ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
খিলগাঁওয়ে স্কয়ার গ্রুপের ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত জামালপুরে পুলিশের চাকরি দেওয়ার চুক্তি, ২ প্রতারক গ্রেপ্তার সাঙ্গু নদে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলেনি ১৬ ঘণ্টায়ও ঝিনাইদহে রেললাইন-মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবি রোহিঙ্গাদের জন্য জমি চাইল জাতিসংঘ, নাকচ বাংলাদেশের ব্রাজিলের বিপক্ষে অগ্নিপরীক্ষার আগে স্বকীয়তায় ফেরার আহ্বান ম্যাকগিনের রামু বৌদ্ধ বিহারে একদিন দ্রুত বিদায়ে হতাশ তুরস্ক কোচ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা বরগুনায় বেড়েছে গরুর ক্ষুরা রোগ,ভ্যাকসিন সংকটে খামারিরা রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর লজ্জিত আরদা গুলের বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ২৮ জন টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে চুক্তি হতে পারে ১৫-১৭টি : পররাষ্ট্র সচিব চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু

ইরান যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্র এখন ইসলামাবাদ

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১১:২৩ এএম
ইরান যুদ্ধ ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্র এখন ইসলামাবাদ
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এখনো থামেনি। দুই পক্ষের হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে এক মাস ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে নাড়িয়ে দেওয়া এই সংঘাতের মাঝেই হঠাৎ করে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন গতি পেয়েছে—যা সংঘাত শুরুর পর থেকে সবচেয়ে সক্রিয় বলে মনে করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনব্যাপী বৈঠক রবিবার (২৭ মার্চ) ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে। এতে পাকিস্তানের রাজধানী দ্রুতই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে আনা।

শেহবাজ-পেজেশকিয়ান ফোনালাপ

বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ৯০ মিনিটের ফোনালাপ করেন। পাঁচ দিনের মধ্যে এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় আলোচনা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই আলাপের মূল বিষয় ছিল উত্তেজনা প্রশমন এবং আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ‘বিশ্বাস’ যার অভাব তেহরানের মতে পূর্ববর্তী সব আলোচনাকে ব্যর্থ করেছে।

পেজেশকিয়ান শরিফকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের পারমাণবিক আলোচনার সময়ও ইরান দুই বার হামলার শিকার হয়েছিল। একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে হামলা—এই দ্বৈত অবস্থান ওয়াশিংটনের প্রতি ইরানের অবিশ্বাস আরও গভীর করেছে।’ তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘সরাসরি সংলাপে যেতে হলে আগে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নিতে হবে।’
চার দেশের কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম: যেভাবে গড়ে উঠল

ইসলামাবাদের এই বৈঠক হঠাৎ করে আয়োজন করা হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে মুসলিম ও আরব দেশগুলোর একটি বৃহত্তর বৈঠকে এই প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। সেখান থেকেই চার দেশের একটি কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে, যেখানে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিচ্ছে।

মূলত বৈঠকটি তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় হওয়ার কথা থাকলেও, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকার কারণে স্থান পরিবর্তন করে ইসলামাবাদে আনা হয়।

একই সময়ে চীনও পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছে এবং ইরানকে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে উৎসাহ দিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বৈশ্বিক শক্তিগুলোও ধীরে ধীরে এই আঞ্চলিক উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি নয়, সরাসরি সংলাপের পথ তৈরি

কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ইসলামাবাদের বৈঠকের লক্ষ্য তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা নয়। বরং আঞ্চলিক অবস্থানগুলো সমন্বয় করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সরাসরি সংলাপের ভিত্তি তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। এখন কূটনৈতিক উদ্যোগ আর তাত্ত্বিক পর্যায়ে নেই—একটি প্রস্তাবনা নথি ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে এবং বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে সেটির পরবর্তী অগ্রগতির জন্য।

কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান যোগাযোগ অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে কয়েক দিনের মধ্যেই বৈঠক হতে পারে, যা সম্ভবত পাকিস্তানেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নামও সম্ভাব্য আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় রয়েছে। তবে এসব সময়সূচি এখনো অনিশ্চিত। এক কূটনীতিক আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এমন বৈঠক হওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে অন্তত সাময়িকভাবে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিতে হতে পারে, যা ইরানের আস্থা তৈরির শর্ত পূরণ করবে।’
পাকিস্তানের ভূমিকা: বার্তাবাহক, সিদ্ধান্ত নয়

পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের দাবি-দাওয়াগুলো ইসলামাবাদ ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে এখানেই তাদের ভূমিকা শেষ। তার ভাষায়, ‘আমরা ঘোড়াকে পানির কাছে নিতে পারি, কিন্তু সে পানি পান করবে কি না, তা পুরোপুরি তার নিজের সিদ্ধান্ত।’

ইরানের দাবি কী?

