পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা শহর বা গ্রহ ধ্বংসকারী গ্রহাণুগুলো শনাক্ত করতে বিশেষ এক টেলিস্কোপের পরীক্ষা শুরু করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
‘নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট সার্ভেয়ার’ বা নিও সার্ভেয়ার নামের এই ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ মহাকাশের অন্ধকার অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা সম্ভাব্য বিপদগুলো খুঁজে বের করতে সাহায্য করবে। ২০২১ সালের ‘ডোন্ট লুক আপ’ চলচ্চিত্রের মতো কোনো ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে এটি বিজ্ঞানীদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
মহাকাশ বিষয়ক সংস্থা প্ল্যানেটারি সোসাইটির তথ্যমতে, শহর ধ্বংস করতে সক্ষম এমন গ্রহাণুগুলোর অর্ধেকেরও কম এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়েছে। ১৬০ কোটি ডলার মূল্যের এই নতুন টেলিস্কোপ ছাড়া বাকি গ্রহাণুগুলো খুঁজে পেতে আরও অন্তত ৩০ বছর সময় লাগত।
তবে নিও সার্ভেয়ার মহাকাশে স্থাপনের পর আগামী ১০ বছরের মধ্যে গত ৫০ বছরের তুলনায় বেশি গ্রহাণু শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহের ভিড়ে ভূপৃষ্ঠের টেলিস্কোপ দিয়ে ছোট ও অন্ধকার গ্রহাণুগুলো দ্রুত খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরের আগে এই টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ লাখ মাইল দূরে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে অবস্থান করে অন্তত পাঁচ বছর কাজ করবে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মতো এটিও তাপ ও ইনফ্রারেড রশ্মি ব্যবহার করে বস্তু শনাক্ত করবে।
অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যামি মেইঞ্জার বলেন, সূর্যের তাপে উত্তপ্ত হওয়া গ্রহাণু ও ধূমকেতুগুলো যে তাপ বিকিরণ করে, তা নিও সার্ভেয়ার ধরতে পারবে। এমনকি কয়লার মতো কালো কোনো গ্রহাণুও এর চোখ এড়াতে পারবে না।
বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য উৎক্ষেপণের এক দশকের মধ্যে ৪৬০ ফুট বা তার চেয়ে বড় ব্যাসের অন্তত ৯০ শতাংশ নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট খুঁজে বের করা। মেইঞ্জারের মতে, প্রায় ২৫ হাজার এমন বস্তু রয়েছে, যা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো একটি বিশাল অঞ্চলকে ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
টেলিস্কোপটিতে ২০ ফুট লম্বা সানশেড ও ১২ ফুট লম্বা একটি আবরণ রয়েছে, যা একে সূর্যের তীব্র আলো থেকে রক্ষা করবে। বর্তমানে ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের স্পেস ডাইনামিক্স ল্যাবরেটরিতে টেলিস্কোপটির ক্যামেরা ও লেন্সের ফোকাস পরীক্ষা করা হচ্ছে।
নিও সার্ভেয়ার থেকে প্রাপ্ত তথ্য ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ডেটা সেন্টারে পাঠানো হবে। সেখান থেকে আন্তর্জাতিক মাইনর প্ল্যানেট সেন্টারের মাধ্যমে তথ্যগুলো বিশ্বজুড়ে সরবরাহ করা হবে।
বর্তমানে পৃথিবীর জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বিপদ না থাকলেও নাসা ইতোমধ্যেই ডার্ট অভিযানের মাধ্যমে ধেয়ে আসা গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ২০২৯ সালে ‘অ্যাপোফিস’ নামক একটি বড় গ্রহাণু পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে, যা খালি চোখে দেখা যাবে। মহাকাশের এসব রহস্যময় ও ঝুঁকিপূর্ণ বস্তুর ওপর নজর রাখতে নিও সার্ভেয়ার নাসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


