ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর (NATO) ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া এই সামরিক জোটের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
রুবিও বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ন্যাটোর কোনো অস্তিত্ব নেই। আর এই সত্যটি সবাই খুব ভালো করেই জানে।’’
ন্যাটো সদস্য দেশগুলো ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সরাসরি সহায়তা না করায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি মিত্র দেশগুলোকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘‘ন্যাটো দেশগুলো হচ্ছে কাপুরুষ এবং আমরা এটি মনে রাখব!’’
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে লিপ্ত, তখন মিত্রদের এই নির্লিপ্ততা গ্রহণযোগ্য নয়।
রুবিও এবং ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে দশকের পর দশক ধরে চলা সামরিক সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক জোট থেকে নিজেদের সমর্থন কমিয়ে নিতে পারে বা জোটের কার্যকারিতা সীমিত করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইতোমধ্যেই স্পেন এবং ব্রিটেনের মতো দেশগুলো এই যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ না করার বা আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটনের এই কড়া বার্তা মূলত ন্যাটো সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/