ইসলামাবাদের বৈঠকে ইরানের প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করা হবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, ইরান ইতোমধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে তাদের জবাব পাঠিয়েছে। তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে–তাৎক্ষণিক যুদ্ধ বন্ধ, ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের কৌশলগত প্রভাব স্বীকৃতি দেওয়া।

শেহবাজ শরিফের সঙ্গে আলোচনায় পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, ‘ইসরায়েল সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে চাইছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অন্য দেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের অবস্থান হলো–যেকোনো সংলাপ পারস্পরিক সম্মান এবং ইরানি নাগরিক ও কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ড বন্ধের পরিবেশে হতে হবে।’

পাকিস্তান একদিকে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর অবকাঠামোর ওপর ইরানের হামলার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এতে বোঝা যায়, আঞ্চলিক শক্তিগুলো একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল নিয়ে দ্বিধায় রয়েছে, আবার অন্যদিকে সংঘাত যাতে আরও বিস্তৃত না হয়, সে চেষ্টা করছে।

ইসলামাবাদের এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের কোনো প্রতিনিধি সরাসরি অংশ নিচ্ছে না। এটি মূলত আলোচনার প্রস্তুতিমূলক ধাপ। এর লক্ষ্য হলো উত্তেজনা প্রশমন নিয়ে আঞ্চলিক ঐকমত্য তৈরি করা এবং বিভিন্ন মধ্যস্থতা উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় ঘটানো, যাতে একটির সঙ্গে অন্যটির সংঘাত না হয়। কূটনীতিকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়েই নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেই আলোচনায় বসার রাজনৈতিক সুযোগ পাবে।

আগামী ৭২ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ

কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই বোঝা যাবে কূটনৈতিক এই উদ্যোগ বাস্তবে কোনো বৈঠকে রূপ নেয় কি না। পাকিস্তান ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে কথা বলেছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে একত্র করেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছে। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ইসলামাবাদে নয়, বরং ওয়াশিংটন ও তেহরানে নেওয়া পদক্ষেপের ওপর।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান খোঁজার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ। যদি অবিশ্বাস ও চলমান সংঘাতের কারণে এই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়, তবে আঞ্চলিক যুদ্ধ আরও বড় সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা

অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো বার্ড ফ্লুর এইচ৫ স্ট্রেইন শনাক্ত করেছেন।

শনিবার (২০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির কৃষিমন্ত্রী। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসটি এখন বিশ্বের সব মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। 

কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি অভিবাসী সামুদ্রিক পাখি—ব্রাউন স্কুয়ার মধ্যে রোগটি পাওয়া গেছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনাতেও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

এর আগে, অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাসটি হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির ব্যাপক ক্ষতি করতে সক্ষম।

কলিন্স বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, যদিও এটি হতাশাজনক। বর্তমানে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, এ ঘটনাটি উদ্বেগজনক এবং আমার সরকার রোগটির বিস্তার রোধে ব্যবস্থা নেবে। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নস্যাৎ করতে পারেন নেতানিয়াহু: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে হওয়া শান্তিচুক্তিটি নস্যাৎ করে দিতে পারেন।

লেবাননে সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হওয়ার খবরের মাঝেই এক নাটকীয় মন্তব্য সামনে এসেছে।

ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একজন ‘যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী’ বলে প্রশংসা করেছেন।

সম্প্রতি ওয়াশিংটনের কাছে কাতার কর্তৃক উপহার দেওয়া নতুন 'এয়ার ফোর্স ওয়ান' বিমান উন্মোচনের পর ট্রাম্প বলেন, "ইসরায়েলের সঙ্গে আমাদের দারুণ সম্পর্ক। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং তার এই কৃতিত্ব পাওয়া উচিত।"

তবে অন্য এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কিছুটা রসিকতা ও সতর্কতার সুরে বলেন, "নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো, তবে আমাদের তাকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তারা আমাকে সম্মান করে এবং আমি যা বলি তা শোনে।"

গত ১ জুন এক ফোনালাপে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার কারণে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন এবং গালমন্দ করেছিলেন।

গোয়েন্দা সতর্কবার্তা ও যুদ্ধবিরতি:

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছে যে, নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। চলতি বছরের শেষে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার না করে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে চান।

এদিকে, চরম উত্তেজনার মাঝেই গত শুক্রবার আমেরিকা ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তবে ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ রাখলেই কেবল তারা এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।

অন্যদিকে, সমস্যা সমাধানে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/

কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০০ এএম
কাতারের দেওয়া 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের উপহার দেওয়া নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করেছেন, যেটিকে তিনি 'উড়ন্ত হোয়াইট হাউস' বলে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) ওয়াশিংটনের ঠিক বাইরে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে হ্যাঙ্গারের ভেতরে বিমানটি উন্মোচনের সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল বিমান উপহার পেয়ে উপসাগরীয় আমিরাতের প্রশংসা করেন তিনি।

তবে শত শত মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিমানটি উপহার দেওয়ায় নৈতিক, সাংবিধানিক এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, 'এই উপহার প্রত্যাখ্যান করা বোকামি। এটি যেকোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের চেয়ে বেশি দূরত্বে এবং দ্রুত গতিতে উড়তে পারে। বিমানটি আমার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিতে দান করা হবে।'

