সাংবাদিকতায় পেশাদারত্ব বজায় রেখে নির্ভীকচিত্তে সত্য প্রকাশের ব্রত নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল খবরের কাগজ। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে সামাজিক আন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছে এই পত্রিকা। প্রতিকূলতায় থমকে না থেকে নির্ভুল, বস্তুনিষ্ঠ এবং সঠিক তথ্যসমৃদ্ধ খবর প্রকাশে খবরের কাগজ অগণিত পাঠকের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করেছে খবরের কাগজ। এ উপলক্ষে গতকাল সকালে রাজধানীর বাংলামোটরে পত্রিকাটির কার্যালয় সেজে ওঠে বর্ণিল সাজে। তৃতীয় বর্ষে পদার্পণের মাহেন্দ্রক্ষণ উদযাপনে ঘরোয়া আয়োজনে যোগ দেন পত্রিকাটির কর্মীরা। আড্ডা, গল্প, গান, সেলফিতে মুখর হয়ে ওঠে সেই আয়োজন।
এ আয়োজনের মধ্যমণি ছিলেন খবরের কাগজের সম্পাদক কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল। উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক খালেদ ফারুকী, উপসম্পাদক ড. মুহম্মদ এমদাদ হাসনায়েন, কপি এডিটর মাসুদুজ্জামান, সহকারী সম্পাদক ড. সারিয়া সুলতানা, বার্তা সম্পাদক রোকেয়া রহমান, নগর সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদক আবদুল্লাহ আল মামুন, ফিচার এডিটর খালেদ আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি (স্পোর্টস) মহিউদ্দিন পলাশ, হেড অব ডিজিটাল গোলাম রাব্বানী, ভারপ্রাপ্ত বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবনী, সহকারী বার্তা সম্পাদক (অনলাইন ইনচার্জ) অমিয় দত্ত ভৌমিক, ভারপ্রাপ্ত মফস্বল সম্পাদক অঞ্জন আচার্য, মানবসম্পদ ও প্রশাসন প্রধান মিন্টু ভূষণ রায়, হেড অব সার্কুলেশন মাসুদ কবীর পাভেল, হেড অব আইটি প্রিন্স মাহমুদ অর্ণব, ব্র্যান্ড ও ইভেন্ট প্রধান আতিয়া সুলতানা, প্রধান সম্পাদনা সহকারী মো. সোহরব হোসেন, কম্পিউটার ইনচার্জ আবুল হাসেমসহ অন্য কর্মীরা।
সম্পাদক মোস্তফা কামাল বক্তব্যের শুরুতে পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা এবং পত্রিকার বিপণন-বিতরণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
সুধী সমাজে খবরের কাগজ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে, তা শোনাতে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘শুরুতে ঠিক করেছিলাম আমরা সত্য প্রকাশ করব; নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করব না, কোনো গোষ্ঠীপ্রীতি করব না। আমরা পেশাদার সাংবাদিক, পেশাদারত্ব বজায় রাখব। গত দুই বছর ধরে আমরা চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চ। আমরা কোনো ভুল বা ফেক নিউজ ছাপিনি। আমরা ভুল বা অসত্য নিউজ ছাপিনি। তাই অনেক প্রতিকূলতা আর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পত্রিকাটি যে আলাদা, এখন সেটা এখন মানুষের কাছে স্পষ্ট।’ তিনি বলেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষে এখন যেকোনো ঘটনার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক আগেই জেনে যান পাঠক। তবু ছাপা পত্রিকার গ্রহণযোগ্যতা কমেনি পাঠকের কাছে।
মোস্তফা কামাল আরও বলেন, অনেকে বলেন, ‘গণমাধ্যম আগে সত্য প্রকাশ করত। এখন তা করতে কুণ্ঠিত হয়, তারা ভয় পায়। কিন্তু ফেসবুক সেগুলো প্রকাশ করে। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি, খবরের কাগজ সত্য প্রকাশ করে। ফেসবুকের ভরসায় তারা থাকে না। সত্য জানতে পারলে আমরাই আগে প্রকাশ করি।’ শুধু সত্য খবর প্রকাশেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয় খবরের কাগজের। খবরের কাগজ সরকারি কর্মকাণ্ডের ভুলত্রুটির চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে; সামাজিক আন্দোলনেও রাখছে বড় ভূমিকা।
সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘সত্য প্রকাশ করাই পত্রিকার দায়িত্ব, সরকারকে সঠিক পথে রাখাই পত্রিকার দায়িত্ব। দেশের স্বার্থ দেখাও পত্রিকার কাজ। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের যে প্রতিশ্রুতি সেটি রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। আমরা সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেছি।’
নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন বলেন, ‘এখানে কারও মধ্যে কোনো জড়তা নেই। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছে এখানে। কাজের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পাই আমরা।’
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক খালেদ ফারুকী খবরের কাগজের পরিবারের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
