ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড পেলের কীর্তিতে ভাগ বসালেন ইয়ামাল জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা সৌদিকে উড়িয়ে দিল স্পেন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু

নিতান্তই দুর্ঘটনাবশত আবিষ্কার পেনিসিলিন

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৩, ১১:৪১ এএম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:২৯ এএম
নিতান্তই দুর্ঘটনাবশত আবিষ্কার পেনিসিলিন

পেনিসিলিন চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অসামান্য আবিষ্কার। নোবেল বিজয়ী স্কটিশ বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে একটি দুর্ঘটনাবসত পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন। ফ্লেমিং ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং জীবাণুতত্ত্ববিদ। এটি পৃথিবীতে আবিষ্কৃত প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক যা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।  ওষুধ হিসাবে ব্যবহারের জন্য পেনিসিলিনের উন্নতিতে ভূমিকা রাখেন অস্ট্রেলিয়ান হাওয়ার্ড ওয়াল্টার ফ্লররি, একসঙ্গে জার্মান নোবেল বিজয়ী আর্নেস্ট অ্যান্ড চেন এবং ইংরেজি প্রাণরসায়নবিদ নর্মান হিটলে।

১৯২১ সালের ঘটনা, তখন ইংল্যান্ডের সেন্ট মেরিজ মেডিকেল স্কুলের ল্যাবরেটরিতে কাজ করতেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। কয়েকদিন ধরে তিনি ঠাণ্ডায় ভুগছিলেন। জীবাণু কালচার নিয়ে ল্যাবরেটরিতে কাজ করার সময় হঠাৎ তীব্র হাঁচি আসে। ফ্লেমিং নিজেকে সামলাতে পারলেন না, সেট সরানোর আগেই হাঁচির দমকে নাক থেকে কিছুটা সর্দি সেটের ওপর পড়ে গেল।

পুরো জিনিসটা নষ্ট হওয়ার জন্য সেট সরিয়ে রেখে নতুন আরেকটা সেট নিয়ে কাজ শুরু করলেন। পরদিন ল্যাবরেটরিতে ঢুকে সরিয়ে রাখা সেই সেটের দিকে নজর পড়ল তার, ভাবলেন সেটটি ধুয়ে কাজ করবেন। কিন্তু সেটটি হাতে তুলেই চমকে উঠলেন ফ্লেমিং।

অবাক ব্যাপার, গতকালের জীবাণুগুলো আর নেই। তিনি দেহ থেকে বের হওয়া এই প্রতিষেধকটির নাম দিলেন লাইসোজাইম।

কয়েক বছর পরের কথা, ১৯২৮ সালে লন্ডনের এক ল্যাবরেটরিতে ফ্লেমিং স্টেফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া নিয়ে গবেষণা করছিলেন লন্ডনের এক ল্যাবরেটরিতে। মাঝে গবেষণা স্থগিত রেখে তিনি বেড়াতে যান স্কটল্যান্ডে। যাওয়ার সময় তিনি স্টেফাইলোকক্কাসটি একটি কাচের পাত্রে রেখে যান এবং ভুল করে গবেষণাগারের জানালা খুলে রেখে যান। এই ভুলে ফ্লেমিং চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্ময়কর জিনিসটি আবিষ্কার করেন।

দুই সপ্তাহ ছুটি কাটিয়ে গবেষণাগারে ফিরে তিনি আবিষ্কার করেন, কোনো ফাঁকে ঝড়ো বাতাসের দমকে খোলা জানালা দিয়ে ল্যাবরেটরির বাগান থেকে কিছু ঘাসপাতা উড়ে এসে পড়েছে জীবাণু ভর্তি প্লেটের ওপর। তিনি প্লেটগুলোতে দেখলেন জীবাণুর কালচারের মধ্যে স্পষ্ট পরিবর্তন।

ফ্লেমিং বুঝলেন এ আগাছাগুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে যার জন্য পরিবর্তন ঘটেছে। পরীক্ষা করে দেখা গেল আগাছাগুলোর ওপর একরকম ছত্রাক জন্ম নিয়েছে। সেই ছত্রাকগুলো বেছে বেছে জীবাণুর ওপর দিতেই জীবাণুগুলো ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, তার এত দিনের গবেষণা অবশেষে সার্থক হয়েছে। ছত্রাকগুলোর বৈজ্ঞানিক নাম ছিল পেনিসিলিয়াম নোটেটাম, তাই তিনি এর নাম দিলেন পেনিসিলিন।