এতে আরও উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।

উল্লেখ্য, নতুন বিমানটি ৪ জুলাই ২৫০তম মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে একটি ফ্লাইওভারে অংশ নেবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রথম মেয়াদ থেকেই ১৯৯০-এর দশক থেকে ব্যবহৃত এই বিমানগুলো প্রতিস্থাপনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/

জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১১:০৩ এএম
জি-৭ সম্মেলনের ‘আমি বস’ মন্তব্য ছিল শুধুই মজা, বললেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে করে ‘আমি বস’ মন্তব্যটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ মন্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কেবল রসিকতা করেছিলেন। নিজেকে অন্যদের ওপর কর্তৃত্বশীল হিসেবে বুঝাতে চাইনি।

অ্যাক্সিওস শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি শুধু মজা করছিলাম। বস হওয়ার চেষ্টা করিনি।’

তিনি জানান, মন্তব্যটি প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে, ফলে বিষয়টি বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘সবাই কক্ষে বসে ছিলেন। আমি ঢুকে তাদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম, ‘আমি বস’। এটি নিছক রসিকতা ছিল। কিন্তু বিষয়টি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি শুধু মজা করার চেষ্টা করেছিলাম।”

গত বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী জি-৭ সম্মেলনের শেষ দিনের এক বৈঠকে প্রবেশের সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সে সময় অন্যান্য রাষ্ট্রনেতারা নিজ নিজ আসনে বসে ছিলেন। হঠাৎ ট্রাম্পের এ  মন্তব্যে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্যটিকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছিলেন বলে মনে হয়। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্যে করে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনি কেমন আছেন?’ জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ভালো আছি, ধন্যবাদ।’

এদিকে, ৮০তম জন্মদিন উদযাপনের পর ট্রাম্প ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে ইরান, ইউক্রেন, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়, যেগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে।

জি-৭ জোটের সদস্য দেশগুলো পর্যায়ক্রমে সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। কানাডার কাছ থেকে এ বছরের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে ফ্রান্স, আর ২০২৭ সালে দায়িত্ব পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে ফ্রান্সের র‌্যামবুইয়েতে প্রথম জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে সে সময় ফ্রান্স, পশ্চিম জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা একত্রিত হন। পরের বছর কানাডা যোগ দিলে জোটটি জি-৭ নামে পরিচিতি পায়। সূত্র: এনডিটিভি

খাদিজা রুমি/অমিয়/

তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ১০:৫০ এএম
তুমুল হট্টগোল, জাতিসংঘ কর্মকর্তাকে ‘চুপ থাকতে’ বললেন ইসরায়েলি দূত
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে চরমভাবে ভেঙে পড়ল কূটনৈতিক সৌজন্যতা। সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক উন্মুক্ত শুনানিতে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত এবং জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। একপর্যায়ে জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তাকে কড়া ভাষায় ‘চুপ থাকার’ নির্দেশ দেন ইসরায়েলি দূত।

বৈঠকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেনের পদত্যাগ দাবি করেন।

উল্লেখ্য, প্রমিলা প্যাটেনের তৈরি করা একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার অভিযোগে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ড্যানন এই প্রতিবেদনটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রতি ইঙ্গিত করে ড্যানন বলেন, ‘ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর জন্য মহাসচিবের যে মায়াজাল রয়েছে, আপনি তার কাছে নতি স্বীকার করেছেন।’

ড্যাননের এমন মন্তব্যের পর বৈঠকে উপস্থিত জাতিসংঘের আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা ভেনেসা ফ্রেজিয়ার তীব্র আপত্তি জানান। তিনি মূলত সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের প্রতিনিধি এবং আরেকটি পৃথক প্রতিবেদনের সংকলক (যেখানেও ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে)।

ফ্রেজিয়ার চিৎকার করে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ উত্থাপন করেন এবং ড্যাননকে ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তার কাছে এর ‘অকাট্য প্রমাণ’ রয়েছে বলেও দাবি করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইসরায়েলি দূত ড্যানন ফ্রেজিয়ারকে সরাসরি চুপ থাকার কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি সদস্য রাষ্ট্র, আর আপনি জাতিসংঘের জন্য কাজ করেন। তাই এখন আপনি চুপ থাকবেন। আপনি এবং আপনার লজ্জাজনক প্রতিবেদন- উভয়ই চুপ থাকবে।’

মাল্টার সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত ভেনেসা ফ্রেজিয়ার চলতি সপ্তাহে মহাসচিব গুতেরেসের পক্ষে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয় যে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোকেও বৈশ্বিক কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। ইসরায়েল ইতোমধ্যে এই প্রতিবেদনের তথাকথিত 'লজ্জার তালিকা' অ্যানেক্সে স্থান পেয়েছে।

গত মাসে প্রমিলা প্যাটেনের প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ড্যানন এটিকে জাতিসংঘের ‘নতুন পতন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছরের শেষে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের এই উভয় প্রতিবেদনেই ইসরায়েলের পাশাপাশি তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি

তামান্না রুপা/অমিয়/