বিশ্বের সর্বোচ্চ সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত নোবেল পুরস্কার। এই পুরস্কার মানবতার জন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়। এই পুরস্কারপ্রাপ্তরা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হন। ১৮৯৫ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল এই পুরস্কারের প্রচলন করেন। তবে পুরস্কার প্রদান শুরু হয় ১৯০১ সাল থেকে। শুরুতে শুধু শান্তি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হলেও, পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাশাস্ত্র, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, অর্থনীতি ও সাহিত্য এই পাঁচটি বিভাগ যুক্ত হয়েছে।
সাধারণত প্রতিবছরের অক্টোবরে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আয়োজিত হয় নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। বিজয়ীদের একটি স্বর্ণপদক, একটি ডিপ্লোমা সনদ এবং নোবেল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অর্থ প্রদান করা হয়। বিজয়ীদের বলা হয় নোবেল লরিয়েট।
১৯০১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৬২১ বার ১০০০ ব্যক্তি এবং সংস্থাকে নোবেল পুরস্কার এবং অর্থনৈতিক বিজ্ঞানে ‘দ্য সোয়েরিয়েজ রিস্কব্যাংক’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ একাধিকবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে ৯৬৫ ব্যক্তি এবং ২৭টি সংস্থা পুরস্কৃত হয়েছে।
তবে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক এই পদক বিজয়ী হয়েও অনেকের পুরস্কারটি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ হয়নি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এই পুরস্কার স্বেচ্ছায় প্রত্যাখ্যান করেছেন; আবার অনেকে প্রত্যাখ্যানে বাধ্য হয়েছেন। বিভিন্ন কারণেই নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন এসব ব্যক্তি। কেউ কেউ রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কারণে পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন। আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত আপত্তি বা বিশ্বাসের কারণে পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন বা গ্রহণ করতে চাননি।
জ্যঁ পল সার্ত্রে অস্তিত্ববাদের পথিকৃৎ

ফরাসি লেখক ও দার্শনিক জ্যঁ পল সার্ত্রে তার অস্তিত্ববাদী দর্শন ও সাহিত্যকর্মের জন্য বিখ্যাত। তাকে আধুনিক অস্তিত্ববাদের জনক বলা হয়। তিনি ছিলেন মার্টিন হাইডেগারের একজন ছাত্র। ১৯৪৩ সালে তিনি তার বিখ্যাত বই ‘বিয়িং অ্যান্ড নাথিংনেস’ প্রকাশ করেন। এই বইতে তিনি অস্তিত্ববাদের তত্ত্ব ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সার্ত্রে তার ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত উপন্যাস ‘নজিয়া’-তে অস্তিত্ববাদী সাম্যবাদের ধারণা তুলে ধরেন। এই উপন্যাসে তিনি ঈশ্বরবিহীন এক মহাবিশ্বে বিচরণ করা মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন, যারা নিজেদের স্বাধীনতার কাছে জিম্মি হয়ে আছে।
১৯৬৪ সালে সার্ত্রেকে সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি এই পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি মনে করতেন যে, নোবেল পুরস্কার একটি ‘বুর্জোয়া পুরস্কার’ অর্থাৎ পুঁজিপতিদের পুরস্কার। তিনি সে সময় সব পদক একাধারে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট এবং তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে এমনই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে বিয়িং অ্যান্ড নাথিংনেস (১৯৪৩), নজিয়া (১৯৩৯), নো এক্সিট (১৯৪৫), দ্য ওয়াইল্ড হেয়ার্স (১৯৪৬), দ্য লাভড (১৯৪৭), দ্য রিডিউস (১৯৪৯), দ্য ম্যাডম্যান (১৯৬০) এবং দ্য ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড কনভেনশন (১৯৬৩)। সার্ত্রে ১৯৮০ সালে প্যারিসে মারা যান। তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক ও সাহিত্যিক ছিলেন। তার সাহিত্যকর্ম এখনো বিশ্বজুড়ে পড়া ও আলোচিত হয়ে থাকে।
লে দুক তাও ভিয়েতনামি কূটনীতিক