১৯৪৫ সালে পেনিসিলিন আবিষ্কার এবং মানবকল্যাণে এর অসামান্য অবদানের জন্য আলেকজান্ডার ফ্লেমিং নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কার পেয়ে ফ্লেমিং কৌতুক করে বলেন, ‘এ পুরস্কারটি ঈশ্বরের পাওয়া উচিত, কারণ তিনিই সবকিছুর আকস্মিক যোগাযোগ ঘটিয়েছেন।’

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অসামান্য গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার এ পেনিসিলিন। জীবনের ছোট্ট একটি ভুলের পুরস্কারস্বরূপ আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ইতিহাসের পাতায় চিরদিন অমর হয়ে থাকবেন।

জাহ্নবী

 

প্লেগের জীবাণু আবিষ্কার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:২৯ এএম
প্লেগের জীবাণু আবিষ্কার
সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদ এলাকায় আবিষ্কৃত একটি কঙ্কাল। এটি থেকেই প্লেগের জীবাণুর সন্ধান পাওয়া গেছে । ছবি: সংগৃহীত

সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে এক অপ্রত্যাশিত জনগোষ্ঠীর ওপর প্লেগ রোগটি কীভাবে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল, তা উন্মোচন করেছে প্রাচীন ডিএনএ। দক্ষিণ-পূর্ব সাইবেরিয়ার প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করা ডিএনএ বিশ্লেষণ করে প্লেগের সম্পূর্ণ অজানা কিছু স্ট্রেন বা ধরন খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ গত বুধবার প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় এই তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটিই মানুষের মধ্যে প্লেগ রোগের উপস্থিতির সবচেয়ে প্রাচীন প্রমাণ।

প্লেগ রোগটি মূলত ‘ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস’ নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে ঘটে। মানব ইতিহাসে এটি বেশ কয়েকবার ভয়াবহ মহামারির জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে চতুর্দশ শতাব্দীর কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক ডেথ’ অন্যতম। ওই মহামারিতে মাত্র পাঁচ বছরে আনুমানিক আড়াই কোটি মানুষের মৃত্যু হয়। নতুন এই স্ট্রেনটি আবিষ্কারের আগে বিউবনিক প্লেগের সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে প্রাচীন স্ট্রেনটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ৩,৮০০ বছর আগের নথিতে।

আগের গবেষণাগুলো থেকে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, প্রাচীনতম স্ট্রেনগুলোতে রোগ ছড়ানোর মতো প্রয়োজনীয় জেনেটিক বৈশিষ্ট্য ছিল না। ফলে তারা ভাবতেন যে, শুরুর দিকের প্লেগগুলো বড় আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারত না। গবাদি পশু ও সংক্রমিত মাছি থেকে কীভাবে এই ব্যাকটেরিয়া মানুষের মধ্যে প্রথম ছড়িয়েছিল, তা নিয়েও বিজ্ঞানীদের মনে প্রশ্ন ছিল।

তবে নতুন আবিষ্কৃত স্ট্রেনটি এই পুরো ধারণাকে বদলে দিয়েছে। গবেষকরা মূলত লেক বৈকাল অঞ্চলের শিকারি-সংগ্রাহক মানুষের অবশিষ্টাংশের একটি রহস্য সমাধানের চেষ্টা করছিলেন। তখনই তারা অপ্রত্যাশিতভাবে এই স্ট্রেনটির সন্ধান পান। ওখানকার দুটি বড় সমাধিতে অস্বাভাবিক সংখ্যায় শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তাদের শরীরে কোনো আঘাত বা স্পষ্ট মৃত্যুর কারণ ছিল না।

এই যাযাবর ও ছোট ছোট গোষ্ঠীর ৪৬ জন মানুষের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৮ জনের দেহে প্রাচীন ডিএনএ বিশ্লেষণে প্লেগ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সঙ্গে সেখানে এমন একটি জেনেটিক উপাদানের সন্ধান মিলেছে, যা সংক্রমণের তীব্রতা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আবিষ্কার প্লেগের উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে নতুন ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে ছড়াত, সেই তত্ত্বকেও চ্যালেঞ্জ করছে।

