শিক্ষা ও তরুণ প্রজন্ম বহুল উচ্চারিত এবং আলোচিত শব্দ। যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমান তরুণকে প্রজন্ম সক্রিয়, প্রতিবাদমুখর, উদ্যমী ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষায়িত করা যায়। তবে তাদের উচ্চশিক্ষা কতটা বাস্তবমুখী সে নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বরাবরই ব্যর্থ তাদের পাঠ্যক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে, একই সঙ্গে ব্যর্থ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। আমাদের শিক্ষাক্রম চালু হয়েছিল ব্রিটিশ সরকারের সাহায্যেই পূর্ববঙ্গ স্কুল টেক্সটবুক কমিটির তত্ত্বাবধানে, যা ছিল সম্পূর্ণ পরীক্ষানির্ভর। পরবর্তী সময়ে সংস্কার ও সংশোধনী নিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্তমানে যে পাঠ্যক্রম মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু রয়েছে তা সম্পূর্ণ পরীক্ষানির্ভর; এখানে কর্মমুখী ও বাস্তবমুখী শিক্ষাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এই কারণে দেশে শিক্ষিত বেকারত্বের হার বাড়ছে। সর্বশেষ প্রকাশিত শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা ৬২ লাখ ৫৭ হাজার। এর মধ্যে শিক্ষিত বেকার ৫৪ লাখ ১৭ হাজার। মোট বেকারের ৮৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ শিক্ষিত বেকার! এর মাঝে ২১ ভাগ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস। দক্ষতা বাড়ানোর পরিবর্তে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার সময় যে গৎবাঁধা বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান মুখস্থের প্রতিযোগিতা চলে তা অবশ্যই দৃষ্টিকটু। আমাদের এ ধরনের চর্চা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। শিক্ষাক্রম নিয়ে অনেকেই চিন্তাভাবনা করলেও সেটা চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। শিক্ষাক্রম বাস্তবসম্মত না হওয়ার পেছনে মূলত সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অভাব দায়ী, যেখানে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় ও প্রস্তুতির অভাব ছিল। বিশেষ করে, নতুন শিক্ষাক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব ও পরিবর্তনটি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে সঠিক পরামর্শের অভাব গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর মাঝে অন্যতম। তরুণ প্রজন্ম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচিত পরীক্ষামুখী না হয়ে বাস্তবমুখী ও কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া।
আব্দুল্লাহ আল নোমান
আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
[email protected]