পাঁচ দশক আগে ১৯৭৩ সালে, ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তাতে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার, ভিয়েতনামি জেনারেল এবং কূটনীতিক লে দুক তাও-কে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু লে দুক তাও এই পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করেন।
লে দুক তাও-কে যখন পুরস্কৃত করা হয়েছিল, তখন তিনি বিশ্বাস করতেন যে তার দেশে শান্তি ছিল না। তিনি মনে করতেন যে, শান্তি চুক্তি শুধু একটি বিরতি এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রকৃত সমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি পুরস্কারটি গ্রহণ করতে পারতেন না। তিনি ভিয়েতনামি কমিউনিস্ট পার্টির একজন সদস্য ছিলেন এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। যুদ্ধের পর তিনি ভিয়েতনামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
লে দুক তাও ২০০৬ সালে মারা যান। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং তার শান্তি প্রচেষ্টার জন্য আজও তিনি প্রশংসিত হন। লে দুক তাওয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছিল। এটি দেখায় যে, একজন ব্যক্তি তার বিশ্বাসের জন্য কতটা দৃঢ় থাকতে পারেন।
বরিস পাস্তারনাক
রুশ কবি

ষাটের দশকে মস্কোর ঔপন্যাসিক ও কবি বরিস পাস্তারনাককে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তার সমসাময়িক গীতিকবিতা এবং মহান রাশিয়ান মহাকাব্য রচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছিল। নোবেল সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে এই তথ্য জানা যায়।
পাস্তারনাক প্রাথমিকভাবে এই সম্মান গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু পরে সোভিয়েত সরকারের চাপের মুখে পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য হন। সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ পাস্তারনাকের প্রশংসিত ‘ডক্টর জিভাগো’ বইটি এবং তার অন্য সব লেখা নিষিদ্ধ করেছিল। এই নিষেধাজ্ঞা ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
‘ডক্টর জিভাগো’ বইটিতে ১৯০৫ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। বইটিতে সোভিয়েত সরকারের বেশকিছু নেতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছিল। পাস্তারনাকের ছেলে ইয়েভজেনি বলেছেন যে, “‘ডক্টর জিভাগো’ বইটি ‘মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত মতাদর্শকে চ্যালেঞ্জ করেছিল’ বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। এ কারণেই এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”
পাস্তারনাকের নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান একটি আলোচিত ঘটনা ছিল। এটি সোভিয়েত সরকারের কর্তৃত্ববাদী চরিত্রের প্রতীক হয়ে ওঠে। পাস্তারনাক ১৯৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর ‘ডক্টর জিভাগো’ বইটি সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
হিটলারের নির্দেশে জার্মান নাগরিকদের জন্য নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান

১৯৩৭ সালে জার্মান নাৎসি সরকারের নেতা অ্যাডলফ হিটলারের নির্দেশে জার্মান নাগরিকদের জন্য নোবেল পুরস্কার গ্রহণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর আগের বছর ১৯৩৬ সালে জার্মান শান্তিকামী কার্ল ভন ওসিয়েৎস্কিকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। ওসিয়েৎস্কি প্রকাশ্যে নাৎসিবাদ এবং হিটলারের বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি ১৯৩১ সালে গ্রেপ্তার হন এবং তাকে একটি বন্দিশিবিরে আটকে রাখা হয়। সরকারবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতাও করতেন।
ওসিয়েৎস্কির নোবেল পুরস্কার জয় জার্মান সরকারের কাছে লজ্জাজনক ছিল। তারা মনে করেছিল যে, এই পুরস্কারটি জার্মান সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। এ কারণেই হিটলার জার্মান নাগরিকদের জন্য নোবেল পুরস্কার গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তিনজন জার্মান নাগরিককে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হয়েছিল। হিটলারের এই নিষেধাজ্ঞা নোবেল কমিটির কাছেও একটি ধাক্কা ছিল। কমিটি মনে করেছিল, এই নিষেধাজ্ঞা জার্মান নাগরিকদের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
প্রাণরসায়নবিদ
রিশার্ড কুন

রিশার্ড কুন একজন অস্ট্রিয়ান-জার্মান প্রাণরসায়নবিদ ছিলেন, যিনি কার্টেনোয়েড ও ভিটামিনের ওপর করা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৩৮ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
তিনি ১৯০০ সালে অস্ট্রিয়ান সাম্রাজ্যের ভিয়েনা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভিয়েনার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন এবং ১৯২৩ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। কুন ১৯২৩ সালে হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং সেখানে তিনি কার্টেনোয়েড ও ভিটামিনের ওপর গবেষণা শুরু করেন। তিনি ক্যারোটিনয়েড এবং ভিটামিন নিয়ে কাজ করার জন্য ১৯৩৮ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছিলেন। রিশার্ড কুন নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেননি। তবে জার্মান সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি। কারণ ১৯৩৭ সালে অ্যাডলফ হিটলারের নির্দেশে জার্মান নাগরিকদের জন্য নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
রিশার্ড কুন এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, তিনি এই পুরস্কারটি গ্রহণ করতে চান, কিন্তু তিনি জার্মান সরকারের নির্দেশ মানতে বাধ্য ছিলেন। নোবেল কমিটি রিশার্ড কুনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে নোবেল পুরস্কারের ডিপ্লোমা এবং মেডেল প্রদান করেছিল। তবে পুরস্কারের অর্থ তিনি পাননি। কুন ১৯৬৭ সালে হাইডেলবার্গ শহরে মারা যান।
জার্মান জৈব
রসায়নবিদ
অ্যাডলফ বুটেনান্ড