এই গবেষণার প্রধান লেখক এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো রুয়ারিধ ম্যাকলিওড গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শিকারি-সংগ্রাহকরা ক্রমাগত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াতেন। প্রচলিত মহামারিসংক্রান্ত তত্ত্ব হলো–এই ধরনের গতিশীল ও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রামক রোগ সহজে জেঁকে বসতে বা পুরো সম্প্রদায়কে ধ্বংস করতে পারে না। সাধারণত কেউ অসুস্থ হলে তারা অন্য কোথাও চলে যায়। কিন্তু একটি বিচ্ছিন্ন প্রাগৈতিহাসিক শিকারি-সংগ্রাহক গোষ্ঠীর মধ্যে এমন ঘটনা ঘটার প্রমাণ মেলায় আগের সেই তত্ত্ব এখন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

লেক বৈকালের চারপাশের এই প্রাচীন সমাধিক্ষেত্রগুলোতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা কয়েক দশক ধরে খননকাজ চালাচ্ছেন। এই অঞ্চলটি মাছ ধরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ছিল। ম্যাকলিওড জানান, এই যাযাবর মানুষরা নিজেদের এলাকার ওপর অধিকার ধরে রাখতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তাদের মৃতদেহ এখানেই সমাহিত করত।

গবেষকরা উন্নত ডিএনএ সিকোয়েন্সিং, প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ও রেডিওকার্বন ডেটিং পদ্ধতি একসঙ্গে ব্যবহার করে হাজার বছর আগের এই ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করেছেন। ম্যাকলিওড আরও বলেন, রেডিওকার্বন ডেটিং থেকে খুব স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, এই ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটেছিল। অর্থাৎ, এসব মানুষের মৃত্যু প্রায় একই সময়ে হয়েছিল।

জেনেটিক গবেষণা থেকে সমাধিতে সমাহিত শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক আত্মীয়তার সম্পর্কও জানা গেছে। গবেষণার সহ-লেখক এবং ডেনমার্কের কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় জিনতাত্ত্বিক অধ্যাপক এস্কে উইলারসলেভ বলেন, কোনো কোনো কবরে ভাইবোন, বাবা-মা এবং শিশুদের একসঙ্গে সমাহিত করা হয়েছিল। এটি ইঙ্গিত করে যে, একে অপরের যত্ন নেওয়ার সময় রোগটি পরিবারের এক সদস্য থেকে অন্য সদস্যের দেহে ছড়িয়েছিল। একই সঙ্গে এ রোগটি কীভাবে ছড়ায় তা নিয়ে তাদের অজ্ঞতাকেও প্রকাশ করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কবরে আত্মীয়দের আলাদাভাবে সমাহিত করা হয়েছিল। সম্ভবত তারা মহামারির ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গে মারা গিয়েছিলেন।

গবেষকদের মতে, ওই অঞ্চলে কয়েক শ বছরের ব্যবধানে দুটি পৃথক প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল। গবেষকরা প্রাচীন মানুষের দাঁত থেকে এই ব্যাকটেরিয়ার জিনোম বা পূর্ণাঙ্গ নকশা উদ্ধার করতে পেরেছেন। এটি ইঙ্গিত করে, এই বিশেষ প্লেগ স্ট্রেনটি ৫,৭০০ বছর আগে উৎপন্ন হয়েছিল।

গবেষকদের মতে, এটি প্রাচীন ও আধুনিক অন্য সব জানা প্লেগ স্ট্রেনের চেয়ে আলাদা। এই জিনোম থেকে একটি অনন্য ‘সুপারঅ্যান্টিজেন’ বা অণুজীবজনিত টক্সিনের সন্ধান মিলেছে। এই টক্সিনটি সংক্রমণের তীব্রতা বাড়াতে পারে ও মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে অতিরিক্ত মাত্রায় সক্রিয় করে তোলে। এটি মূলত সাড়ে সাত বছর থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করেছিল।

ম্যাকলিওড বলেন, এর একটি মর্মান্তিক উদাহরণ হলো একটি কবর, যেখানে তিনটি খুব কম বয়সী মেয়েকে একসঙ্গে সমাহিত করা হয়েছে। সম্ভবত তারা একই সময়ে মারা গিয়েছিল। এটি স্পষ্ট যে এই রোগটি ওই সম্প্রদায়ের শিশুদের ওপর অত্যন্ত দুঃখজনক প্রভাব ফেলেছিল। মৃত মেয়েরা একে অপরের কাজিন ছিল। তাদের মধ্যে দুজন ছিল আপন বোন। সবচেয়ে ছোটটির বয়স ছিল ৪ বা ৫ বছর এবং সবচেয়ে বড়টির বয়স ছিল সম্ভবত ৯ বছর।

