রাজ্য ভোটের ফলাফলে আনন্দ উৎসবের ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়েছে সুদূর দিল্লিতেও। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্য কোনো গেরুয়া ঝড়ের ফলে নয়, কিংবা এ জয়ের পেছনে একান্তই নড়বড়ে সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কেরামতিতেও নয়। এ জয় তৃণমূলের টানা ১৫ বছরের চরম দুর্বিষহ অপশাসনের বিরুদ্ধে অত্যাচরিত, নিষ্পেশিত ও ক্ষুব্ধ রাজ্যবাসীর নীরব ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ।...

স্বাধীনত্তোর বাংলায় এবার অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পট-পরিবর্তন। ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সম্পূর্ণ গৈরিকীকরণ ঘটে গেল। বিগত ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অপসারণ ঘটিয়ে এই প্রথম বাংলার মসনদ দখল করল ভারতীয় জনতা পার্টি। বহু ভোটের ব্যবধানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূলের অনেক হেভিওয়েট নেতাকে পরাজিত করে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এবারে নতুন সরকার গড়ার পথে। বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার শপথ গ্রহণের দিন হিসেবে বেছে নিলেন ২৫ বৈশাখ, যে তারিখটির সঙ্গে বাঙালির আবেগ মিলেমিশে আছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মতিথিতে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান স্মরণীয় হয়ে রইল। স্থান হিসেবেও তারা বেছে নিলেন কলকাতার ঐতিহ্যশালী ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে, যেখানে এর আগে কখনো এ অনুষ্ঠান হয়নি। ব্রিগেডের স্থান মাহাত্ম্য সম্পর্কে কলকাতা তথা বিশ্বের জনগণ ওয়াকিবহাল। এই সেই জায়গা, যেখানে জওহরলাল নেহরু থেকে শুরু করে ভারত ও বিশ্বের তাবড় তাবড় রাষ্ট্রনেতার পায়ের ধুলো পড়েছে। এই সেই পুণ্যভূমি, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান তার ঐতিহাসিক জনসভা করেছেন এবং এখানেই স্বয়ং ইন্দিরা গান্ধী তাকে সংবর্ধনা জানিয়েছেন। পরবর্তীকালেও বহু গুরুত্বপূর্ণ জনসভা হয়েছে এই ব্রিগেডে।
রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ উপলক্ষে কলকাতার এ হেন ব্রিগেড ময়দানে বসল চাঁদের হাট। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেখানে মধ্যমণি হয়ে রইলেন। সেই সঙ্গে উপস্থিত রইলেন বিজেপি ও এনডিএ-শাসিত অন্তত ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী। এমন বড় মঞ্চে ছোট মন্ত্রিসভা নিয়ে শপথ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর মোদির রাজ্যবাসীকে প্রণাম, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উত্তরীয় খুলে শুভেন্দুকে পরিয়ে দেওয়া, নিহত দলীয় কর্মীদের স্মরণ-এমন নানা টুকরো ছবি উঠে এল শপথ-মঞ্চে। রাজ্যের বিভিন্ন লোকনৃত্য, লোকশিল্প, স্থাপত্যের প্রতিরূপ দিয়ে সাজানো মঞ্চে রইল বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। ছিলেন অমিত শাহ, রাজনাথ সিংহ, নিতিন গড়কড়ীসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বহু সদস্য। ছিলেন যোগী আদিত্যনাথ, হিমন্তবিশ্ব শর্মা, মানিক সাহা, চন্দ্রবাবু নায়ডুর মতো বিজেপি, এনডিএ-শাসিত নানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চিত্র হয়ে রইল বঙ্গবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আভূমি প্রণাম, যা ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সমাজমাধ্যমে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবির নির্দেশ অনুযায়ী, মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালা প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু এবং তার পর একে একে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পালসহ পাঁচজনকে শপথবাক্য পাঠ করানোর জন্য ডেকে নেন। শপথ নিয়েই শুভেন্দু প্রধানমন্ত্রীর কাছে গেলে তাকে কাছে টেনে নেন মোদি। