সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, এখন থেকে লালন উৎসব জাতীয়ভাবেই পালিত হবে। কারণ লালন আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির প্রতীক। লালনকে বুঝলে বাংলাদেশকে বোঝা যায়।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) ফকির লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি। ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাককে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিনের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান।
মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান লেখক ও গবেষক প্রফেসর গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক, বিশিষ্ট কবি, লেখক, চিন্তক ও লালন বিশেষজ্ঞ ফরহাদ মজহার।
আলোচনা সভা শেষে মূলমঞ্চে লালন একাডেমির শিল্পী ও দেশবরণ্য লালন শিল্পিরা লালন ফকিরের আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন ।
এবছর জাতীয়ভাবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি লালনের এই তিরোধান দিবস অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রতিবারের মতো এবারও আধ্যাত্মিক গুরু ফকির লালনকে স্মরণ, জ্ঞান সঞ্চয়, আত্মার শুদ্ধি ও মুক্তির লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার লালন অনুসারী, ভক্ত অনুরাগী আর দর্শনার্থীরা আখড়াবাড়িতে এসে জড়ো হয়েছেন। অন্যদিকে, আখড়াবাড়ি চত্বরে কালী নদীর তীরে মাঠে বসেছে বিশাল লালন মেলা। আর এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ারসহ কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। ঐতিহাসিক এই লালন উৎসব শেষ হবে আগামী রবিবার রাতে।
১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক ফকির লালন শাহের মৃত্যুর পর থেকে প্রতিবছর এ উৎসবের আয়োজন করে আসছেন তার অনুসারীরা।
মিলন/এসজি/