পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটযুদ্ধ শেষ। এবার চলছে গণনা। এই ভোটযুদ্ধে জয় পেতে তথাকথিত প্রচারের বাইরে গিয়ে প্রার্থীদের নানান রকমের কাণ্ড দেখা গেছে। প্রচারে কোনও প্রার্থীকে দেখা গেছে ভোটারদের বাড়িতে সবজি কেটে দিতে, কেউ রুটি বেলে দিয়েছেন, কেউ আবার দাড়ি কামিয়ে দিয়েছেন ভোটারের। কাউকে দেখা গিয়েছে মাছ কেটে দিতে।
কিন্তু এই ‘জনসেবা’ কিন্তু ফ্রি নয়। পারিশ্রমিক পাবেন বিজয়ীরা। ভাতা, বেতন, ফোন বিল, যাতায়াত খরচ মিলিয়ে মাস গেলে বেশ মোটা টাকা হাতে যায় বিধায়কদের।
সাধারণত, একজন বিধায়কের মূল বেতন এবং ভাতা মিলিয়ে যে টাকা হয়, তার পুরোটাই ওই বিধায়কের মাসিক বেতন হিসাবে ধরা হয়।
একজন বিধায়ক নির্বাচনী কেন্দ্র এবং তার বাইরে যাতায়াতের জন্য ভাতা পেয়ে থাকেন। ব্যক্তিগত সচিব এবং বাড়িভাড়া পান বিধায়করা।
তবে প্রাথমিকভাবে বিধায়কদের নিজেদেরই এই টাকা দিতে হয়। পরে এই টাকা তাদের বিধানসভা সচিবালয় থেকে দেওয়া হয়। এর বাইরে নিজের ও পরিবারের চিকিৎসার খরচও পান বিধায়করা।
বিধায়করা কত বেতন ও ভাতা পান?
২০২৩ সালের আগে পর্যন্ত বাংলার বিধায়কদের বেতন ছিল ১০ হাজার টাকা। প্রতিমন্ত্রীরা ১০ হাজার ৯০০ টাকা পেতেন।
পূর্ণমন্ত্রীদের বেতন ছিল ১১ হাজার। এর বাইরে বেশ কিছু ভাতা ছিল। এছাড়া দৈনিক বিধানসভায় যোগ দেওয়া এবং বিভিন্ন কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য আলাদা ভাতা পেতেন বিধায়করা। তবে সব মিলিয়ে অঙ্কটা অন্য রাজ্যের চেয়ে অনেকটাই কম ছিল।
২০২৩ সালে একযোগে বিধায়ক-মন্ত্রীদের বেতন ৪০ হাজার টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বর্তমান রাজ্য সরকার। এখন প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পান তারা। প্রতিমন্ত্রীরা ৫০ হাজার ৯০০, আর পূর্ণমন্ত্রীদের বেতন ৫১ হাজার টাকা।
ভাতা এবং কমিটির বৈঠকে যোগদানের জন্য বাড়তি টাকা মিলিয়ে ২০২৩ সালের আগ পর্যন্ত বিধায়করা ৮১ হাজার টাকা পেতেন। সেটা বেড়ে হয় ১ লাখ ২১ হাজার টাকা।
বিরোধী দলীয় নেতা, প্রতিমন্ত্রী এবং পূর্ণমন্ত্রীরা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পেতেন, তারা এখন দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পাচ্ছেন।
রাজ্যের সব বিধায়ক-মন্ত্রী এমনকী বিরোধী দলনেতার বেতন বাড়ালেও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বেতন বাড়াননি। তিনি সাম্মানিক হিসাবে মাসে ১ টাকা নেন। সংসদ সদস্য হিসেবে প্রাপ্য পেনশনও নেন না তিনি।
তবে মুখ্যমন্ত্রী পেনশন না নিলেও অন্য বিধায়ক এবং মন্ত্রীরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে পেনশন পান। সেই সঙ্গে নিজেদের এলাকা উন্নয়ন খাতেও বছরে ৬০ লাখ টাকার কিছু বেশি পেয়ে থাকেন। যদিও সেই টাকা বিধায়কদের হাতে যায় না। বিধায়করা এলাকা উন্নয়নের জন্য প্রকল্প তৈরি করে জেলাশাসকের কাছে জমা দেন। জেলাশাসক ছাড়পত্র দিলে তবেই সেই টাকার কাজ হয়। সূত্র: সংবাদপ্রতিদিন
অমিয়/