এই সুপারঅ্যান্টিজেনটি আধুনিক যুগের ‘ইয়ারসিনিয়া সিউডোটুবারকিউলোসিস’ নামক ব্যাকটেরিয়ায়ও উপস্থিত রয়েছে, যা স্বাভাবিকভাবে প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়। মানুষ সাধারণত দূষিত কাঁচা বা আধাসিদ্ধ খাবার খেলে কিংবা অনিরাপদ পানি পান করলে এতে আক্রান্ত হয়। এই সংযোগটি প্লেগের একদম শুরুর দিকের সংক্রমণ পদ্ধতি সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের সূত্র দিতে পারে।

তাহলে এই যাযাবর মানুষরা কীভাবে প্রথম সংক্রমিত হয়েছিল? গবেষকরা নির্ধারণ করেছেন, এটি সম্ভবত ‘মারমোট’ নামক বড় ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ঘটেছিল। এই প্রাণীদের দেহে প্লেগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বহনের একটি দীর্ঘ বিবর্তনের ইতিহাস রয়েছে। এই অঞ্চলে মারমোট এখনো প্লেগ ছড়ানোর প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।

গবেষকদের একাংশ মনে করেন, কৃষিকাজের প্রসার, ঘনবসতি বা জনাকীর্ণ শহর গড়ে ওঠার অনেক আগেই প্লেগের উৎপত্তি হয়েছিল মধ্য বা উত্তর-পূর্ব এশিয়ায়। সেখান থেকে এটি ইউরেশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্র: সিএনএন

পালকযুক্ত নতুন ডাইনোসরের ফসিল আবিষ্কার

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
পালকযুক্ত নতুন ডাইনোসরের ফসিল আবিষ্কার
পালকযুক্ত নতুন প্রজাতির ডাইনোসর।

চীনের লিয়াওনিং প্রদেশে প্রায় ১২ কোটি বছরের পুরনো একটি নতুন পালকযুক্ত ডাইনোসর প্রজাতির জীবাশ্ম শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। জীবাশ্মটি ভালোভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং এতে ডাইনোসরের কঙ্কালের চারপাশে বিস্তৃত পালকের স্পষ্ট ছাপও রয়েছে।


চীনা বিজ্ঞানীদের গবেষণাটি বৈজ্ঞানিক জার্নাল ভার্টিব্রাটা প্যালএশিয়াটিকায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়, নতুন প্রজাতিটি পেনার‌্যাপটোরান গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যা আধুনিক পাখির নিকটাত্মীয় হিসেবে বিবেচিত। এটি একমাত্র পরিচিত ডাইনোসর, যেখানে একসঙ্গে বড় আকারের পায়ের পালক, লম্বা পাখার মতো লেজের পালক এবং সামনের অঙ্গে ডানার মতো পালকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।


গবেষকদের মতে, ডাইনোসরটির লেজে প্রায় ১৬টি পালক ছিল, যা ময়ূরের মতো ছড়ানো আকৃতি তৈরি করত। প্রজাতিটি ড্রোমিওসরিড পরিবারভুক্ত, যার মধ্যে ভেলোসির‌্যাপ্টর ও মাইক্রোর‌্যাপ্টরের মতো ডাইনোসর রয়েছে। সূত্র: সিএমজি

নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
নাসার আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীদের নাম চূড়ান্ত
বাম থেকে ডানে আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারী আন্দ্রে ডগলাস, লুকা পারমিটানো, র‍্যান্ডি ব্রেসনিক এবং ফ্রাঙ্ক রুবিও। ছবি: নাসা

ইতিহাসের অন্যতম জটিল মহাকাশ অভিযানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে নাসা। এই অভিযানের নাম আর্টেমিস থ্রি। সম্প্রতি এই মিশনের জন্য চারজন নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। আগামী ২০২৭ সালে তারা পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে যাত্রা করবেন। সেখানে স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের তৈরি বাণিজ্যিক মুন ল্যান্ডারের ডকিং বা মহাকাশযানের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে।

