারতের জনগণকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মীর ইয়ার মোদি সরকারের নিরাপত্তানীতির প্রশংসা করেন। বিশেষ করে পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থানের কথা তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত আরও সক্রিয় হলে বেলুচিস্তান উপকৃত হবে।
চিঠিতে তিনি ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রশংসাও করেন। কাশ্মীরের পাহালগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে চালানো এই অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি একে ‘অসাধারণ সাহসিকতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন’ বলে বর্ণনা করেন।
এক অংশে ভারত ও বেলুচিস্তানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন বালুচ নেতা। তিনি হিংলাজ মাতা মন্দির বা ননি মন্দির এবং সংলগ্ন জাতীয় উদ্যানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই তীর্থস্থান দুই অঞ্চলের আধ্যাত্মিক ও সভ্যতাগত সম্পর্কের জীবন্ত প্রতীক। তিনি জানান, এই ঐতিহাসিক বন্ধন শুধু সাংস্কৃতিক নয়, ভবিষ্যতে কৌশলগত সহযোগিতারও ভিত্তি হতে পারে। ভারত ও বেলুচিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আশাও তিনি প্রকাশ করেন।