অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল এই পদে দায়িত্ব নেবেন আগামী জুলাই মাসে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সরকারি ঘোষণায় বলা হয়, বর্তমানে ‘চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ’ হিসেবে দায়িত্বরত কয়েল বিদায়ী সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
এ ছাড়া নৌবাহিনীর বর্তমান প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত করে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সের (এডিএফ) প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেছে।
নৌবাহিনীর বর্তমান উপ-প্রধান, রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি, হ্যামন্ডের স্থলাভিষিক্ত হয়ে এই শাখার প্রধান হবেন।
অস্ট্রেলিয়ার ১২৫ বছরের সামরিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি শাখার (সেনা, নৌ ও বিমান) মধ্যে যেকোনো একটির প্রথম নারী প্রধান হিসেবেও ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জুলাই থেকে অস্ট্রেলিয়ান আর্মির ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান দায়িত্ব নেবেন।’
প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে ‘অত্যন্ত ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেন।
প্রায় চার দশকের সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কয়েল ১৯৮৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই নিয়োগ এমন সময় এলো, যখন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং বাহিনীতে যৌন হয়রানি ও বৈষম্য নিয়ে অভিযোগের মুখে রয়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ।
এই পদক্ষেপকে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীতে নারীদের নেতৃত্বে অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
অমিয়/