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান থেকেই কার্যত বুঝিয়ে দেওয়া হলো, রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন অংশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে গঠিত হবে মন্ত্রিসভা।
বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের ক্যাবিনেটে ঠাঁই পাচ্ছেন কারা, তা নিয়ে শপথগ্রহণের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত জল্পনা চলছিল। শেষমেশ মতুয়া, রাজবংশী, আদিবাসী, মহিলা-মুখের সমীকরণে পাঁচজন মন্ত্রীকে নিয়ে ব্রিগেড ময়দানে ৯ মে শপথ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা কলেবরে বৃদ্ধি পাবে। তবে প্রাথমিকভাবে যে পাঁচজন মন্ত্রী এ দিন শপথ নিয়েছেন, তা নির্দিষ্ট সমীকরণকে মাথায় রেখেই ঠিক করা হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রের খবর। এই পাঁচ মন্ত্রীরও দপ্তর বণ্টন এদিন হয়নি। সেটা আগামী সপ্তাহের গোড়াতেই হতে পারে। রাজ্যের মতুয়া বলয়, রাজবংশী প্রভাবিত এলাকা, আদিবাসী প্রভাবিত এলাকায় গেরুয়া ঝড়ে জোড়াফুল উড়ে গেছে। অশোক কীর্তনিয়া উত্তর চব্বিশ পরগনার মতুয়া বলয়ের। পরিচিত মুখ। উত্তরবঙ্গে রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধি নিশীথ প্রামাণিক। ক্ষুদিরাম টুডু রাঢ়বঙ্গের আদিবাসী মুখ। এই তিনজন শনিবার মন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর পরই এই পাঁচজনের মধ্যে সব থেকে হেভিওয়েট মুখ হলেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপের আমলেই ২০২১-এ পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া শিবির বিধানসভায় ৭৭-এ পৌঁছে প্রধান বিরোধী দল হয়। তিন দশকের বেশি সময় সংঘ পরিবারের প্রচারক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে কাজ করেছেন দিলীপ। বিজেপির একাধিক নেতার পর্যবেক্ষণ, শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন পাঁচজন মন্ত্রীর মধ্যে দিলীপকে রেখে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, এ সরকারের সূচনা থেকেই সংঘের প্রভাব থাকবে। দিলীপ ছাড়াও সংঘের আরও কয়েকজন পোড়খাওয়া মুখ শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন। বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ শাখা সংগঠন মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাই শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় প্রথম মহিলা মুখ হিসেবে অগ্নিমিত্রাকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে বিজেপির বেশ কয়েকজন জয়ী প্রার্থীর পর্যবেক্ষণ। ২০১৯-এ রাজ্যে বিজেপির উত্থান হওয়ার পর থেকেই উত্তরবঙ্গ গেরুয়া শিবিরের শক্ত ঘাঁটি। নিশীথ ছাড়াও উত্তরবঙ্গ থেকে আরও মুখ শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় আসবেন বলে বিজেপি নেতাদের একাংশের বক্তব্য। বিজেপি প্রতিষ্ঠার পরে এই প্রথম কলকাতায় গেরুয়া শিবির শুধু খাতা খোলেনি, ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে। কলকাতা থেকেও একাধিক মুখ মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে চলেছেন বলে বিজেপি সূত্রের খবর।
