বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শক্তিশালী ডলারের চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে এ বছর ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ড ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭১৮ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারস ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৭৪২ ডলারে নেমে গেছে।
এদিকে মার্কিন ডলার সূচক ০ দশমিক ৪ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালী অবরোধের প্রস্তুতি নেওয়ায় ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনার ব্যর্থতা।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে কোনো সামরিক জাহাজ প্রবেশ করলে তা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বাড়ানোর দিকে ঝুঁকতে পারে। এতে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ কমে যাচ্ছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এর ফলে ডলার ও তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সোনার বাজার আবারও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমেছে। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
এছাড়া অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩৪ দশমিক ৯৫ ডলারে নেমেছে, তবে প্যালাডিয়াম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৩৫ দশমিক ৭৭ ডলারে পৌঁছেছে। সূত্র: রয়টার্স
অমিয়/