জার্মান জৈব রসায়নবিদ অ্যাডলফ বুটেনান্ড ১৯৩৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু জার্মান নাগরিকদের জন্য নোবেল পুরস্কার গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি।
বুটেনান্ড এবং তার সহকর্মীরা ১৯৩০-এর দশকে নারী ও পুরুষের মধ্যে থাকা বিভিন্ন হরমোন ম্যাপিংয়ে অবদান রেখেছিলেন। তারা নারীদের যৌন হরমোন এস্ট্রোজেনের সংশ্লেষ নির্ধারণ করার পর এর গঠন এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত আরেক ধরনের হরমোন, এস্ট্রিওলকে সংজ্ঞায়িত করতে সক্ষম হন। এ ছাড়াও তারা প্রথমবারের মতো একটি বিশুদ্ধ পুরুষ যৌন হরমোন তৈরি করতে এবং এর রাসায়নিক গঠন নির্ধারণ করতে সক্ষম হন, যাকে বলা হয় ‘অ্যান্ড্রোস্টেরোন’। নোবেল কমিটি বুটেনান্ড এবং তার সহকর্মীদের এই আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের ১৯৩৯ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে। কিন্তু হিটলারের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি।
নোবেল কমিটি ১৯৪৯ সালে বুটেনান্ড এবং তার সহকর্মীদের তাদের আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিপ্লোমা সনদ ও মেডেল প্রদান করে। কিন্তু তারা পুরস্কারের অর্থ পাননি। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে গর্ভনিরোধক ওষুধের উন্নয়ন, হরমোন থেরাপির উন্নয়ন, অ্যান্ড্রোজেনের ব্যবহার করে পুরুষত্বহীনতা চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বুটেনান্ড ১৯৭০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
জার্মান প্যাথলজিস্ট ও ব্যাকটিরিওলজিস্ট গেরহার্ড ডোমাক

তিনি ১৯৩৯ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু জার্মান নাগরিকদের জন্য নোবেল পুরস্কার গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি।
ডোমাক এবং তার সহকর্মীরা ১৯৩২ সালে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে, সালফোনামাইড নামক একটি যৌগ রক্তে বিষক্রিয়া সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে কার্যকর। এই আবিষ্কারটি বেশ কয়েক ধরনের সালফা ওষুধ তৈরির ভিত্তি হয়ে উঠেছে, যা প্রথম ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক।
নোবেল কমিটি ডোমাক এবং তার সহকর্মীদের এই আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের ১৯৩৯ সালে মেডিসিনে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে। কিন্তু হিটলারের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পারেননি।
নোবেল কমিটি ১৯৪৯ সালে ডোমাক এবং তার সহকর্মীদের তাদের আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিপ্লোমা সনদ ও মেডেল প্রদান করে। কিন্তু তারা পুরস্কারের অর্থ পাননি। ডোমাক ১৯৬৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রখ্যাত মার্কিন সংগীতশিল্পী ও গীতিকার
বব ডিলানের নোবেল গ্রহণে নীরবতা

প্রখ্যাত মার্কিন সংগীতশিল্পী ও গীতিকার বব ডিলানের নীরবতা শেষে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করেন। ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংগীত ঐতিহ্যে নতুন কাব্যিক ধারা সৃষ্টির স্বীকৃতি হিসেবে ডিলানকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেননি, তবে পুরস্কার সংগ্রহ করতে সুইজারল্যান্ডে যাননি। এমনকি নোবেল অর্থমূল্য নেওয়ার জন্য যে বক্তৃতাটি দিতে হয়, সেটিও দেননি। এই নীরবতা বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। অনেকে মনে করেছিলেন যে, ডিলান পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অবশেষে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের তিন মাসেরও বেশি সময় পর ডিলান স্টকহোমে একটি কনসার্টের আগে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুরস্কার গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কারের মেডেল এবং ডিপ্লোমা। ডিলান পুরস্কার গ্রহণের পর বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি।’
ডিলান হলেন প্রথম সংগীতশিল্পী, যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
তথ্য সূত্র: বিবিসি ও নোবেল কমিটির ওয়েব সাইট
ছবি: গেটি ইমেজ, ন্যাশনাল পোট্রেট গ্যালারি
জাহ্নবী