প্রশ্ন হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট এত কমে যাওয়ার কারণ কী? এর প্রধান কারণ হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভেবেছিলেন শুধু তোষণের রাজনীতির ওপর নির্ভর করে নির্বাচনি রাজনীতি পেরিয়ে যাবেন। এর পাশাপাশি খয়রাতি সাহায্য প্রকল্প অর্থাৎ কন্যাশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবশ্রী তাকে জিতিয়ে দেবে বলেও তারা ষোলোআনার ওপর আঠারো আনা নিশ্চিন্তে বসেছিলেন। কিন্তু বাংলার নারী সমাজ মমতাকে ভোট দেয়নি। তাদের কাছে চাকরি চুরি, চাল চুরি, সিন্ডিকেট রাজ, নারী ধর্ষণ ইত্যাদি অনেক বড় ভূমিকা পালন করেছে। মহিলাদের সামনে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছিল আরজি কর হাসপাতালে অভয়ার নির্যাতন ও খুনের ঘটনা। যেভাবে হাসপাতালের ভেতর একজন চিকিৎসককে ধর্ষিতা ও খুন হতে হয়েছিল, তাতে গোটা রাজ্যে ক্রোধের আগুন ধিকিধিকি করে জ্বলছিল। সেই ক্রোধ এবার আগুনের হলকা হয়ে ব্যালট বক্সে ছড়িয়ে পড়েছে। বামেরা অভয়ার নির্যাতনের বিচার চেয়ে পথে নামলেও সাধারণ মানুষ মনে করেছে, নারী ধর্ষক এ সরকারকে হটাতে বিজেপিতেই ভরসা রাখতে হবে। নির্যাতিতার মায়ের হাতেই বিচার বা জাস্টিস তুলে দিতে হবে। এবারে লক্ষ্য করার বিষয় হলো নতুন সরকার আদৌ নির্যাতিতার বিচার দিতে পারে কি না।
নির্বাচনি ফলাফল থেকে দেখা যাচ্ছে ধরাশায়ী হয়েছেন তৃণমূলের একাধিক দাপুটে মন্ত্রী অথবা নেতা। যাদের মধ্যে আছেন শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু, সুজিত বসু, মলয় ঘটক, অতীন ঘোষ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, উদয়ন গুহ, অখিল গিরি, দেবাশিস কুমার, মানস ভূঁইয়া প্রমুখ। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে তো জিতেছেনই, তার অপর কেন্দ্র এবার কার নির্বাচনে সব থেকে হটবেড ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দিয়েছেন। রাজ্যের ২৩টা জেলার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস শূন্যে পরিণত হয়েছে ১০টি জেলায়। বাকি ১৩টির মধ্যে ১০টিতে তাদের আসন সংখ্যা গতবারের চেয়ে অর্ধেক কমে গেছে। কোথাও বা আরও কম। বাঁকুড়ার ১২টির মধ্যে টিএমসি জিতেছে মাত্র একটিতে। তৃণমূলের আসন শূন্য হওয়া জেলাগুলো হলো কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, দক্ষিণ দিনাজপুর, পূর্ব মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান। ব্যতিক্রম একমাত্র উত্তর দিনাজপুর। অন্যদিকে বামেদের জোটসঙ্গী নওশাদ সিদ্দিকির দল আইএসএফ আশানুরূপ ভালো ফল করতে পারেনি। ভাঙড়ে নওশাদ জিতছেন। ধারনা ছিল, ২৫টা আসনে লড়ে তাঁরা অন্তত গোটা ১৫টি আসনে জিতবেন। আর এবারে বামেদের সঙ্গে জোটে না যাওয়া কংগ্রেস সবকটি আসনে প্রার্থী দিয়েও ঘরে তুলতে পেরেছে দুটি আসন ফারাক্কা এবং রানিনগরে। দলের পরাজিতের তালিকায় আছেন খোদ অধীর চৌধুরী, বর্তমান রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, মনোজ চক্রবর্তী প্রমুখ। এখন এটাই দেখার যে, রাজ্যে বিজেপির নতুন সরকার শপথ নেওয়ার অব্যবহিত পরে, কতজন নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক পদ্ম শিবিরে যোগ দেন।