আর্টেমিস থ্রি মিশনের চার নভোচারীর মধ্যে রয়েছেন নাসার কমান্ডার র‍্যান্ডি ব্রেসনিক। তিনি একজন সাবেক টেস্ট পাইলট। মিশনের পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার নভোচারী লুকা পারমিতানো। তিনি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের প্রথম ইতালীয় কমান্ডার ছিলেন। মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকছেন নাসার আন্দ্রে ডগলাস ও ফ্র্যাঙ্ক রুবিও। এর মধ্যে ফ্র্যাঙ্ক রুবিও টানা ৩৭১ দিন মহাকাশে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সর্বোচ্চ সময় মহাকাশে কাটানোর রেকর্ড গড়েছেন। এছাড়া নাসার ব্যাকআপ ক্রু হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন রবার্ট হাইন্স।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলবে এই মিশন। এটি আগের আর্টেমিস টু মিশনের চেয়ে চার দিন বেশি দীর্ঘ হবে। এই বাড়তি সময়ে নাসা তাদের গুরুত্বপূর্ণ লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম এবং উড্ডয়নের সময় ডকিং ব্যবস্থা ভালোভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ পাবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালে আর্টেমিস ফোর মিশন পরিচালিত হবে। এই মিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও চাঁদের বুকে পা রাখবেন মার্কিন নভোচারীরা।

প্রাথমিকভাবে আর্টেমিস থ্রি মিশনের মাধ্যমেই চাঁদে অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু ল্যান্ডার রকেটগুলোর প্রস্তুতিগত বিলম্বের কারণে এই মিশনকে পৃথিবীর কক্ষপথের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে রূপান্তর করা হয়। চাঁদে অবতরণের বিষয়টি এখন আর্টেমিস ফোর এবং আর্টেমিস ফাইভ মিশনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আর্টেমিস ফাইভ মিশনের মাধ্যমে চাঁদে নাসার স্থায়ী ঘাঁটির ভিত্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই অভিযান নাসার ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদে পৌঁছাতে স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ এবং ব্লু অরিজিনের চন্দ্র অবতরণ যানের ওপর নির্ভর করছে নাসা। সম্প্রতি এই দুই ব্যবস্থার কিছু কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। তবে প্রতিষ্ঠান দুটি জানিয়েছে, তারা সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

মহাকাশযানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি আর্টেমিস থ্রি মিশনের নভোচারীরা বিজ্ঞানীদের সঙ্গেও কাজ করবেন। তারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, মহাকাশের আবহাওয়া এবং অরবিটাল ড্র্যাগ নিয়ে গবেষণা করবেন। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা মহাকাশযানের উচ্চতা সময়ের সঙ্গে কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে অরবিটাল ড্র্যাগ বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নাসার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী প্রশাসক নিকি ফক্স জানিয়েছেন, আগের মিশনটি শুধু চাঁদকে ঘিরে আবর্তিত হলেও এবারের মিশনটি পৃথিবীর পরিবেশ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে। এর মাধ্যমে মহাকাশের আবহাওয়া আমাদের বায়ুমণ্ডলকে কীভাবে প্রভাবিত করে এবং মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তিগুলোকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, সে সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানা সম্ভব হবে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চান মোশাহিদ

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পিএম
আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চান মোশাহিদ
ছবি: মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার

হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নিশাপাট গ্রামের এক সাধারণ পরিবারের ছেলে মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার। ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি ছিল তার তীব্র ঝোঁক। পড়াশোনার পাশাপাশি অব্যবহৃত জিনিসপত্র দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা ছিল তার নেশা। 

মোশাহিদ যখন দশম শ্রেণিতে পড়তেন তখন তার দাদার পুরানো নষ্ট ডিভিডি ভেঙে তার ড্রাইভ ব্যবহার করে মিনি সিএনসি প্লটার মেশিন তৈরি করেছিলেন। এটাই ছিল তার তৈরি করা প্রথম প্রজেক্ট। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি মোশাহিদকে।

২০১৯ সালে হবিগঞ্জের জেকে অ্যান্ড এইচ কে হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২১ সালে শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ১০০ শতাংশ স্কলারশিপ পেয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন।

এই ইউনিভাসিটির উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা বিভাগ থেকে ২০২৬ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি মোশাহিদ নাসা (জিএলইই) মিশন প্রজেক্টের টিম বাংলাদেশের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন।

