নাইজেরিয়ার নাইজার অঙ্গরাজ্যের একটি গ্রামে সশস্ত্র হামলাকারীদের ভয়াবহ তাণ্ডবে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দুকধারীরা গ্রামটিতে ব্যাপক লুটতরাজও চালিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, গত শনিবার কাসুওয়ান-দাজি গ্রামের কাছের একটি বন থেকে হামলাকারীরা বেরিয়ে আসে। তারা স্থানীয় বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়, দোকানপাট লুট করে এবং অজ্ঞাত সংখ্যক মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
একজন স্থানীয় সাংবাদিকের বরাতে বিবিসি জানায়, বন্দুকধারীরা মোটরসাইকেলে চড়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। তারা লোকজনকে এক জায়গায় জড়ো করে জবাই করে হত্যা করে, আবার কাউকে কাউকে গুলি করে মারে।
নাইজেরিয়ায় ‘ডাকাত’ হিসেবে পরিচিত এই সশস্ত্র অপরাধী চক্রের হামলা ও অপহরণের ঘটনা বহু বছরের পুরনো সমস্যা। তবে সম্প্রতি দেশটির পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এ ধরনের সহিংসতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
নাইজার স্টেট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির কর্মকর্তা আবদুল্লাহি রোফিয়া সাংবাদিকদের এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বিবিসিকে জানান, গ্রামবাসী বর্তমানে চরম আতঙ্কে রয়েছে, তারা ভয়ে লুকিয়ে আছে এবং কারও সঙ্গে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। তাদের ভয় হচ্ছে যে, যদি মুখ খোলে তবে তাদের ওপরও একই পরিণতি নেমে আসবে।
নাইজার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানান, আহতদের সহায়তায় একটি জরুরি দল পাঠানো হয়েছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে।
নাইজেরিয়া সরকার এই অপরাধী চক্রগুলোকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং তাদের মুক্তিপণ দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। তবে অভিযোগ রয়েছে যে, বাস্তবে এই নিষেধাজ্ঞা প্রায়ই মানা হয় না।
হামলার এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানান, সেই সময় গ্রামটিতে কোনো নিরাপত্তা বাহিনী ছিল না। তিনি বলেন, ‘‘আমরা সরকারের সাহায্য চাই। আগে আমরা অন্য জায়গায় এসব সমস্যার কথা শুনতাম, কিন্তু এখন তা আমাদের গ্রামেই ঘটছে।’’
এই প্রাণভয়ে মানুষ তাদের জন্মভিটা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও বলেন, ‘‘আমরা মুরগির মতো মরছি, সরকার কি আমাদের পরোয়া করে? সরকার সব দেখেও কিছু করছে না। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের আর কী করার আছে?’’
উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণে বন্ধ থাকা স্কুলগুলো পর্যায়ক্রমে খোলার ঘোষণা দেওয়ার মাত্র একদিন পরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত নভেম্বরে নাইজার রাজ্যের সেন্ট মেরি’স ক্যাথলিক স্কুল থেকে ২৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে অপহরণ করা হয়েছিল। এটি ছিল দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় অপহরণের ঘটনা। তবে বড়দিনের ঠিক আগে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, নিখোঁজ সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/