ড. এমদাদ হাসনায়েন বলেন, “মুক্তচিন্তার স্বাধীন দৈনিক খবরের কাগজ-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে নান্দনিক শুভেচ্ছা। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভয়কে করো জয়’। খবরের কাগজ জন্ম থেকে আজ অবধি অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মাঝেও খবরের কাগজ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। আমাদের মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, কোনো কিছু করতে হলে মন দিয়ে করতে হয়, ভালোবাসতে হয়। তাহলেই আগামীর পথচলা মসৃণ ও সুন্দর হবে। খবরের কাগজের লেখক, পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, বিজ্ঞাপনদাতা সবাইকে আবারও শুভেচ্ছা।”
কপি এডিটর মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘সুধী সমাজ, বিশেষ করে যারা দেশের নীতিনির্ধারক; তারা আামদের পত্রিকাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।’
সহকারী সম্পাদক ড. সারিয়া সুলতানা বলেন, ‘মানের সঙ্গে কখনো আপস করেনি খবরের কাগজ। অনেকে ফোন করে বলেন, খবরের কাগজে যেকোনো নিউজ এলে প্রশাসন অ্যাকশন নিচ্ছে। এটা একটা ভালো দিক।’
বার্তা সম্পাদক রোকেয়া রহমান বলেন, ‘এখানে যতটা স্বাধীনভাবে আমরা কাজ করতে পারছি, তা আগে কখনো করতে পারিনি। এখানে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেন।’
নগর সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘খবরের কাগজের সংবাদের প্রতিবাদ বা সংশোধনী খুব কম ছাপা হয়েছে। এটি একটি নির্ভুল কাগজ। বস্তুনিষ্ঠতা, পাঠকপ্রিয়তায় যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে খবরের কাগজের তা ঈর্ষণীয়।’
ফিচার এডিটর খালেদ আহমেদ বলেন, ‘এই পত্রিকাকে আমরা অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।’
বিশেষ প্রতিনিধি (স্পোর্টস) মহিউদ্দিন পলাশ বলেন, ‘সম্পাদক মহোদয় চিন্তাশলীতা, মননশীলতা, পরিশ্রমকে এক সুতোয় গেঁথেছেন। তিনি একটা ভালো পত্রিকা করার পরিকল্পনা করেছেন, তা আমরা সবাই মিলে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি।’
হেড অব ডিজিটাল গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘গত দুই বছর খবরের কাগজ নানা চড়াই-উতরাই পার করেছে। আমরা সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। নিজেদের কাজে পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে চাই।’
ভারপ্রাপ্ত বিজনেস এডিটর ফারজানা লাবনী বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিল এই প্রজেক্ট একটা ভালো অবস্থান তৈরি করে নেবে। আমাদের সেই বিশ্বাস আজ সত্য হয়েছে।’
অনলাইন ইনচার্জ অমিয় দত্ত ভৌমিক বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস আছে, এই পত্রিকার অনলাইনকে আরও আকর্ষণীয় ও পাঠক সমাদৃত করতে সক্ষম হব।’
ভারপ্রাপ্ত মফস্বল সম্পাদক অঞ্জন আচার্য বলেন, ‘সম্পাদক মহোদয় যে স্বাধীনতা দিয়েছেন তা আমাদের অনেক দায়বদ্ধতা তৈরি করে। অনেক সময় স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারিতার জায়গায় চলে যায়। কিন্তু এই স্বাধীনতা দিয়ে মানুষকে দায়বদ্ধতার জায়গা শিখিয়ে দিয়েছেন তিনি।’
মানবসম্পদ ও প্রশাসন প্রধান মিন্টু ভূষণ রায় নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান আর চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট খবরের কাগজের বার্তাকক্ষের কর্মীরা কীভাবে কর্মস্থলে এসেছিলেন তারও স্মৃতিচারণা করেন তিনি।
হেড অব সার্কুলেশন মাসুদ কবীর পাভেল বলেন, ‘খবরের কাগজ খবরের গুণগত মান বজায় রেখেছে বলে আমরা সার্কুলেশনকে একটা জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছি। ডিজিটাল যুগে ছাপা পত্রিকা চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও আমরা একটা অবস্থানে আছি, থাকব ইনশাআল্লাহ।’
হেড অব আইটি প্রিন্স মাহমুদ অর্ণব বলেন, ‘আমাদের কাজটা সব সময় চ্যালেঞ্জিং। আমরা সব সময় চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করি। গত দুই বছর আমরা সেগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি।’
ব্র্যান্ড ও ইভেন্ট প্রধান আতিয়া সুলতানা খবরের কাগজের শুভানুধ্যায়ী, পাঠক, লেখক, এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতাদের ধন্যবাদ জানান।
প্রধান সম্পাদনা সহকারী সোহরব হোসেন বলেন, ‘দুই বছর নয়, পাঁচ বছর নয়, এক শ বছর বেঁচে থাকুক খবরের কাগজ।’
কম্পিউটার ইনচার্জ আবুল হাসেম বলেন, ‘মানের কারণে খবরের কাগজ এত পরিচিতি পেয়েছে। ভালো একটা অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি আমরা।’
সবার বক্তব্য শেষে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন সম্পাদক মোস্তফা কামাল।