মেক্সিকোর একটি দুর্গম জঙ্গলে মায়া সভ্যতার দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক শহর ‘সাক বালাম’-এর সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন একদল প্রত্নতাত্ত্বিক। স্প্যানিশদের অভিযানের পর এই শহর ছিল মায়াদের শেষ শক্তিশালী দুর্গ। সম্প্রতি ‘সোসাইটি ফর আমেরিকান আর্কিওলজি’-এর একটি সভায় এই নতুন আবিষ্কারের তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার মায়া সভ্যতার শেষ সময়ের জীবনযাত্রার ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলো ফেলবে। এই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন জাপানের রিশো ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক ড. ইউকো শিরাতোরি। তিনি বলেন, সাক বালামের জীবনযাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুযায়ী, ১৬৯৪ সালে এই শহরে ১০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ছিল।
মায়া ভাষায় ‘সাক বালাম’ শব্দটির অর্থ ‘সাদা চিতাবাঘ’। স্প্যানিশরা মায়াদের আঞ্চলিক রাজধানী লাকাম তুন ধ্বংস করার পর, ১৫৮৬ সালে লাকানডন চোল সম্প্রদায় আশ্রয়স্থল হিসেবে এই শহরটি গড়ে তোলে। এরপর প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে মায়াদের জীবনযাত্রা সচল ছিল। অবশেষে ১৬৯৫ সালে শহরটি স্প্যানিশদের দখলে চলে যায় এবং ১৭১২ সালের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।
উদ্ধার হওয়া ধ্বংসাবশেষটি যে সেই হারিয়ে যাওয়া শহর, তার পক্ষে বেশকিছু জোরালো প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা। সেখানে ১৬ মিটার দীর্ঘ এবং ১ মিটার উঁচু একটি প্রাচীন দেয়াল পাওয়া গেছে। স্প্যানিশ নথিতে সাক বালাম শহরের জনসমাবেশের জন্য ব্যবহৃত বড় কমিউনিটি ভবনের যে বিবরণ রয়েছে, এই দেয়ালের আকৃতি তার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
এছাড়া প্রত্নতাত্ত্বিকরা ওই এলাকা থেকে কিছু মাটির পাত্রের টুকরো এবং একটি বানরের মাটির মূর্তি উদ্ধার করেছেন। এগুলো সাক বালামের সমসাময়িক যুগের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে স্থানটি আসলে সেই ঐতিহাসিক শহর কি না, তা নিয়ে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়েছে। ড. শিরাতোরি জানান, দেয়ালটি কোনো ভবনের ভিত্তি ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য তারা সেখানে কার্বন ডেটিং পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন। স্প্যানিশ নথিতে উল্লেখ আছে যে, অভিযানের সময় শহরটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই মাটির নিচে ছাইয়ের স্তর পাওয়া গেলে শহরটির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাবে। সূত্র: বিবিসি সায়েন্স ফোকাস


