রাজনৈতিক সচেতনতা ছাড়া গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি এবং নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকতার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব যেভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা মোকাবিলায় ইতিহাস ও রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থেকে সম্মিলিত উদ্যোগ গড়ে তোলা জরুরি।’
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গণমাধ্যম সম্মিলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নূরুল কবীর বলেন, ‘কমন কম্প্যাশন বা যৌথ বোধ তৈরি না হলে মানুষ কখনো সম্মিলিত হয় না। আর এই সম্মিলিত হওয়ার মধ্য দিয়েই ঐক্যের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।’
ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আসা দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা সম্মিলনে সাংবাদিকতার ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সচেতনতা ছাড়া গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনতে তৎপরতা চালাতে হবে। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই দেশের ঐতিহাসিক প্রতিজ্ঞা হলো একটি গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা।’
নূরুল কবীর আরও বলেন, ‘বৈষম্যহীন সমাজ বলতে শুধু দারিদ্র্য বিমোচন নয়; ধর্মগত, লিঙ্গগত, বর্ণগত ও জাতিগত সব ধরনের বৈষম্যের অবসান ঘটানোর ঐতিহাসিক দায় বাংলাদেশের ওপর বর্তায়। ‘এই প্রতিশ্রুতির প্রতি যারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তাদের সঙ্গেই আমরা ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করতে চাই,’ যোগ করেন তিনি।’
সম্মিলনে সাংবাদিকদের আচরণবিধি ও পেশাগত মানদণ্ড প্রসঙ্গেও কথা বলেন নিউ এজ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘নিজেদের সম্মান ও পেশাগত মান বজায় রাখতে না পারলে সমাজ থেকেও সম্মান আদায় করা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘সম্মানিত ও সংগঠিত প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কেবল সাংবাদিকতা কায়েম স্বার্থের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে।’
তিনি জানান, সাংবাদিকদের জন্য একটি কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়নের কাজ চলছে। প্রথমে সদস্য সংগঠনগুলোর জন্য এটি প্রযোজ্য করা হবে, পরে আগ্রহী অন্যান্যদের সঙ্গেও শেয়ার করা হবে। পাশাপাশি মালিক, সম্পাদক ও সংবাদকর্মী সব পক্ষের আচরণবিধি ও যোগ্যতা নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ভবিষ্যতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক কনভেনশন আয়োজনের চিন্তাভাবনা রয়েছে বলেও জানান নূরুল কবীর। তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিগুলো যদি এই সম্মিলনের বার্তা না বোঝে, তাহলে শুধু সেমিনার বা সম্মেলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা হবে না; আরও সক্রিয় ও সচ্চার ভূমিকা নিতে হবে।’
সম্মিলনে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের গণতান্ত্রিক সক্রিয়তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জয়ন্ত/রিফাত/