জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির শেষ মুহূর্ত চলছে। তবে নির্বাচনে বিশাল অঙ্কের বাজেটের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। তারা বলছেন, গণভোটে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা খরচ ধরা হলেও মাঠপর্যায়ে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। অপরদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোট আয়োজনের পরিধির তুলনায় ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বেশি না।
২০২৪ এর পর ২০২৬-এ আবারও জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তবে এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণভোট। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকার এই বাজেটের ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকাই ব্যয় হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেছনে।
১২৩টি দেশের ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার ভোট দেবেন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে, এতে একজনের পেছনে খরচ ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা। সব মিলিয়ে ভোটার প্রতি মাথাপিছু ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ২৬৪ টাকা। গণভোটে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, গণভোটের কারণে ব্যয় বাড়লেও মোট খরচ ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা অযৌক্তিক নয়।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গণভোট, পোস্টাল ব্যালট ও আইটি সাপোর্ট-সবকিছু মিলিয়ে এবারের আয়োজন অনেক বড়। সেই তুলনায় কমিশন ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ব্যয়ই করছে। গত ২৫ বছরে দেশে নির্বাচনি ব্যয় বেড়েছে ৪৩ গুণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ব্যালট ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে জনবল নিয়োগ-সবক্ষেত্রেই পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল। ফলে ব্যয় কমানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা কাজে লাগানো হয়নি।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, সংসদ শুধু শূন্য আসন পূরণের জন্য নয়, এটি হতে হবে জনআস্থা ও জবাবদিহিতার প্রতীক। দেশবাসীর হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্বাচিত পরবর্তী সরকারকে সফল হতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
নাঈম/