এ ছাড়াও সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রজেক্টেও কাজ করেছেন।

হবিগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান চর্চায় আকৃষ্ট করতে উদ্ভাবনে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে কাজ করছেন মোশাহিদ। তাই ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি ১১ জন সমমনা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’।

এছাড়া তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘শায়েস্তাগঞ্জ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইন্সটিটিউট’, প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির প্ল্যাটফর্ম ‘রোবটিক্স শপ বিডি’, প্রশিক্ষণের জন্য ‘রোবটিক্স একাডেমি’ এবং তরুণদের ভাবনা তুলে ধরার জন্য ‘দৈনিক দুর্বার’ দৈনিক যুবকণ্ঠ ও ‘অদম্য ম্যাগাজিন’-এর মতো অনলাইন গণমাধ্যম। তার এই প্রতিটি উদ্যোগই একটি আরেকটির পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে।

তার এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে মোশাহিদ মজুমদার পেয়েছেন ‘জাতীয় ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’। এই অ্যাওয়ার্ড দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ যুব সম্মাননা।

মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিজ্ঞান আমার ধ্যানে জ্ঞানে। বিজ্ঞান নিয়ে উদ্ভাবন আমি সবসময় স্বপ্ন ছিল নিজের অঞ্চলের জন্য ও দেশের জন্য ভিন্ন কিছু করার। তাই আমি আমার গবেষণা ও উদ্ভাবন কোনো একক প্রজেক্ট বা একাডেমিক গবেষণাপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখিনি। আমার মূল উদ্ভাবন হলো একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যা হবিগঞ্জ তথা বাংলাদেশের হাজারো তরুণকে বিজ্ঞান গবেষণা ও উদ্ভাবনে সরাসরি সম্পৃক্ত করবে।’

বিজ্ঞানমেলা অংশগ্রহণের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে নিজের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন উল্লেখ করে মোশাহিদ বলেন, ‘স্কুলজীবন থেকে আমি বিজ্ঞানমেলায় অংশগ্রহণ করি। আমি দেখলাম বিজ্ঞানমেলা এলেই কেবল স্কুলগুলোতে নামমাত্র অংশগ্রহণের জন্য তাড়াহুড়ো শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ইউটিউব থেকে ধারণা নকল করে কোনোমতে একটি প্রজেক্ট দাঁড় করায়। মেলার পর সেই চর্চার আর কোনো ধারাবাহিকতা থাকে না। আমি চিন্তা করলাম এমন একটি স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সারা বছর বিজ্ঞান নিয়ে ভাবতে পারবে, গবেষণা করতে পারবে।’

এই ভাবনা থেকেই মোশাহিদ ২০১৯ সালে ১১ জন সমমনা বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘উদ্ভাবনী বিজ্ঞান ক্লাব’।

সংগঠনটি শুরুর দিকের প্রতিকূলতা, সামাজিক ও পারিবারিক সংশয় থাকলেও কোনো কিছুই দমাতে পারেনি মোশাহিদ ও তার দলকে। তাদের নিরলস পরিশ্রমে ক্লাবটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১১ জন সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা করা এই ক্লাব আজ ২৭ হাজারের বিশাল পরিবার। এই ক্লাবের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে হবিগঞ্জসহ দেশের ২৩৩টিরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

মোশাহিদ গর্বের সঙ্গে বলেন, এই বিজ্ঞান ক্লাবের হাত ধরেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বারবার উচ্চারিত হয়েছে আমার জেলা হবিগঞ্জের নাম। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের অধীনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ২৭ বারেরও বেশি বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে আমাদের ক্লাবটি। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বারবার প্রথম হয়ে ক্লাবের সদস্যরা প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণরাও ইতিহাস গড়তে পারে।

তিনি বলেন, আমি শুধু ক্লাব নয়, শিক্ষার্থীরা রোবটিক্স, প্রোগ্রামিং, ইলেকট্রনিক্স এবং বিজ্ঞানের বিভিন্ন জটিল বিষয়ে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন করছে। ক্লাবের সদস্যরা শুধু স্থানীয় পর্যায়েই নয়, জাতীয় পর্যায়েও নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছে।

