যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজা উপত্যকায় নতুন করে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে চালানো এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিক ও চিকিৎসা সূত্র।
এসব হামলায় নিহতদের মধ্যে অন্তত ছয়জন শিশু রয়েছে। হামলায় গাজা সিটি ও খান ইউনিসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে।
এসব হামলায় গাজা উপত্যকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বুঝতে পারছেন না, কী কারণে হঠাৎ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা জোরদার করেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এই হামলার পেছনে একমাত্র ব্যাখ্যা হচ্ছে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবতা কেমন হবে, তা জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে চাইছে।
রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলার সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হলেও তা ছিল খুবই সতর্ক আশাবাদ। কারণ, গাজার মানুষের বিশ্বাস যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীই তাদের দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে।
গাজা সিটির বাসিন্দা মোহাম্মদ আল-হেলু জানান, কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই ইসরায়েলি বাহিনী একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, “নজরদারি ড্রোন ও যুদ্ধ হেলিকপ্টার খুব নিচু দিয়ে উড়ছিল। শনিবার ভোর ৪টার দিকে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে বোমা হামলা হয়, যখন একটি পরিবার ও শিশুরা ভেতরে ছিল।”
তিনি আরও বলেন, “কোনো পূর্ব সতর্কতা দেওয়া হয়নি। শিশুদের এমনভাবে হত্যার কোনো যুক্তি নেই।”
গাজার ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আল জাজিরাকে বলেন, আজকের ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের অধিকাংশই শিশু।
তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার ফলে লক্ষ্যবস্তু এলাকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বড় আকারের আগুনের সৃষ্টি হয়েছে।
বাসাল বলেন, গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান এলাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে বোমা হামলার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের রাব আল-থালাথিন শহরের উপকণ্ঠে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা মার্কাবা এলাকায় হিজবুল্লাহর এক সদস্যকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে হিজবুল্লাহর সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই লঙ্ঘন করছে এবং এখনও দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে।
রাফাহ সীমান্ত খোলার আগেই সহিংসতা
এই সহিংসতা ঘটল এমন এক সময়, যখন আগামীকাল রবিবার মিসরের সঙ্গে গাজার সংযোগকারী রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলার কথা রয়েছে। মে ২০২৪ সালের পর এই প্রথম সীমান্তটি খুলতে যাচ্ছে ইসরায়েল।
তবে তার আগের দিনই হামলা জোরদার হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের যুদ্ধে গাজায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৭৬৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৮৩ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলায় ইসরায়েলে আনুমানিক ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/