জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ বা পারমাফ্রস্ট দ্রুত গলতে শুরু করেছে। এই বরফ গলার সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসছে হাজার বছরের পুরোনো সব অণুজীব ও ভাইরাস। বিজ্ঞানীরা সাইবেরিয়ার ৩০ হাজার বছরের পুরোনো বরফে ‘প্যান্ডোরাভাইরাস’-এর সন্ধান পেয়েছেন। গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় এটি কেবল অ্যামিবাকে আক্রমণ করতে পারে।
পারমাফ্রস্ট এমন এক ভূমি, যা দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। একে অণুজীবদের বেঁচে থাকার জন্য উপযুক্ত স্থান মনে করা না হলেও সাম্প্রতিক গবেষণা ভিন্ন কথা বলছে। বিজ্ঞানীরা বরফের নিচে ১৯১৮ সালের মহামারির ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ৩০০ বছরের পুরোনো মমি থেকে গুটিবসন্তের ভাইরাসের অস্তিত্ব পেয়েছেন। যদিও সময়ের ব্যবধানে এগুলোর জিনগত কাঠামো ভেঙে যাওয়ায় এগুলো এখন আর সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশির ভাগ ভাইরাস তাদের বাহক ছাড়া বেশিক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে না। তাই বরফ থেকে মানুষের জন্য ক্ষতিকর কোনো সংক্রামক ভাইরাস পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে ব্যাকটেরিয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থেকে যায়। ২০১৬ সালে সাইবেরিয়ায় অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, যাতে একজন মানুষের মৃত্যুসহ অনেক পশুপাখি মারা যায়। ধারণা করা হয়, পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ায় মাটিতে মিশে থাকা পুরোনো ব্যাকটেরিয়া থেকে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। অ্যানথ্রাক্স ব্যাকটেরিয়া প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ সময় সুপ্ত অবস্থায় টিকে থাকতে পারে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পুরোনো অণুজীবের কারণে স্থানীয়ভাবে ছোটখাটো রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। তবে বরফ থেকে নতুন কোনো ভাইরাস বেরিয়ে এসে বিশ্বজুড়ে মহামারি তৈরি করবে, এমন সম্ভাবনা খুব কম। গবেষকরা বর্তমানে এই হিমায়িত অণুজীবগুলো নিয়ে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। প্রকৃতিতে এদের প্রভাব বোঝার জন্য বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।