উদ্ভাবনী বাংলাদেশ তৈরিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মোহাম্মদ মোশাহিদ মজুমদার বলেন, আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইনোভেশন কালচার বা উদ্ভাবনী সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা চাই,বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে আমাদের আজকের এই কনিষ্ঠ বিজ্ঞানীরা। 

শাকিলা ববি/খাদিজা রুমি/

চীনে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে রকেট ট্যাংক ডোমের উৎপাদনে সাফল্য

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
চীনে ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তিতে রকেট ট্যাংক ডোমের উৎপাদনে সাফল্য
অ্যালুমিনিয়াম ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রযুক্তি তৈরি করেছে চীন।

চীনের একটি গবেষণা দল অত্যাধুনিক ক্রায়োজেনিক বা অতিশীতল ফর্মিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেটের প্রপেল্যান্ট ট্যাংকের গম্বুজ অংশের বড় আকারের উৎপাদন সফলভাবে শুরু করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন সময় ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে, যা মহাকাশ শিল্পে একটি বড় অগ্রগতি।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছে তালিয়ান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কারিগরি প্রকৌশল স্কুল। তারা বিশ্বের প্রথম বড় আকারের ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রেস তৈরি করেছে, যা দুই মিটারের বেশি ব্যাসের অ্যালুমিনিয়াম সংকর ধাতুর একখণ্ড রকেট ট্যাংক ডোম তৈরিতে সক্ষম।
একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে বর্তমানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১,০০০টি ট্যাংক ডোম উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে চীনের।
তালিয়ান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কারিগরি প্রকৌশল স্কুলের গবেষক ফান সিয়াওবো বলেন, ‘ক্রায়োজেনিক ফর্মিং-এর মূল চাবিকাঠি হলো বড় প্লেটগুলোকে ক্রায়োজেনিক জোনে শীতল করা। সরঞ্জামটি বড় আয়তনের তরল নাইট্রোজেনের দ্রুত পরিবহন ও সুনির্দিষ্ট তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে তাপমাত্রা, চাপসহ একাধিক প্যারামিটারের সমন্বিত লোডিং নিয়ন্ত্রণও সম্ভব করেছে। এটি মাইনাস ১৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেন নিয়ন্ত্রণ, শীতলীকরণ এবং বড় যন্ত্রাংশের স্থিতিশীল উৎপাদন সম্ভব করেছে।’
এই প্রযুক্তির মূল বিষয় হলো বৃহৎ ধাতব পাতকে অতি নিম্ন তাপমাত্রায় নিয়ন্ত্রিতভাবে শীতল করা। ফলে আগে যেখানে একটি ট্যাংক ডোম তৈরি করতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগত, সেখানে এখন তা মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
সাধারণভাবে ধাতু অত্যন্ত ঠান্ডায় ভঙ্গুর হয়ে যায়। কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট অবস্থায় অ্যালুমিনিয়াম সংকর ধাতু ক্রায়োজেনিক তাপমাত্রায় আরও নমনীয় ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এই বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করেই দলটি প্রথমবারের মতো অ্যালুমিনিয়াম ক্রায়োজেনিক ফর্মিং প্রযুক্তি তৈরি করেছে।
এই প্রযুক্তিতে মাত্র ৪ মিলিমিটার পুরু অ্যালুমিনিয়াম পাত থেকে এক ধাপে সম্পূর্ণ ট্যাংক ডোম তৈরি করা যায়। উৎপাদিত অংশে পুরুত্বের বিচ্যুতি ০.৩ মিলিমিটারেরও কম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অংশগুলো তৈরি হওয়ার পর আর কোনো ওয়েল্ডিং বা মিলিংয়ের প্রয়োজন হয় না। ফলে কাঠামো হয় আরও শক্তিশালী, হালকা এবং নির্ভরযোগ্য।
এই প্রযুক্তিতে তৈরি ট্যাংক ডোম ইতোমধ্যে চীনের লং মার্চ ১২ ও লং মার্চ ৭-এ রকেটের সফল মিশনে ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান ছি ছাং বলেন, এই প্রযুক্তিতে এমন  ট্যাঙ্ক ডোম তৈরি সম্ভব, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এটি বিমান, মানববিহীন ব্যবস্থা, নতুন শক্তিচালিত যানবাহন এবং উচ্চগতির রেল শিল্পেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই প্রযুক্তি শুধু মহাকাশ শিল্প নয়, বরং উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সূত্র: সিএমজি