রাজ্য ভোটের এ ফলাফলে আনন্দ উৎসবের ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়েছে সুদূর দিল্লিতেও। দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঝালমুড়িসহযোগে বিজয় উৎসব উদ্যাপন করেন। বিজেপির সব কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এ ব্যাপারে একমত যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্য কোনো গেরুয়া ঝড়ের ফলে নয়, কিংবা এ জয়ের পেছনে একান্তই নড়বড়ে সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির কেরামতিতেও নয়। এ জয় তৃণমূলের টানা ১৫ বছরের চরম দুর্বিষহ অপশাসনের বিরুদ্ধে অত্যাচরিত, নিষ্পেশিত ও ক্ষুব্ধ রাজ্যবাসীর নীরব ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। যা তারা প্রকাশ্যে বুঝতে দেননি ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় পর্বের ভোট শেষের পরেও। কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের এটাও উপলব্ধি, দীর্ঘদিনের চেষ্টায় বাংলার মসনদ দখল করার পর এবার এ দখলকে দীর্ঘকালীন মেয়াদে পরিণত করার জন্য নিরন্তর চেষ্টা করতে হবে।
ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখন লোকভবনে যাবেন। কখন মুখ্যমন্ত্রিত্বে ইস্তফা দেবেন? কারণ, সেটাই রীতি। মমতার আগের ক্ষমতাচ্যুত মুখ্যমন্ত্রীরা তেমনই করে এসেছেন। কিন্তু এখানেও ছিল এক অভাবনীয় চমক। মমতা সরাসরি জানিয়ে দেন, তিনি ইস্তফা দেবেন না। কারণ, তিনি হারেননি। তাই লোকভবনে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। মমতা বলেছেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’ প্রশ্ন উঠেছিল, মমতা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা না দেন, তাহলে কী হবে? এমন পরিস্থিতির কথা নির্দিষ্ট উল্লেখ করে সংবিধানে কিছু বলা নেই। কারণ, কোনো মুখ্যমন্ত্রী ভোটে পরাস্ত হয়েও যে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেবেন না, এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে বলে কেউ মনে করেননি। ভোটে হেরে যাওয়ার পরেও বিদায়ি মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা না দেওয়ার নজির দেশে নেই। ফলে মমতা শেষ পর্যন্ত ইস্তফা না দিয়ে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন নজির তৈরি করলেন। কলকাতা হাই কোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী সময়ে অনেক ক্ষেত্রে বিদায়ি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘তদারকি’ (কেয়ারটেকার) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যপাল কাজ চালানোর অনুরোধ করেন। তেমন কেউ না হলে তিনি নিজে এক-দুই দিন তদারকি করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করারও সংস্থান রয়েছে। কিন্তু সাধারণত এত কম সময়ের জন্য ‘সংকট’ না হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা নাও হতে পারে। কিন্তু মমতা ইস্তফা না দিলে কোনো সংকট তৈরি হওয়ার অবকাশ ছিল না। কারণ, বিধানসভার মেয়াদ শেষের সঙ্গে সঙ্গেই তার মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদও শেষ হয়েছে। তবে প্রচলিত ‘রীতি’ না মানায় তার ভাবমূর্তির ওপর কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তা সময় বলবে।
ব্রিগেডে শপথ নিল নতুন সরকার। এরপর সরকার গঠনের পালা। সেই সরকার কি নবান্ন থেকেই চলবে? নাকি আবার ফেরত আসবে চিরাচরিত রাইটার্স বিল্ডিংয়ে? এই প্রশ্নটাই নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। নির্বাচনের আগে থেকেই এ রাজ্যের বিজেপি নেতারা বলে আসছিলেন, সরকার গঠন করলে বিজেপি আবার সচিবালয় ফিরিয়ে আনবে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। আগামী দিনে যাই হোক না কেন, আপাতত বাংলার ভাগ্যকাশ নির্ধারিত হবে মোদি-অমিত শাহর ছত্রছায়ায় লালিত বাংলার লড়াকু বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে।
লেখক : ভারতের সিনিয়র সাংবাদিক

