সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়।
বার্তা সংস্থা এপির তথ্যমতে, ইরান এই হামলায় অন্তত ৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৯টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। আহত সেনাদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক সদরদপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি জানিয়েছেন, এই হামলায় একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও তিনটি বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্যাটেলাইট চিত্রেও বিমানঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। রিয়াদ থেকে প্রায় ৯৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি মূলত সৌদি রয়্যাল এয়ারফোর্স পরিচালনা করলেও সেখানে ২ থেকে ৩ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের এই সংঘাত এখন দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করেছে। ইরান অভিযোগ করেছে যে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন বাহিনীকে তাদের ওপর হামলার সুযোগ করে দিচ্ছে, যার পাল্টা জবাবে তারা এই আক্রমণ চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, গতকাল শুক্রবার রাতে ইরানও দাবি করেছে যে মার্কিন-ইসরায়েলি জোট তাদের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যদিও এতে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় ১,১৬৭ জন ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং ৬৬৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার ইরান আরও দাবি করেছে যে তারা ওমানের সালালাহ বন্দরের কাছে একটি মার্কিন সহায়তা জাহাজে হামলা চালিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/